নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এএনএম (গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মী) ফোন করে জানাচ্ছেন, স্যার এক মা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) গ্রামীণ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছেন কপার টি (জন্ম নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি) খোলার অনুরোধ নিয়ে। অনুরোধটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু খোলার সময় আমার কর্মী সেই এএনএম টের পান যে সেই মহিলাকে মারধোর করা হয়েছে। মেরেছে তার স্বামী। কারণ ওই মহিলা তার স্বামীর অজান্তে, তার সম্মতি ব্যতিরেকে ওই কপার টি নামের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বেছে নিয়ে ছিলেন।।
আমার কর্মী ওই এএনএম ওই জঘন্য ঘটনাটি আমাকে জানান কারণ তাঁর ধারণায় হাজার দশেক কর্মচারীর দণ্ডমুন্ডের কর্তা হিসেবে আমার অনেক ক্ষমতা, ঐ মায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের কিছু প্রতিকার করার করার ক্ষমতা আমার বোধহয় আছে। তাই ওই ফোন।
আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম যে তিনি লিখিত অভিযোগ জানাবেন কিনা। তিনি জানালেন যে ওই এলাকায় তাকে কাজ করে যেতে হবে, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার খাতিরে তিনি লিখিত অভিযোগ জানাতে অপারগ এবং ওই মা ও লিখিত অভিযোগ জানাতে নিজের অক্ষমতা জানিয়েছেন।
তখন আমিও গভীর দুঃখ ও পরিতাপের সাথে ঐ কর্মীকে জানাতে বাধ্য হলাম যে আমার ক্ষমতা নিয়ে তার ধারণা ভুল। ওই মহিলা যে রাজ্যে বসবাস করেন তার প্রশাসনের মাথায় একজন মহিলা থাকলেও, দেশের রাষ্ট্রপ্রধান পদে একজন মহিলা থাকলেও এগুলো আসলে সব টোকেনিজম, প্রতীকী ব্যাপার শ্যাপার, দেশের অনেক মহিলার এখনো ক্ষমতা হয়নি যে তাঁরা তাঁদের শরীরটাকে নিজের সম্পত্তি মনে করবেন।
এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা না কী বহুল চর্চিত সে বিষয়ে আমি কিছু বলবো না, বলবেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত আমার তৃণমূল স্তরের সহকর্মীরা।
কয়েকদিন আগেই কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এর বীরত্বের কাহিনী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আবেগে আপ্লুত হয়েছিলাম। আজ ফোনটা পাওয়ার পর মনে হচ্ছে আরো অনেক পথ যেতে হবে।
নারী শক্তির অনেক পথ হাঁটা এখনো বাকি। হ্যাঁ, তথ্যের খাতিরে জানিয়ে রাখি অঙ্গে অঙ্গে স্বামীর মারে কালশিটে পরে যাওয়া ওই মহিলার সিঁথিতে এখনো জ্বলজ্বল করছে সিঁদুর।











