আগস্ট ২৩, ২০২৫
গতকাল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা মিলে এক ইন্টার্নকে ব্যাপক মারধরের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে, কর্তৃপক্ষ কার্যত অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না জানান। ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদে প্রিন্সিপাল রুমের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রমাণ মেলে যে, সত্যিই মারধরের ঘটনা ঘটেছে এবং তা দেখিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি আরো জোরালো হয়ে ওঠে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্লজ্জতা আরো নগ্ন হয়ে ওঠে যখন অভিযুক্তদের সাথে ‘পরামর্শ’ করে যাকে মারা হয়েছে তার নামেই পাল্টা মারধর, যৌন হেনস্থার চেষ্টার অভিযোগ করানো হয়।
প্রিন্সিপালের সামনেই প্রতিবাদরত ফার্স্ট ইয়ারে ছাত্রছাত্রীদের রীতিমতো হুমকি দিয়ে, গায়ে লাথি মেরে ধাক্কা মেরে বেরিয়ে যায় অভিযুক্ত শাসক দলের স্নেহধন্য দামাল ছেলে-মেয়েরা।
তারপরেও অবস্থান বিক্ষোভ চলতে থাকে, জরুরী ভিত্তিতে কলেজ কাউন্সিলের মিটিং ডাকা হয়। সেখানে প্রিন্সিপাল বাদে বাকি প্রায় সমস্ত কাউন্সিল সদস্যরা স্বীকার করে নেন, কর্তৃপক্ষ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে, আগের বারের মতই। (তিন মাস আগের ঘটনা নিশ্চয়ই মনে আছে, যেখানে অভয়ার স্মৃতিতে আয়োজিত রক্তদান শিবির ভন্ডুল করে দিয়েছিল শাসক দলের এই গুন্ডারা, আয়োজনকারীদের মধ্যে যারা মহিলা মেডিকেল পড়ুয়া ছিল তাদের অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয়, শারীরিক নিগ্রহ করা হয় – কিন্তু শেষ অবধি তার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কর্তৃপক্ষের তরফে, কারণ তখন আবার একই রকম পরিকল্পনা করে পাল্টা মিথ্যে ‘র্যাগিং’-এর অভিযোগ করে সমস্ত বিষয়টাকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়।)
কিন্তু এইবার ছাত্রছাত্রীরা কোনোভাবেই ভুলতে রাজি নয়। তারা রুখে দাঁড়িয়েছে। মালদা মেডিকেল কলেজের গণতন্ত্রপ্রিয় ছাত্রছাত্রীরা থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হোক – এই দাবি নিয়ে তারা লড়াই এর ময়দানে আছে।
আমরা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট এর পক্ষ থেকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লড়াকু গণতন্ত্রপ্রিয় ছাত্রছাত্রীদের কুর্নিশ জানাই এবং সংহতি জানাই। তাদের ন্যায্য আন্দোলনের পাশে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
#EndThreatCulture
#SaveDemocracy
#MaldaMedicalCollege
#WBJDF
আগস্ট ২৪, ২০২৫
মালদা মেডিক্যাল কলেজের বুকে কর্তব্যরত কো-ইন্টার্নের সাথে দুর্ব্যবহার ও বন্ধ ঘরে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করার জন্য হামলাকারী জুনিয়র চিকিৎসকের বিচারের দাবিতে চলা দু দিন ব্যাপী আন্দোলনে বহু টানা পরনের পর উদাসীন কলেজ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে ও গতকাল অর্থ্যাৎ ২৩ তারিখ একটি আপাতকালীন কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক ডাকে।
কলেজ কাউন্সিলের সমস্ত অধ্যাপক ঘটনার নিন্দা জানায় এবং আন্দোলনকারীদের ও আক্রান্ত জুনিয়র ডাক্তার মহঃ মিজানুর রহমানকে সঠিক তদন্ত আশ্বাস দেয়।
কলেজ কাউন্সিলের বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা যখন ‘primary administrative report ‘ প্রকাশের দাবি তোলে, পুনরায় কলেজের অধ্যক্ষ সেটি প্রকাশে অসম্মতি জানায়।
তারপর ছাত্র প্রতিনিধি দলের সাথে কলেজ প্রশাসন দীর্ঘ বাক্য ব্যয়ের পর অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে অভিযুক্ত হামলাকারী চিকিৎসকের নামে শোকজ নোটিশ প্রকাশ করতে বাধ্য হয় কলেজ প্রশাসন।
কলেজ প্রশাসনের কাছে তোলা দাবি গুলো (স্বচ্ছতার সঙ্গে নিরপেক্ষ ভঙ্গিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে, তদন্তের রিপোর্ট যত শীঘ্র সম্ভব প্রকাশ করতে হবে, দোষীকে আইনী মতে শান্তি দিতে হবে, পুনরায় এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেটি কলেজ প্রশাসনকে আশ্বস্ত করতে হবে) না মানা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার ডাক দিয়েছে আন্দোলনরত চিকিৎসক পড়ুয়ারা।।
#truth
#endthreatculture
#maldamedicalcollege
#savedemocracy











থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই। সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে উঠুক প্রতিটি কলেজে।