Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

আধুনিক সম্পর্কের নতুন পরিভাষা: Ghosting, Breadcrumbing, Dry Texting ও Textpectation

Screenshot_2026-10-28-00-26-40-13_680d03679600f7af0b4c700c6b270fe7
Dr. Sukanti Bhattacharya

Dr. Sukanti Bhattacharya

Medical faculty, Researcher, Essayist
My Other Posts
  • October 28, 2026
  • 6:47 am
  • No Comments

আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগের ধরনকে আমূল বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের প্রেম, বন্ধুত্ব এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন অনেক কথাই হয় মোবাইল ফোনের পর্দায়—মেসেজ, চ্যাট, ইমোজি, ‘লাইক’ কিংবা ‘রিপ্লাই’-এর মাধ্যমে। ফলে মানুষের যোগাযোগের নতুন নতুন ধরন তৈরি হয়েছে, আবার তৈরি হয়েছে কিছু নতুন শব্দও।

এর মধ্যে Ghosting, Breadcrumbing, Dry Texting এবং Textpectation শব্দগুলি আজকের ডিজিটাল সম্পর্কের আচরণ ও মানসিকতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিককে বোঝায়। এগুলি নিছক আধুনিক ‘স্ল্যাং’ নয়; মানুষের প্রত্যাশা, উদ্বেগ, প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি এবং যোগাযোগের পরিবর্তিত সংস্কৃতির সঙ্গেও এগুলির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

Ghosting: হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া

Ghosting বলতে বোঝায় কোনও রকম ইঙ্গিত বা ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ কারও সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া।

কেউ হয়তো নিয়মিত কথা বলছিল, কয়েকবার দেখা হয়েছে, সম্পর্কও বেশ ভালোই এগোচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ আর মেসেজের উত্তর দিল না, ফোন ধরল না, সামাজিক মাধ্যমে আনফলো বা ব্লক করে দিল। অর্থাৎ, কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ যেন ‘ভূত’-এর মতো অদৃশ্য হয়ে গেল।

এটি কয়েকটি ভালো ডেটিং/একত্রে সময় কাটানোর পরেও ঘটতে পারে, কয়েক মাস ধরে কথা বলার পরেও ঘটতে পারে, এমনকি দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে।

এর অন্যতম কারণ হল সংঘাত বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছা। কাউকে সরাসরি বলা—“আমি আর এই সম্পর্কটি এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই না”—অনেকের কাছেই কঠিন। তাই মুখোমুখি প্রত্যাখ্যানের অস্বস্তি এড়াতে কেউ কেউ যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়াকেই সহজ পথ হিসেবে বেছে নেয়।

কিন্তু এর প্রভাব যাকে এভাবে ছেড়ে যাওয়া হয়, তার উপর যথেষ্ট গভীর হতে পারে। কোনও ব্যাখ্যা না থাকায় তার মনে প্রশ্ন জাগে—“আমি কী ভুল করলাম?”, “কেন এমন হল?”, “আমার মধ্যেই কি কোনও সমস্যা আছে?” এই অনিশ্চয়তা অনেক সময় আত্মমর্যাদাকে আঘাত করে এবং মানুষকে বারবার অতীতের কথোপকথন বিশ্লেষণ করতে বাধ্য করে। নিজেকেই গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে চলে। FOMO ( fear of missing out)-তে আক্রান্ত হয়। ক্রমশ সে গুমরোতে থাকে, ” প্রণয় তোমার মিছে নয়, মিছে নয়/ ভালোবাসি তাই মনে জাগে এত ভ য় !”

