একটা জিনিস পরিষ্কার, মানুষ আর যাইহোক দিনের পর দিন ঔদ্ধত্য সহ্য করে না। লাগাতার চুরি, দুর্নীতি,যা ইচ্ছে তাই করে যাওয়া, বস্তুতঃ মমতা সরকারের expiry date পেরিয়ে গেছে অনেক দিন। ‘অভয়ার হত্যাকাণ্ডে’র বিচার স্রেফ হতে দিল’ না, কারণ তিনি চাননি। এর আগে কামদুনি হত্যাকাণ্ডেও বিশেষ কারুর শান্তি হয়নি, কারণ তিনি চাননি। শিক্ষক নিয়োগে চরম দুর্নীতির কোনো সুরাহা হলো না, কারণ তিনি চাননি। এলাকায় এলাকায় তৃণমূলী নেতাদের লুঠপাটে কখনো কোনো বাধা আসেনি, কারণ তিনি চাননি।
SIR এ মানুষের চরম হয়রানি, তাতে কি তার বা তার বশংবদদের কোনো হাত ছিল না? শুধুই নির্বাচন কমিশন দায়ী? সারা ভারতে কোথাও কি লক্ষ লক্ষ মানুষকে এরকম logical discrepancy এর ফাঁদে আটকে পড়তে হয়েছে? এতে তার কোনো অবদান নেই, এ তো সম্ভবই নয়। আসলে ভেবেছিলেন, উল্টো চালে নির্বাচন কমিশনকে উড়িয়ে দেবেন। বোধহয় বুঝতে ভুল হয়ে গিয়েছিল’ শেষের সময় ঘনিয়ে এসেছে, আর মানুষের সহ্যের সীমারেখা অনেক দিন আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে।
হ্যাঁ, এটা ঠিক যাদের অবলম্বন করে এদের হঠানো হয়েছে, তাদের গণতান্ত্রিক ট্র্যাক রেকর্ড মোটেই উৎসাহজনক নয়। তাছাড়া, এই তৃণমূল সরকারের নানা ঋণাত্মক কাজকে এতোদিন তো তারাই প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ ভাবে প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে। তো কী করা যাবে? মানুষ যাকে দিয়ে এদের হঠানো সম্ভব মনে করেছে, তাদেরই বিজয়ী করেছে। উদ্দেশ্য একটাই, এই দুর্বৃত্তরাজকে খতম করা। কোনো ঘোরতর স্বৈরতান্ত্রিক শক্তিকে মানুষ যখন সরাতে চায়, তখন তা করে সর্বশক্তি দিয়ে। কোনো রকম দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছাড়া, without any ambiguity..
মমতার সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর নিশ্চয়ই তুলনা চলে না, কিন্তু ‘৭৭ এও দেখেছিলাম অন্তত পুরো উত্তর ভারতে ধুয়ে সাফ হয়ে গিয়েছিল ইন্দিরা কংগ্রেসের প্রবল দম্ভ।
সত্যি করে বলতে গেলে মানুষ অনেক সময়েই অনেক বেশি পরিণত বোধবুদ্ধির পরিচয় দেয় অনেক মহাপণ্ডিত জ্ঞানীগুণীর চেয়ে। কারণ,জ্ঞানীগুণীদের থেকে জীবনের সরাসরি অভিজ্ঞতায় তারা অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এটা বুঝতেও তাদের কোনো অসুবিধা হয়নি যে ব্যাপক হুঙ্কার সত্ত্বেও আসলে তৃণমূল পার্টির স়ংগঠন ভেতরে ভেতরে ফোঁপরা হয়ে গিয়েছিল’। নাহলে, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী কিছুটা ভূমিকা নিলো, আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে ভোট হয়ে গেলো, এটা কি একটু বেশি বেশিই হয়ে গেলো না?!
মানুষ কিন্তু সঠিক ভাবেই জানতো শাসক দলকে ঠিক কখন আর কীভাবে চূড়ান্ত আঘাতটা করতে পারবে। এই নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সত্যিই বোধহয় কোনো মানে হয় না।
বরং আজকের দিনটা তো অন্ততঃ উদযাপন করা যাক, এক চরম দুর্নীতিগ্রস্ত অসম্ভব স্বৈরাচারী শাসকের পতনের জন্য। আগামীকাল থেকে নাহয় আবার ভাবা শুরু হবে যাদের আনা হলো, তারাই বা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে সামনের দিনের জন্য। মানুষের জীবন তো একটা লড়াই থেকে আর একটা লড়াইয়ের বিবর্তনের কাহিনী। এমন কি কোনো দিন আসবে বা আসা সম্ভব যে মানুষ নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করতে পারবে কোনো রকম সংগ্রাম বা লড়াই ব্যতিরেকেই?? কী মনে হয়??
সত্যিই আজ খুব বেশি করে মনে পড়ছে আমার অসাধারণ বন্ধু ডাঃ সোমেন সাহার কথা। বারবার বলতো, ‘হ্যাঁরে এ কবে যাবে বলতো?’ আমি হাল্কা ভাবে বলতাম, ‘তোর আমার জীবদ্দশায় নয়’। সোমেন চলে গেছে বেশ কিছু দিন হয়ে গেলো। আজ যদি সোমেন বেঁচে থাকতো, কত যে খুশি হতো ভাবা যায় না!! আজকের দিনটা নাহয় সোমেনের মতো করেই ভাবি…….












