৮ এবং ৯ মার্চ ২০২৬ অভয়া মঞ্চের ৮০ জনের প্রতিনিধি দলের দিল্লি অভিযান শেষ হল দুই দিনের সফল প্রতিবাদী কর্মসূচি দিয়ে। ৮ তারিখ যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী সমাবেশের পর ৯ তারিখের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির কাছে দেড় লক্ষ গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারক লিপি জমা দিলেন মঞ্চের অন্যতম আহবায়ক ডক্টর তমোনাশ চৌধুরী। গনগনে সূর্যকে মাথায় নিয়ে অভয়া মঞ্চের সদস্যরা তিন চার ঘণ্টা অপেক্ষা করলেন সুপ্রিম কোর্টের লনে।
সুপ্রিম কোর্ট সুও মোটো করে এই মামলা নিয়ে বিন্দুমাত্র অগ্রগতি ঘটায় নি। আন্দোলনের চাপে হাই কোর্টে মামলা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি অবধি ৩৬ বার এই মামলা তালিকাভূক্ত হলেও শুনানি হয়নি। সি বি আই এর দীর্ঘসূত্রিতা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া ঠিক রাস্তায় পরিচালনা না করার জন্য এই মামলার ভবিষ্যৎ ক্রমেই অনিশ্চিৎ হয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের কাছেই অভিযোগ জানাল অভয়া মঞ্চ, কারণ বিচার ব্যবস্থার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্ট। বিচারের প্রহসনকে জনমানসে স্পষ্ট করে দেবার জন্য এই প্রতীকী কর্মসুচির গুরুত্ব অপরিসীম। বিচারপতি যদি এই দেড় লক্ষ মানুষের যন্ত্রণাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেন তাহলে বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা কমবে। পাশাপাশি এই বিপুল সংখ্যক মানুষের সই সংগ্রহ করতে গিয়ে অভয়া মঞ্চের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে অসংখ্য মানুষ এবং পরিবারের সঙ্গে। অভয়ার ন্যায় বিচারের দাবি পৌঁছে গেছে বাংলার ঘরে ঘরে।
সুপ্রিম কোর্টের পর মঞ্চের প্রতিনিধিদের গন্তব্য ছিল দিল্লির সি বি আই দফতর। অভয়ামঞ্চের তিন আহবায়ক – ডক্টর পুণ্যব্রত গুণ, ডক্টর তমোনাশ চৌধুরী, মণীষা আদকের সঙ্গে ছিলেন আরো দুজন সদস্য – নারায়ণ দাস বসু এবং গোপা মুখার্জি। সি বি আই এর উচ্চ পদস্থ আধিকারিক পঙ্কজ শর্মা এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করেন। এই আধিকারিক দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছিলেন। মঞ্চের প্রতিনিধিরা এই মামলায় উপেক্ষিত অমীমাংসিত প্রশ্নগুলি নিয়ে আলোচনা দাবি করেন। পঙ্কজ শর্মার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন প্রতিনিধিরা। আত্মহত্যার ভুল খবর, ১৪ রাতের হাসপতালে হামলায় তথ্য লোপাট, ঘটনার দিন সকাল থেকে উত্তরবঙ্গ লবি এবং শাসক ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মানুষজনের উপস্থিতি, দ্বিতীয় বার পোস্ট মর্টেম এর দাবিকে অগ্রাহ্য করে তাড়াতাড়ি দেহ সৎকারে পাঠিয়ে, অপরাধের চিহ্নহীন সেমিনার রুম – এই সব প্রশ্নগুলিকে শাণিত ভাবে তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা। সি বি আই আধিকারিক দৃশ্যতই অসুবিধায় পড়েন বহু প্রশ্নের উত্তর দিতে। যে তত্ত্বটা সি বি আই তৈরি করেছে প্রশাসনকে বাঁচানোর জন্য, সেই তত্ত্বের দুর্বল পুনরাবৃত্তি করেন যে তত্ত্ব অনুযায়ী সন্দীপ ঘোষ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও খুনের সঙ্গে যোগের কোন প্রমাণ নেই। প্রাপ্ত তথ্য এবং প্রমাণ অনুযায়ী সঞ্জয় রাইই একমাত্র খুনি। প্রতিনিধিদল সি বি আই আধিকারিক-এর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেয় কিছুদিনের মধ্যেই আরো নানা প্রশ্ন নিয়ে আসবে অভয়া মঞ্চ, সি বি আই-কে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। অভয়া মঞ্চের দিল্লিবাসের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই লড়াই চলে।
গণসমাবেশ এর পাশাপাশি বিচার ও তদন্তের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্ট এবং সি বি আই দফতরে মঞ্চের অভিযান বিচারের প্রহসন এবং
কেন্দ্র – রাজ্য সেটিং তত্ত্বকে স্পষ্ট করে দেয়। বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করে অপরাধের উৎস খোঁজার চেষ্টার বদলে কেন্দ্রীয় সংস্থা সি বি আই খুনের সঙ্গে প্রশাসনের যোগ অস্বীকার করতে অনেক বেশি তৎপর।
অপরাধীকে আড়াল করা ঔপনিবেশিক বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রমাণ লোপাটে রাজ্য সরকারের তৎপরতা। এই প্রহসনের আখ্যান আরো বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একুশে আইনকে বদলাতে পারে শক্তিশালী গণ আন্দোলন। বিচারের অভিমুখকে পরিবর্তনের লক্ষ্যে অভয়ার রক্তঋণ শোধের এই লড়াই চলছে চলবে।











বিচার ছিনিয়ে নেওয়ার অনন্য প্রয়াস । থেমে যাওয়া মানে ওই সাজানো তত্ত্বকে concede করে যাওয়া । আন্দোলন তীব্রতর হোক। এই নাছোড়বান্দা আন্দোলন আরো অনেক অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার পথ দেখাক । বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক সার্বিক অর্থেই । ✊🏼