Breadcrumbing: আশার ছোট ছোট টুকরো ছুড়ে দেওয়া

Breadcrumbing হল এমন এক ধরনের আচরণ, যেখানে কেউ মাঝে মাঝে সামান্য আদুরে, রোমান্টিক বা আগ্রহ-জাগানো বার্তা পাঠিয়ে অন্য ব্যক্তিকে সম্পর্কের সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদী রাখে, কিন্তু বাস্তবে সম্পর্কটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও দৃঢ় উদ্যোগ নেয় না।

‘Breadcrumb’ অর্থ রাস্তায় ফেলে যাওয়া ছোট ছোট রুটির টুকরো বা বড়শিতে গাঁথা চাড় বা টোপ । এই আচরণেও যেন সেই ধরনেরই ছোট ছোট ‘আশার টুকরো’ ছুড়ে দেওয়া হয়।

যেমন—হঠাৎ একটি মজার মিম পাঠানো, গভীর রাতে একটি মেসেজ করা, “তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে” বলা, কিংবা মাঝেমধ্যে হালকা ফ্লার্ট করা। কিন্তু যখন দেখা করার বা সম্পর্ককে স্পষ্টভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা আসে, তখন কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে না।

এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। কেউ হয়তো নিজের অহং বা আত্মমর্যাদাকে তৃপ্ত করতে অন্যের আগ্রহ ধরে রাখতে চায়। কেউ হয়তো একই সঙ্গে একাধিক সম্ভাবনা খোলা রাখতে চায়। আবার কেউ হয়তো অন্য ব্যক্তিকে ভবিষ্যতের ‘বিকল্প’ হিসেবে রেখে দিতে চায়।

সমস্যা হল, এতে খুব কম পরিশ্রমেই অন্য ব্যক্তির আগ্রহ ও আবেগকে হ্যাঙ্ করে বা ধরে রাখা যায়। ফলে যে এই আচরণের শিকার হয়, তার মধ্যে তৈরি হয় আশা ও হতাশার এক পুনরাবৃত্ত চক্র। কখনও মনে হয় সম্পর্কটি এগোবে, আবার কিছুদিন পর মনে হয় কিছুই হচ্ছে না। এই দোলাচলে তার মধ্যে মানসিক বিসঙ্গতি দেখা দিতে পারে । হতে পারে delulu the solulu ( delution is the solution) ভাব : ” স্বপন যদি মধুর এমন হোক সে মিছে কল্পনা, জাগিও না আমায় জাগিও না “। কিংবা, delulu will be trululu ( delusions will come true) : ” আশায়েঁ খেলে দিল কি/অব মুস্কিল নেহি কুছ ভি …” । অথবা,
‘এক নারী দো রূপ'(১৯৭১) সিনেমায় শত্রুঘ্নের লিপে রফির কণ্ঠে অনবদ্য গানটির মত বিলাপের মতো একান্তে স্ফুটে অস্ফুটে বেরিয়ে আসতে পারে, ” তীর-এ-নিগাহ্-এ-নাজ নিশানা ঢূন্ডেগা,
মুঝকো মেরে বাদ জমানা ঢূন্ডেগা ।”

Dry Texting: কথোপকথনে প্রাণ না থাকা

Dry texting বলতে বোঝায় এমনভাবে মেসেজের উত্তর দেওয়া, যেখানে উত্তর অত্যন্ত ছোট, দায়সারা এবং কথোপকথন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও চেষ্টা নেই।

যেমন—“lol”, “yeah”, “k”, “cool”—এই ধরনের এক-দুই শব্দের উত্তর। কোনও পাল্টা প্রশ্ন নেই, কোনও আগ্রহ নেই, কখনও কোনও ইমোজিও নেই।

অবশ্য সব সময় এর অর্থ যে মানুষটি আপনার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন, তা নয়। কেউ হয়তো কাজে ব্যস্ত, ক্লান্ত, অন্য কোনও কাজে মনোযোগী অথবা স্বভাবগতভাবেই বেশি কথা বলেন না।

কিন্তু অনেক সময় এটি কথোপকথন শেষ করার একটি পরোক্ষ পদ্ধতিও হতে পারে। সরাসরি “আমি আর কথা বলতে চাই না” না বলে ধীরে ধীরে কথার উষ্ণতা কমিয়ে দেওয়া হয়।

