যেসব দলের / শাসকের নিজের কোনো কোয়ালিটি থাকে না, তাদের দুটো কোয়ালিটি থাকে। একটা হচ্ছে আগের কোনো একটা র্যান্ডম সরকারের সাথে তুলনা টানা, আর দ্বিতীয়ত প্রশ্নকর্তাকে কারো একটা এজেন্ট বানানো। মমতাকে যেমন কিছু বললেই বাম আমলে এই হতো, ওই হতো এসব শোনাতেন। আর প্রশ্ন করলেই আপনি হয়ে যেতেন হার্মাদ বা মাওবাদী। সেই ধারা এখনও কেমন অক্ষত আছে, ব্যাপারটা কিন্তু বেশ মজাদার।
ভোটের আগে লিস্ট ধরে প্রতিশ্রুতি, এতদিনের মধ্যে এই এই করে ফেলবো – মোটামুটি আমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির মতো। তারপর আসল সময়ে যখন বোঝা যায় যে প্রতিশ্রুতি একরকম, আর কার্যক্ষেত্রে করে দেখানো অন্য রকম, তখন মরা কান্না শুরু হয়। এ এই করেছিল, সে সেই করেছিল ইত্যাদি। এক বারো এটা বলা হয়না, এই তৃতীয় পুরুষ পারেনি বলেই দ্বিতীয় পুরুষ তোকে প্রথম পুরুষ বানিয়ে ভোটে জিতিয়েছে! না বাপু, আমি বলেছিলাম বটে আমি ছয় মাসে সেই উদ্ধার করে দেবো, কিন্তু এখন আমি বলছি ওটা করতে আমার পাঁচ বছর লাগবে…
তৃণমূলের জমানায় তৃণমূলের অন্তত নিজেদের চোর মেনে নেওয়ার একটা নম্রতা ছিল। হ্যাঁ, আমরা চোর, তবে সিপিএমও চোর ছিল। এই মালগুলো আবার নারদার টাকার বান্ডিল আর তিন বাটি গরু সাঁটিয়ে জোর গলায় ঢেঁকুর তুলে বলে আমি সনাতনী!! আর এদের অন্ধভক্ত আছে ক’টা। সিপিএম যেমন পুষেছিল, এরাও পুষেছে দু’টাকার কান কাটা অন্ধভক্ত। নিজেদের কান কেটে অর্ধেক হয়ে যাক, ক্ষতি নেই, ঐটা কাটা লোকেদের বাঁশ দিতে পারলেই এরা খুশি। হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই। চিল্লাতে চিল্লাতে বইয়ের দোকান ভাঙতে গেলো, ওদিকে উনিশ খান তাজা মরদেহ পায়ে ঠেকে চলে গেলো… হিন্দুর সনাতনী সরকার হাঁক পেরে চিল্লাচ্ছে। আবার হিসাব দিচ্ছে হজ করতে গিয়ে তো মোল্লারা মরছে, এ আর এমন কি! মানে এদের কী বলবো, এরা বিজেপির পেছন ধুতে মরে যেতেও রাজি, দরকারে মোল্লাদের সাথে কম্পিটিশন লাগিয়ে মরবে, কিন্তু বিজেপিকে নিয়ে একটা কথা শুনবে না।
কিছু বললেই, তুমি বামপন্থী। এই স্ট্যাম্প দেওয়াটা ইম্পর্ট্যান্ট। আমরা মানুষের দয়াতে/ আশীর্বাদে জিতে এসেছি, মানুষ আমাদের সাথে। তুমি বামপন্থী। নিজের দলকে জিজ্ঞেস কর ইত্যাদি হাজারো কথাবার্তা! একটা মানুষ যে নিরপেক্ষ ভাবে নিজের নাগরিকতার অধিকার নিয়ে একটা সরকারকে প্রশ্ন করতে পারে, এটা মমতাও বিশ্বাস করেনি, মোদিও করেনি, তাদের চার আনার সোশ্যাল মিডিয়া যোদ্ধাগুলোও করে না। নির্ঘাত সিপিএম! একটা সরকার জীবাশ্ম হয়ে গেছে, গত ১৫ বছর তারা ক্ষমতায় নেই, অথচ আমাকে প্রশ্ন করতে হবে তাদের। জ্যোতি বসু কী করেছিলেন জানেন? গোমুখ্যের দল এটা বোঝে না জ্যোতি বসু যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন আমি ক্লাস ওয়ানে পড়তাম, আমি ওকে প্ল্যানচেট করে ডেকে কী জিজ্ঞেস করবো? আর ওর ভূতকেই ডাকতে হতো তো তোকে ভোট দিলাম কেন!! চোরের দল একখান, তার উপর mother of thieves are sound most 😂😂 তৃণমূলের চোরের দল মমতার থেকে পয়সা পাসনি বলে অন্য একখান পার্টি নিয়ে জিতেছিস, তার আবার কত সনাতনী ফুটানি!!
শেষে কিনা একটা ইন্টার্নকে টার্গেট করেছে বুড়ো ভামগুলো। ধক নেই ওর প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার। তাই ডিউটির সময় প্রশ্ন কেন তুলেছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন! এইভাবেই মমতা প্রশ্ন করা ডাক্তারদের খেদাতো। ডেঙ্গু নিয়ে বললে খেদানি, করোনা নিয়ে বললে খেদানি। আসলে ওই শয়তানের ধারি নিগম তো রয়েছে আসল বুদ্ধিদাতা! এগুলো তো খালি চুরিবিদ্যা জানে, আসল বুদ্ধি তো শকুনির। হাসপাতালে নাকি সব আছে, সব সাপ্লাই আছে। তাহলে তুই রোগী তুলে নিয়ে গেলি কেন? তোর হাসপাতালের উপর তোর ভরসা নেই তাহলে! হয় তোর যন্ত্র নাই, নয় ওষুধ নাই, নয় ডাক্তার নেই, নয় নার্স নেই! নয় আপোলোতে দালালি খাওয়ার ব্যাপার আছে। এর বাইরে তো কোনো ব্যাখ্যা নেই! পুজো হচ্ছে, তার ট্রাফিক সামলানোর লোক নেই, মানুষ এর উপর ও পড়ে মরে যাচ্ছে, বিশ্বজ্ঞানীর দল মিটিং করে ঠিক করেছে প্যান্ডেলে ডাক্তার বসিয়ে দিতে হবে! ডাক্তার ওখানে থাকলে আর কেউ হরকে পড়বে না! এতদিন বুঝতাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী অশিক্ষিত মহিলা, মাথা ভর্তি ছিট, এসব করে বেড়ায়! এখন তো সেসব বলারও সুযোগ নাই!
একটাই ভালো, এসব পাবলিককে মানুষ চিনে যায়, ছুঁড়ে ফেলেও দেয়। যেমন মমতাকে দিয়েছে। ও এখন নিজেও নিজেকে পাত্তা দেওয়ার অবস্থায় নেই। এদেরও দেবে। কিন্তু সমস্যা হলো এরা যাওয়ার আগে রাজ্যটাকে আরও কিছুটা অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে যাবে, হয়তো মমতার থেকেও বেশি 😑😑










