মহাকাল সিংহাসনে: বিচারের বজ্রধ্বনি
এই মর্মস্পর্শী বর্ণনাটি সেই সময়ের প্রতিচ্ছবি যখন আমাদের রাজ্য এক ভয়াবহ নৈরাজ্যের মধ্যে দিয়ে চলেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থান – প্রতিটি ক্ষেত্র চরম বিশৃঙ্খলার শিকার। নজিরবিহীন দুর্নীতি ও লুটের করাল গ্রাসে জর্জরিত রাজ্যের সাধারণ মানুষ। বিচারহীনতার এই অন্ধকারে, যেখানে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিল হয়, যেখানে প্রতিদিন নারী ধর্ষিতা হয়ে প্রাণ হারায়, সেখানে এই লেখাটি এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে।
২০১২ সাল থেকে ঘটে যাওয়া পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ, আমোদপুরের অসহায় বিধবাকে ধর্ষণ, শিক্ষক শিল্প বরুণ বিশ্বাসের খুন, কামদুনি, কাটোয়া, কাকদ্বীপ সহ অসংখ্য নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলি রাজ্যের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। শাসক দলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের অবাধ বিচরণভূমি হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। সর্বশেষ ও সবথেকে মর্মান্তিক ঘটনাটি হলো ২০২৪ সালের ৯ই আগস্ট আর জি কর হাসপাতালে তরুণী পিজিটির গণধর্ষণ ও হত্যা। এই ঘটনা কেবল রাজ্য নয়, দেশ ও বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এটি নিছকই একটি অপরাধ নয়, এটি একটি “প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা”, যেখানে রাষ্ট্র ও তার ব্যবস্থা সরাসরি জড়িত।
এই অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের গর্জন ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ বা ‘৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সঙ্গে তুলনীয়। এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর থেকেই জন্ম নিয়েছে অভয়া মঞ্চ, যার প্রধান লক্ষ্য তিনটি: অভয়ার ন্যায়বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নারী ও প্রান্তিক লিঙ্গ-যৌনতার মানুষের স্বাধীনতা, অধিকার ও সুরক্ষা, এবং রাজ্যকে ভয়ের রাজনীতিমুক্ত করা। এই লক্ষ্যগুলিকে সামনে রেখে, সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে অভয়া মঞ্চ এগিয়ে চলেছে।
প্রাথমিক স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন এখন ধারাবাহিক সংগঠিত শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আগামী ৯ই আগস্ট, অভয়া হত্যার বর্ষপূর্তিতে অভয়া মঞ্চের আহ্বানে পালিত হবে ঐতিহাসিক “কালীঘাট চলো” কর্মসূচি। হাজরা মোড় থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশ্যে এই পদযাত্রা, বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার জন্য। সেদিন সকালে গ্রামে ও শহরে পালিত হবে ‘রাখী বন্ধন’ ও ১৪ই আগস্ট ‘রাত দখল’ কর্মসূচির মাধ্যমে আবারও ন্যায়বিচারের দাবিতে গর্জে উঠবে শহর ও গ্রাম।
এই প্রতিবাদী মঞ্চের মূল দাবিগুলি হলো:
১. ধর্ষক, দুষ্কৃতী ও খুনীদের মদতদাতা শাসক বাংলা ছাড়ো।
২. ‘সেটিং তত্ত্ব’ বাতিল করে সিবিআই অবিলম্বে ন্যায্য বিচার করো। অভয়া’র মূল হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে সিবিআই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
৩. অবিলম্বে রাজ্যজুড়ে ভয়মুক্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে হবে।
৪. দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের বাইরে নয়, জেলে রাখতে হবে।
তাই, লক্ষ কণ্ঠে একই স্লোগান – “৯ই আগস্ট হাজরা মোড় বিকেল ৪টেয় – চলো কালীঘাট!”
Credits: Song Ar kobe? @Official_ArijitSingh