এর ফলে যিনি কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁর মনে হয় তিনি যেন একাই সম্পর্কটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। বারবার প্রশ্ন করা, নতুন বিষয় খোঁজা এবং অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে সামান্য আগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা করতে করতে একসময় মানসিক ক্লান্তি বা হতাশা তৈরি হতে পারে। প্রত্যাশা ভেঙে হতাশায়, তীব্র হতাশায় বৈরাগ্যভাবও আসতে পারে। ” যদি আর কারে ভালবাসো, আর কাছে নাহি আসো, তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন হয়, আমি যত দুখ পাই গো !”

Textpectation: একটি মেসেজের অপেক্ষার উদ্বেগ

Textpectation শব্দটি তৈরি হয়েছে ‘text’ এবং ‘expectation’—এই দুটি শব্দ থেকে। এর অর্থ হল কারও মেসেজের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে যে উদ্বেগ, উত্তেজনা, আনচানভাব বা অস্থিরতা তৈরি হয়।

কাউকে একটি মেসেজ পাঠান হল। তারপর বারবার ফোন দেখা চলছে —উত্তর এসেছে কি না। অনলাইন দেখাচ্ছে কি না। ‘Seen’ হয়েছে কি না। কখনও মনে হচ্ছে, এবার নিশ্চয়ই উত্তর আসবে; আবার কিছুক্ষণ পর উদ্বেগ বাড়ছে।

এই Textpectation-ই Ghosting, Breadcrumbing এবং Dry Texting-এর অভিজ্ঞতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

Ghosting-এর ক্ষেত্রে অপেক্ষা হতে পারে এমন একটি উত্তরের জন্য, যা হয়তো আর কখনও আসবে না।

Breadcrumbing-এর ক্ষেত্রে অনিশ্চিত অপেক্ষার পর হঠাৎ একটি ছোট মেসেজ এসে আবার আশার দোলা লাগে।

আর Dry Texting-এর ক্ষেত্রে হয়তো একটি উষ্ণ ও প্রাণবন্ত কথোপকথনের প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তার বদলে পাওয়া গেল শুধু—“k” বা “cool”। ফলে প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হল।

প্রযুক্তি কীভাবে এই অপেক্ষাকে আরও তীব্র করে?

আধুনিক মেসেজিং ব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্যও এই অপেক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন—‘typing…’ দেখা, ‘seen’ বা ‘read receipt’, notification এবং অনলাইনে থাকার সংকেত।

এগুলি আমাদের মনে একটি প্রশ্ন ক্রমাগত জিইয়ে রাখে—“এবার কি উত্তর আসবে?”

মনোবিজ্ঞানে জানা যায়, কোনও পুরস্কার পাওয়ার আগের প্রত্যাশা অনেক সময় পুরস্কার পাওয়ার মুহূর্তের চেয়েও শক্তিশালী প্রেরণা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যখন পুরস্কারটি অনিয়মিত বা অনিশ্চিত হয়, তখন মানুষ আরও বেশি করে সেটির প্রত্যাশা করতে থাকে।

এই কারণেই “উত্তর আসবে কি আসবে না”—এই অনিশ্চয়তা আমাদের বারবার ফোন পরীক্ষা করতে বাধ্য করতে পারে।

ডোপামিনের ‘ফাঁদ’

ডোপামিনকে অনেক সময় আনন্দের রাসায়নিক বলা হলেও এর ভূমিকা আসলে আরও বিস্তৃত। এটি প্রেরণা, প্রত্যাশা এবং পুরস্কার-অনুসন্ধানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।

ধরা যাক, কাউকে মেসেজ করা হয়েছে। কখন উত্তর দেবে, তা জানা নেই। কিছুক্ষণ পর ফোনে notification এল। মনে উত্তেজনা তৈরি হল—“হয়তো ওরই মেসেজ!”

এই ‘হয়তো’ বা ‘maybe’ অনুভূতিই অত্যন্ত শক্তিশালী হতে পারে।

যদি প্রতিবার মেসেজ পাঠালেই উত্তর পাওয়া যেত, তাহলে অপেক্ষার উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমে যেত। কিন্তু কখনও উত্তর আসে, কখনও আসে না—এই অনিশ্চিত পুরস্কারের ব্যবস্থা মানুষকে বারবার ফোন দেখতে এবং অপেক্ষা করতে উৎসাহিত করতে পারে।

Breadcrumbing-এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের একটি চক্র দেখা যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর হঠাৎ একটি ছোট্ট মেসেজ আসে। তাতে আবার আশার জন্ম হয়। ফলে মানুষ সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে না এসে পরবর্তী ‘breadcrumb’ বা হাতছানির অপেক্ষা করতে থাকে।

Ghosting, অপেক্ষা এবং Cortisol

অন্যদিকে, দীর্ঘ অপেক্ষা বা হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া আমাদের শরীরে stress response তৈরি করতে পারে।

কোনও সামাজিক সম্পর্কের আকস্মিক পরিবর্তনকে মস্তিষ্ক কখনও কখনও একটি সামাজিক হুমকি হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। এর সঙ্গে শরীরের stress response যুক্ত হয় এবং cortisol ও adrenaline-এর মতো হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে।

এই কারণেই প্রত্যাখ্যান বা বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতা শুধু ‘মনের ব্যাপার’ নয়— শারীরিক অনুভূতির সঙ্গে autonomic system-এর জটিল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। James Lange থেকে Schachter হয়ে Cannon Bard, ও পরবর্তীতে Arnold তত্ত্বগুলো তো তেমনভাবেই ব্যাখ্যা করেছে। সামাজিক প্রত্যাখ্যানের সময় মস্তিষ্কের কিছু অংশ সক্রিয় হয়, যেগুলি ব্যথা ও মানসিক কষ্টের প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গেও যুক্ত।

তাই কেউ যখন বলে, “Ghosting খুব কষ্ট দিয়েছে,” সেটিকে নিছক আবেগের অতিরঞ্জন বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। সামাজিক প্রত্যাখ্যান সত্যিই গভীর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

Breadcrumbing কেন আসক্তির মতো মনে হতে পারে?

Breadcrumbing-এর চক্রকে অনেক সময় slot machine-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়।

একটি slot machine যদি প্রতিবার টাকা দেয়, তাহলে মানুষ খুব দ্রুত তার প্রতি আগ্রহ হারাবে। কিন্তু কখন টাকা আসবে তা যদি অনিশ্চিত হয়, তাহলে মানুষ বারবার চেষ্টা করতে থাকে—“এইবার হয়তো পাব।” ঠিক যেমন ক্যাসিনো বা লটারির নেশা।

Breadcrumbing-এও কখনও প্রচুর মনোযোগ, কখনও সামান্য, আবার কখনও সম্পূর্ণ নীরবতা—এই অনিশ্চয়তা কাজ করে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন একটি ছোট্ট মেসেজ আসে, তখন হতাশা ও উদ্বেগের পর সাময়িক স্বস্তি তৈরি হয়। সেই স্বস্তিই মানুষকে আবার পরবর্তী মেসেজের অপেক্ষায় রাখে।

Dry Texting এবং মানসিক ক্লান্তি

Dry texting-এর ক্ষেত্রে সমস্যা কিছুটা ভিন্ন। এখানে অনিশ্চিত পুরস্কারের চেয়ে বড় বিষয় হল যোগাযোগের ভারসাম্যহীনতা।

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই অন্যের কথার ভঙ্গি, আবেগ ও আগ্রহের সঙ্গে নিজের যোগাযোগের ধরন মিলিয়ে নিতে চায়। আপনি যদি উৎসাহ নিয়ে দীর্ঘ মেসেজ লেখেন, আর বিপরীতে শুধু “k” বা “yeah” পান, তাহলে কথোপকথনে একটি অমিল তৈরি হয়।

এরপর আপনার মস্তিষ্ককে বুঝতে হয়—“সে কি ব্যস্ত?”, “সে কি বিরক্ত?”, “সে কি আগ্রহ হারিয়েছে?”, “আমি কি বেশি লিখছি?”, ” নিজেকে খেলো করে দিচ্ছি?”

এই অতিরিক্ত ব্যাখ্যা করার চেষ্টা ধীরে ধীরে interaction fatigue, অর্থাৎ যোগাযোগজনিত মানসিক ক্লান্তি তৈরি করতে পারে।

বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি

Ghosting, Breadcrumbing, Dry Texting এবং Textpectation-কে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যা হিসেবে দেখলে বিষয়টির একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। এগুলি বৃহত্তর সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনেরও প্রতিফলন।

ডেটিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে মানুষের সামনে সম্ভাব্য পরিচিতি ও সম্পর্কের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে অনেকেই একসঙ্গে একাধিক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এতে কখনও কখনও সম্পর্কের প্রতি গভীর মনোযোগের বদলে ‘বিকল্প খোলা রাখা’র প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, ডিজিটাল যোগাযোগ মানুষকে সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার অস্বস্তি থেকেও দূরে রাখে। কাউকে সামনে বসিয়ে প্রত্যাখ্যান করার চেয়ে মেসেজের উত্তর না দেওয়া অনেকের কাছে সহজ মনে হয়।

ফলে প্রযুক্তি শুধু যোগাযোগকে সহজ করেনি; যোগাযোগ না করাকেও সহজ করেছে।

শেষ কথা

আধুনিক ডিজিটাল সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়তো প্রযুক্তি নিজে নয়, বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের আচরণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা, কমিটমেন্টের অভাব এবং প্রত্যাশার অসামঞ্জস্য।

Ghosting আমাদের শেখায়—নীরবতাও একটি বার্তা, কিন্তু তা প্রায়ই অন্য ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

Breadcrumbing দেখায়—সামান্য মনোযোগ কখনও কখনও সম্পর্কের সত্যিকারের প্রতিশ্রুতির অলীক বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Dry texting মনে করিয়ে দেয়—যোগাযোগ শুধু শব্দের আদান-প্রদান নয়; আগ্রহ, মনোযোগ এবং পারস্পরিক অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা।

আর Textpectation দেখায়, একটি ছোট্ট মেসেজের অপেক্ষাও কীভাবে আমাদের মনকে উদ্বেগ, উদ্বলতা, হতাশা ও প্রত্যাশার এক জটিল চক্রে আটকে ফেলতে পারে।

তাই সুস্থ ডিজিটাল সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্ভবত খুব সাধারণ—স্পষ্টতা, সততা এবং পারস্পরিক সম্মান। কখনও কখনও একটি ছোট কিন্তু সৎ বাক্য—“আমি আর এই সম্পর্কটি এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই না”—দীর্ঘ নীরবতার চেয়ে অনেক বেশি মানবিক। একইরকমভাবে মোহময় প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত অপরের মনোবেদনার কারণ হতে পারে। যার ফল হতে পারে কালান্তক। উভয়েরই উচিত স্পষ্ট জ্ঞাপন ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ। মনে রাখতে হবে, আভাসী (virtual) দুনিয়ায় সবটাই সদালাপ ( real conversation) নয়।

‘সোয়েটার'(২০১৯) সিনেমার গানের কথায় তবে কি আঙুলে আঙুল রাখলেও হাত ধরা বা মায়া চোখে চোখ রাখলেও ফিরে তাকানো সত্যিই বারণ? বলার মতো গল্প যত সত্যিই কি কুড়িয়ে নেওয়ার কারণহীন নির্মাল্য? নাকি শূন্যে ভাসমান রাতগোনা মন সহচারণের ছলাৎ শব্দে স্বপ্নবিভোর হয়ে শুধুই ঠোঁট ফুলিয়ে রুদালিয়া? অকারণ কারণে প্রেমে পড়া সত্যিই কি বারণ?
প্রতারিত যৌবন কি দীর্ঘনিশ্বাসে সুনীলের কবিতার ভাষায় বিলাপ করে বলবে, ” এক জীবনের ভালবাসা আমি হারিয়ে ফেলেছি খুব অবেলায়/ এখন হৃদয় শূন্য, যেমন রাত্রির রাজপথ “?

