Justice Delayed is Justice Denied.
৯ ই আগস্ট ২০২৪ আর জি কর হাসপাতালে আমাদের সহকর্মী অভয়ার নৃশংস হত্যার পর আমরা রাজপথে নেমেছিলাম ন্যায়বিচারের দাবিতে। লক্ষ লক্ষ মানুষ হেