আপডেট ১:
WBJDF প্রতিনিধি জুনিয়র ডাক্তারদের অবৈধ পোস্টিং এ হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: (৩০.০৭.২০২৫)
“এই মামলার শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টেই” — বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর স্পষ্ট ঘোষণা। SAT-এ পাঠানোর সরকারি আবেদন খারিজ।
অনিকেত মাহাতো, আশফাকুল্লা নাইয়া ও দেবাশিস হালদার—ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডাক্তার্স ফ্রন্ট ও ‘জাস্টিস ফর অভয়া’ আন্দোলনের প্রথম সারির যোদ্ধা এই তিন জুনিয়র চিকিৎসকের পোস্টিং পরিবর্তনের মামলাগুলো হাইকোর্টে না-চলে SAT-এ ( State Administartive Tribunal) পাঠানো হোক—এই ছিল সরকারের মরিয়া চেষ্টা।
SAT—যেখানে শুনানি প্রায় নেই, আর বিচার মানেই অনন্ত অপেক্ষা। সেই অচল ফোরামে মামলাটি ঠেলে দিতে সরকার নামায় অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত ও সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জীকে। তারা পাঁচ থেকে ছয়দিন শুনানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুক্তি দেন—কিন্তু সবটাই একটিই কথার চারপাশে ঘুরপাক খেতে। থাকে: “এই মামলা হাইকোর্ট শুনতে পারে না।”
আজ বিচারপতি বসু কড়া ভাষায় জানিয়ে দিলেন— “এই মামলা স্পষ্টভাবেই হাইকোর্টের এখতিয়ারে পড়ে। বারবার এমন আপত্তি তুলে বিচারালয়ের সময় নষ্ট করা যায় না।”
এ শুধু রায় নয়—সরকারি কৌশলের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ভর্ৎসনা। তবে আজকের শুনানিতে পৌঁছানো গেল না সেই আসল প্রশ্নে—
এই পোস্টিং পরিবর্তনের আদেশগুলি আইনসম্মত ছিল কি না। কারণ অ্যাডভোকেট জেনারেলের অনুপস্থিতির কারণে মূল বিষয়ে রায়দান স্থগিত থাকল। এটি নিছক কাকতালীয় না পরিকল্পিত বিলম্ব—সে ব্যাখ্যা বুঝে নেওয়ার ভার সাধারণ মানুষের উপরেই রইল।
কিন্তু এটুকু অন্তত পরিষ্কার—
সরকারের প্রাথমিক চাল ব্যর্থ হয়েছে। হাইকোর্টেই চলবে এই মামলা। প্রশাসনিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে এই লড়াই এবার দাঁড়াল আইনের মাটিতে।
এ লড়াই কেবল তিনজনের নয়। এ লড়াই, সেই প্রত্যেকের, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে। এ লড়াই, এক এমন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যা প্রশ্ন তুললেই শাস্তি দিতে চায়। আর এ লড়াই, এক আন্দোলনের, যা চুপ করে থাকাকে মানে না।
ওরা ন্যায়বিচারকে বদ্ধ রাখতে রাখতে চেয়েছিল অন্ধকারে। কিন্তু সব আলো এখনো নেভে নি। নাছোড়বান্দা কিছু লড়াকু হাত এখনও অন্ধকার থেকে আলোর পথের খোঁজে সোচ্চারে জানান দিচ্ছে: আমরা এখনো রাস্তায় আছি।
আপডেট ২:
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজের চেষ্ট মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগের তালিকা ও তাই নিয়ে সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিবাদের কথা আমরা আগেই জানিয়েছিলাম। আপাতত ওই বিভাগীয় প্রধানকে ৭ দিনের ‘ ফোর্সড লিভ ‘ এ পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হবে – এই আশ্বাস আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকেরা পেয়েছেন। এটি আমাদের সার্বিক প্রতিবাদের প্রাথমিক জয় হিসেবেই আমরা দেখছি, কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার প্রতি আমাদের নজর থাকবে।
আপডেট ৩:
আগামী ৮ ও ৯ তারিখের কর্মসূচি ( ৮ তারিখ রাতের মশাল মিছিল, ৮ মধ্যরাত থেকে ৯ ভোরবেলা অবধি শ্যামবাজার এ সারারাতব্যাপী প্রতিবাদী সমাবেশ, ৯ তারিখ সন্ধ্যেবেলা আর জি কর মেডিকেল কলেজে প্রতিবাদী জমায়েত ) ঘিরে প্রচারের কাজ চলছে সমস্ত কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু বহু জায়গায় পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ছবি আমরা দেখতে পাচ্ছি। এরকম একটা মর্মান্তিক ঘটনাকে ভোলাতে না দেওয়ার অঙ্গীকার কাদের এত অস্বস্তি তৈরি করছে যে পোস্টার অবধি ছিঁড়ে দিতে হচ্ছে, তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ধর্ষণ সংস্কৃতির ধারক বাহক সমর্থকরা মনে রেখো : অভয়ার কসম, আমরা ভুলব না, কাউকে ভুলতে দেব না!
#WBJDF
#justiceforRGKar
#abhayaraat
#GhumNei










