প্র: নিপা ভাইরাস ডিজিজের উপসর্গ গুলি কি কি?
উ: সাধারণত জ্বর, প্রবল শারীরিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা, বমি, মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, খিঁচুনি, প্রবল কাশি, শ্বাসকষ্ট বা ডায়রিয়া জাতীয় উপসর্গ থাকতে পারে। মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ (এনসেফেলাইটিস), হৃদযন্ত্র আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ (মায়কারডাইটিস), ফুসফুস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ (এ আর ডি এস) ইত্যাদি নিয়েও এই রুগী আসতে পারে চিকিৎসকের কাছে।
প্র: এই রোগের সংক্রমণের হার কেমন এবং মৃত্যুহার কেমন?
উ: অন্যান্য সংক্রমিত রোগের তুলনায় সংক্রমণের হার তেমন কিছু নয় কিন্তু মৃত্যুহার অনেকটাই বেশি। সাধারণত কেস ফেটালিটি রেট ৪০% থেকে ৭৫% এর মধ্যে।
প্র: মহামারী নিবারণের দৃষ্টিকোণ থেকে নিপা ভাইরাস কেস কয় ধরনের ?
উ: তিন ধরনের। (১) সন্দেহজনক নিপা কেস – যেমন যে ব্যক্তি নিপা ভাইরাস রোগের মহামারী কবলিত এলাকায় বসবাস করছেন এবং যার অল্পদিনের জ্বর সঙ্গে মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের উপসর্গ অথবা খিঁচুনির উপসর্গ আছে, অথবা তীব্র মাথা যন্ত্রণার উপসর্গ আছে অথবা কাশি বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ আছে; (২) সম্ভাব্য নিপা কেস – যে সন্দেহজনক কেস কোনো নিপা রুগীর সরাসরি সংস্পর্শে এসেছেন অথবা নিপা রুগীর এলাকায় বসবাস করতেন এবং ল্যাব পরীক্ষার আগেই মারা গেছেন; (৩) নিশ্চিত নিপা কেস – যে সন্দেহজনক রোগীর শরীরের নমুনা (যেমন থ্রট সোয়াব, ইউরিন বা সেরিব্রো স্পেইনাল ফ্লুইড)নিয়ে ল্যাব পরীক্ষায় পিসিআর পদ্ধতিতে নিপা ভাইরাস পাওয়া গেছে।
প্র: নিপা রোগের প্রতিষেধক ও চিকিৎসা কি?
উ: এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট কার্যকরী টিকা নেই বা ওষুধ নেই। রোগীকে সাধারণত উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যান্য যেসব প্রতিষেধক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে সেগুলি হল: (১) সাবান জল বা স্যানিটাইজার ব্যবহার; (২) মাস্ক এর ব্যাবহার; (৩) বাদুর বা অন্যান্য পশুপাখির ঠুকরানো বা আধ খাওয়া ফল না খাওয়া; (৪) ফল খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া; (৫) তাল বা খেজুর গাছের টাটকা রস না খাওয়া বা ফুটিয়ে খাওয়া ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে যে এটি একটি জুনটিক ডিজিজ যেটি মূলত ফ্রুট ব্যাট জাতীয় বাদুড়ের লালা, মল মূত্র থেকে ছড়ায়।
প্র: নিপা রোগ প্রসার প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কারা কন্ট্যাক্ট হিসেবে বিবেচিত হবেন?.
