ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৬
গত ৩০ জানুয়ারী, শুক্রবার কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের ৭৮ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বার কাম রেস্টুরেন্ট অলি পাবের এক মুসলিম ওয়েটার মাটন স্টেকের জায়গায় এক কাস্টমারকে বিফ্ স্টেক সার্ভ করার অভিযোগ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল শহর কলকাতায়। দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়া সহ সর্বত্র শহর জুড়ে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হলো। শনিবার দিনভর সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়েছে ঘটনাটি ঘিরে। তথাকথিত হিন্দুত্ববাদীদের নামে একদল স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক কর্মীরা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর কাজে যুক্ত থাকলেন।
অভিযোগকারীর সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক অভিযোগে অতিরিক্ত তৎপরতা দেখিয়ে পাক স্ট্রিটের এই স্বনামধন্য রেস্তোরাঁর কর্মী, গরীব মুসলিম ওয়েটারকে দ্রুত গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ।
৩০ জানুয়ারী, শুক্রবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে নৈশভোজে যান ইউ টিউবার অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী। তিনি অভিযোগ করেন মাটন অর্ডার দেওয়া সত্ত্বেও তাদের টেবিলে নাকি গো মাংস পরিবেশন করা হয়। না জেনেই তারা নাকি সেই গোমাংস খেয়েছেন। সায়ক চক্রবর্তী নিজেকে হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিচয় দিয়ে রেস্তোরাঁর সংশ্লিষ্ট কর্মীর ধর্ম পরিচয় প্রকাশ করেন। জানা গিয়েছে ওই রেস্তোরার কর্মী ও কর্তৃপক্ষ সায়ক চক্রবর্তীর কাছে ভুল স্বীকার করেছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি পার্ক স্ট্রীট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অতি সক্রিয়তা দেখিয়ে শনিবার পুলিশ রেস্তোরাঁর ওই কর্মীকে গ্রেফতার করে।এ রাজ্যের পুলিশ রাজ্যজুড়ে এই বিভাজনের, বিদ্বেষের, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করবার মূল কারিগর এই ইউ টিউবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে রেস্তোরাঁর ওই গরীব কর্মীকেই গ্রেফতার করল। গো বলয়ের কদর্য সাম্প্রদায়িক বিভাজনের খেলা এ রাজ্যেও আমদানি করা হলো। আর তাতে সক্রিয় ভূমিকা নিলেন এ রাজ্যের দলদাস পুলিশ প্রশাসন, এ রাজ্যের সরকার। পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরেও যে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে তা আরো একবার বেরিয়ে এলো এ রাজ্যের বুকে।
গত কয়েক মাসে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভাষা, আঞ্চলিকতা এবং ধর্মবিশ্বাসের কারণে যে ঘটনা ও হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে, তা ভয় পাওয়ানোর মতো। কলকাতায় অলি পাবে’র ঘটনাকে কেন্দ্র করে যা ঘটলো সেগুলো দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো এতটা ভায়োলেন্ট না হলেও কৌশল হিসেবে যথেষ্ট চিন্তাজনক।
শোনা যায় অলি পাবে গরু, শুয়োর, মুরগী, মাটন সহ সবকিছুরই মাংস বিক্রি হয় এবং মদ্যপান হয়। এরকম একটা জায়গায় বামুনের জাত মারার ষড়যন্ত্র হওয়াটা খুব বিশ্বাসযোগ্য ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব নয়। যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি ফুটেজখোর না হিন্দুত্ববাদী তা কোনটাই স্পষ্ট নয়। কিন্তু যে নিউজ পোর্টালের দ্বারা অল্প কিছুদিন আগেই “বর্ষসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটার ২০২৫” পুরস্কার পেয়েছিলেন এই ইউ টিউবার সেই নিউজ পোর্টাল সবার আগে অলি পাবে পৌঁছে যায় এবং সেই পোর্টাল কোন রাখঢাক না করেই একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের দালালি করে, সমাজে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে বেড়ায় এবং ইসলাম বিদ্বেষ প্রচার করে। পুলিশের এই অতি সক্রিয়তা ও অতীত তৎপরতার বিরুদ্ধে আদালতে করা মামলার ভিত্তিতে অলি পাবের ওই মুসলিম ওয়েটারের জামিন তথা মুক্তি হয়। কিন্তু আর এস এসের পথ অনুসরণ করে কিরকম চলছে আজকের বাংলা তা সকলের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়। অভয়া মঞ্চ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করছে। সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্পের দ্বারা পরিচালিত পুলিশ প্রশাসনের অতি সক্রিয়তার তীব্র নিন্দা করছে এবং একই সঙ্গে তীব্র ঘৃণা-বিদ্বেষের রাজনীতি ছড়িয়ে দেওয়ার মূল কারবারি আজও নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ওই ইউটিউবারের গ্রেফতার দাবি করছে। অভয়া মঞ্চ রাজ্যের অসাম্প্রদায়িক, গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছে









