থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে WBDF এর ডাকে গণকনভেনশন। আগামী ৮ই জানুয়ারি, বুধবার, সন্ধ্যে ৬টা। রোটারি সদনে। সকলে আসুন।
সরকারবাহাদুর সরকারি ডাক্তারদের কাজকর্ম দায়দায়িত্ব বিষয়ক একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। খুবই আকর্ষণীয় সেসব প্রস্তাব। মেডিকেল কলেজে থাকা ডাক্তারবাবুদের সপ্তাহে ন্যূনতম বেয়াল্লিশ ঘণ্টা ডিউটি করতেই হবে (হেলথ সার্ভিসের ডাক্তারবাবুদের দায়িত্ব আরেকটু কম – তাঁরা সপ্তাহে চল্লিশ ঘণ্টা ডিউটি করলেই সরকার খুশি) – রোগী দেখা ছাত্রছাত্রী পড়ানো পরীক্ষা নেওয়া মাসে-দুমাসে হাজাররকমের ফর্ম ফিল-আপ করা বিবিধপ্রকার ট্রেনিং দেওয়া ও নেওয়া ইত্যাদি প্রভৃতি তো বোনাস – ও হ্যাঁ, তথাকথিত গবেষণা ও গবেষণাপত্র প্রকাশ করা, সে-ও আছে – মোদ্দা কথা হলো, বেয়াল্লিশ ঘণ্টা মিনিমাম এবং আধিকারিকরা প্রকাশ্যেই বলছেন, আপার লিমিট কিছু নেই। ডিউটি-আওয়ারের অতিরিক্ত কাজ করলে ওভারটাইম থাকার কথা – বিশেষত যেখানে, ডিউটি-আওয়ার এমন করে গুনে রাখা হয়, সেখানে তো থাকা খুবই জরুরি – কিন্তু সরকারবাহাদুর তেমন কিছু ভেবেছেন বলে শুনিনি। রাত্তিরে ওয়ার্ডে থেকে বারো ঘণ্টা ডিউটি করলে একদিন ছুটি – অন-কল থাকার অর্থও সবসময় রেডি-অন-ইওর-মার্কস বলে প্রস্তুত থাকা, যাতে ডাক পড়া মাত্র দৌড়ে হাজির হতে পারা যায়, কিন্তু রাতভর সেরকম করে প্রস্তুত থাকলেও ডে-অফ-এর বন্দোবস্ত নেই – ছুটির দিন বা রবিবার ডিউটি করলেও ছুটির কথা কিছু বলা নেই। প্রিক্লিনিকাল প্যারাক্লিনিক্যাল সাবজেক্টের সিনিয়র প্রফেসরদেরও রোগী দেখতে হবে – তাঁদের অনেকেই হয়ত বিগত পনের-কুড়ি বছর সরাসরি রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকেননি, তবু তাঁরা দেখবেন, কৈশোরোত্তীর্ণ প্রথম বছরগুলোয় এমবিবিএস পড়ে ফেলেছিলেন, এই অর্বাচীনতার অপরাধেই হয়ত (আমলারাও বিএ-এমএ পাস করে এসেছেন – শিক্ষকের ঘাটতি মেটাতে তাঁরাও তো সন্ধের পর ইশকুলে গিয়ে পড়াতে পারেন!) মেডিকেল কলেজ মাত্রেই টার্শিয়ারি কেয়ার হাসপাতাল, সেখানে অন্য বিষয়ের বিশেষজ্ঞ (নন-ক্লিনিক্যাল সাবজেক্ট হলেও) অধ্যাপক অপর বিষয়ের সমস্যার সুরাহা করবেন, এমন উদ্ভাবনী ভাবনা অতি চমৎকার, নিঃসন্দেহে!
কিন্তু এ নিয়ে আমার অভাব-অভিযোগ দুঃখ-দুর্ভাবনা ক্ষোভ-বিক্ষোভ কিছুই নেই। প্রত্যাশা থেকেই ওসবের জন্ম – বর্তমান সরকারের ক্রিয়াকলাপ বিষয়ে তো প্রত্যাশা নেইই, বর্তমান সরকারের আমলাদের কাণ্ডজ্ঞান বা চিন্তাশক্তি বিষয়েও নেই।
তদুপরি, যেখানে নির্দেশিকায় লেখা আছে, যে, নির্দেশিকা-পালনে বিচ্যুতি দেখা গেলেই সংশ্লিষ্ট সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার থেকেও মেডিকেল কাউন্সিলে নালিশ করে দেওয়া হবে, সেখান থেকেই স্পষ্ট – এমন নির্দেশিকার লক্ষ্য উদ্দেশ্য অভীষ্ট ঠিক কী। কেননা, বর্তমান গোষ্ঠীর শাসনকালে, রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলটি যে দুর্নীতি তোলাবাজির আখড়ায় পরিণত হয়েছে, সে খবর নতুন করে জানানোর কিছু নেই, – অতএব এই নির্দেশিকা, তা না-মানার পরিণতি, সবমিলিয়ে কী হতে চলেছে, তা মোটামুটি জানা কথা।
কিন্তু আমার কথাটা এ নিয়ে নয়। কুকুরের কাজ কুকুর করেছে, কামড় দিয়াছে পা-য় – ঠিক তেমনই, বর্তমান সরকারের আমলে যে হুমকি ভয়দেখানো তোলাবাজির নিত্যনতুন পন্থা আবিষ্কারের চেষ্টা চলবে, চলতেই থাকবে, এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে!
আমার কথা সেইসব সরকারি ডাক্তারদের নিয়ে, যাঁরা এই নির্দেশিকা দেখে বিরক্ত। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় এক-তৃতীয়াংশের বেশি অধ্যাপক-চিকিৎসকের অভাব – ঠেকনা দিয়ে কোনোক্রমে চলা পরিকাঠামো বিষয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তাভাবনা খরচ না করে এমন নির্দেশিকা জারি করার ঔদ্ধত্য নিয়ে বিরক্তি নয় – বিরক্তি প্রকাশ করছেন অভয়া-আন্দোলন নিয়ে, কেননা, “যখনই এত বাড়াবাড়ি করা হচ্ছিল, তখনই জানতাম এরকম কিছু একটা হবে”, এঁদের বিরক্তি-ক্ষোভ এসব নিয়ে। আমার অগাধ শ্রদ্ধা রইল এইসব মেরুদণ্ডহীন সরীসৃপ জাতীয় দুপেয়েদের প্রতি।
তো হুমকি-সংস্কৃতি আকাশ থেকে পড়ে না।
ভয় পাওয়ার লোক না থাকলে হুমকির তেজ থাকে না। হুমকির মুখে রুখে দাঁড়ানোর মেরুদণ্ড দেখাতে পারলে হুমকিবাজরাই ল্যাজ গুটিয়ে পালায় – কেননা, আখেরে, হুমকি যারা দেয়, তারা আদতে ভীরু, ও মেরুদণ্ডহীন!
এসব নিয়েই কনভেনশন। আজ। রোটারি সদন। সন্ধে ছ’টা।
আসছেন তো?