না ! নিজের ওপর বিশ্বাস বাঁচিয়ে রাখতে হয়, প্রত্যয়ের ডানায় ভর দিয়ে ঋষিকবির ‘বলাকা’র মতো উড়তে জানতে হয় ।
“দিনেরাতে
এই বাসাছাড়া পাখি ধায় আলো-অন্ধকারে
কোন্‌ পার হতে কোন্‌ পারে।
ধ্বনিয়া উঠিছে শূন্য নিখিলের পাখার এ গানে—
হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোথা, অন্য কোন্‌খানে ।”

PrevPreviousঅন্তহীন লড়াই: ফেলে আসা দু’টি বছর  
Nextক্রোমিয়াম ও জল দূষণের নাসিক এপিসোডNext
4 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

ক্রোমিয়াম ও জল দূষণের নাসিক এপিসোড

October 28, 2026 No Comments

নাসা বা নাক থেকেই নাকি নাসিক নামের উৎপত্তি। সেবার মুম্বাই যেতে গিয়ে আমাদের ট্রেন নাসিক স্টেশনে বেশ খানিকটা সময় দাঁড়িয়েছিল। নাসিকের মাটিতে ওই আমার প্রথম

অন্তহীন লড়াই: ফেলে আসা দু’টি বছর  

October 28, 2026 No Comments

উত্তুঙ্গ অভয়া আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২৮শে অক্টোবর ২০২৪ সিনিয়র চিকিৎসক ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে, নাগরিক সংগঠন গুলির মত বিনিময়ের মাধ্যমে তৈরি হয় অভয়া মঞ্চ। অভয়া আন্দোলনকে

সেই ধারা এখনও কেমন অক্ষত আছে…

October 27, 2026 No Comments

যেসব দলের / শাসকের নিজের কোনো কোয়ালিটি থাকে না, তাদের দুটো কোয়ালিটি থাকে। একটা হচ্ছে আগের কোনো একটা র‍্যান্ডম সরকারের সাথে তুলনা টানা, আর দ্বিতীয়ত

ভারত আমার ভারতবর্ষ – স্বাধীনতার নোনা স্বাদ

October 27, 2026 3 Comments

শুরুর কথা আমাদের ভারতবর্ষ যখন ‘আজাদির অমৃত মহোৎসব’-এ বুঁদ হয়ে আছে সেসময়ও কি ভারতের টুকরো হয়ে যাওয়াকে বাদ দিয়ে কোনভাবে লেখা যায় এ দেশের টুকরো

এক সংগ্রামীর জীবনের অবসান, কমরেড ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই

October 27, 2026 No Comments

বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর আজ রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিদ্যাসাগর নিকেতন, বিধান নগরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তবুও কিছু

সাম্প্রতিক পোস্ট

ক্রোমিয়াম ও জল দূষণের নাসিক এপিসোড

Somnath Mukhopadhyay October 28, 2026

আধুনিক সম্পর্কের নতুন পরিভাষা: Ghosting, Breadcrumbing, Dry Texting ও Textpectation

Dr. Sukanti Bhattacharya October 28, 2026

অন্তহীন লড়াই: ফেলে আসা দু’টি বছর  

Gopa Mukherjee October 28, 2026

সেই ধারা এখনও কেমন অক্ষত আছে…

Dr. Subhanshu Pal October 27, 2026

ভারত আমার ভারতবর্ষ – স্বাধীনতার নোনা স্বাদ

Dr. Jayanta Bhattacharya October 27, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

695870
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]