উ: নিপা ভাইরাস ডিজিজ এর কন্ট্যাক্ট দু ধরনের: উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন, এবং নিম্ন ঝুঁকি সম্পন্ন।
(অ) উচ্চঝুঁকি সম্পন্ন: এদের মধ্যে পড়ছেন: (১) যারা কোনো কনফারমড কেসের শরীর নির্গত তরল যেমন রক্ত, লালা, মূত্র ইত্যাদির সংস্পর্শে এসেছেন; অথবা (২) কোনো সম্ভাব্য কেস যিনি মারা গেছেন তার শরীর নির্গত তরলের সংস্পর্শে এসেছেন; (৩) যিনি সম্ভাব্য বা নিশ্চিত কোনো কেসের খুব কাছাকাছি বা একই বদ্ধ জায়গায় একসাথে বারো ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাটিয়েছেন। রুগীর কোনো রুম মেট অথবা অন্য রুগী যিনি একই ওয়ার্ডে বা রুমে ভর্তি ছিলেন তিনি এই ধরনের কন্ট্যাক্ট হিসেবে বিবেচিত হবেন।
(আ) নিম্নঝুঁকি সম্পন্ন:যারা শরীর নির্গত তরলের সংস্পর্শে আসেন নি কিন্তু রুগীর জামাকাপড়, বিছানার চাদর বালিশ, ফোমাইট এর সংস্পর্শে এসেছেন।
স্বাস্থ্যকর্মী যিনি উপযুক্ত ব্যক্তিগত শারিরীক সুরক্ষা বিধি মেনে রুগীকে দেখেছেন বা পরিষেবা দিয়েছেন তিনি কন্ট্যাক্ট হিসেবে বিবেচিত হবেন না। অন্যদিকে চিকিৎসকর্মী যারা চিকিৎসা করেছেন, যারা রোগীকে স্থানান্তরের কাছে সাহায্য করেছেন যেমন এম্বুলেন্স চালক অথবা মৃত রুগীর অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়াতে যুক্ত ছিলেন তারা যদি ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিধি মেনে না থাকেন তাহলে কন্ট্যাক্ট হিসেবে বিবেচিত হবেন।
প্র: এই কন্যাক্টদের নজরদারির ক্ষেত্রে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
উ: উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন কন্যাক্ট দের ক্ষেত্রে: (১) তিনি যদি উপসর্গ বিহীন হন তাহলে তারা গৃহ অন্তরীণ থাকবেন এবং স্বাস্থ্যকর্মী তাকে একুশ দিন ধরে দিনে দুবার টেলিফোন এর মাধ্যমে নজরদারি চালাবেন। (২) তিনি যদি উপসর্গ যুক্ত হন সেক্ষেত্রে তাঁকে তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত হাসাপাতালের নির্দিষ্ট আইসিলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে এবং তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
নিম্নঝুঁকি সম্পন্ন কন্ট্যাক্টদের ক্ষেত্রে তিনি যদি উপসর্গ বিহীন হন তাহলে তারা গৃহ অন্তরীণ থাকবেন এবং স্বাস্থ্যকর্মী তাকে একুশ দিন ধরে দিনে দুবার টেলিফোন এর মাধ্যমে নজরদারি চালাবেন। (২) তিনি যদি উপসর্গ যুক্ত হন সেক্ষেত্রে তাঁকে তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত হাসাপাতালের নির্দিষ্ট আইসিলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে এবং তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্র: কাদের ক্ষেত্রে গৃহ অন্তরীণ নজরদারির বদলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে নজরদারি চালাতে হবে?
উ: (১) নিশ্চিত রুগীর যে কন্ট্যাক্ট এর ক্ষেত্রে জ্বর অথবা নিপা ভাইরাস ডিজিজের অন্যান্য উপসর্গ থাকবে তাদের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অন্তরীণ নজরদারি চলবে; (২) কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো কারণে গৃহ অন্তরীণ ব্যবস্থা চালু না করতে পারলে সে ক্ষেত্রেও প্রাতিষ্ঠানিক অন্তরীণ অবস্থা চলবে।
সাধারণ সাবধানতা মেনে চলুন, এখনো অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো পরিস্থিতি আমাদের রাজ্যে নেই। কেন্দ্র ও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সমন্বয় ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।










দেখা যাক্ এবার নীপার খেলা সামলাতে হবে।
সর্তক রইলাম। ভাইরাসের রাজত্ব এখন।আর মানুষের শরীর পিপু ফিসু।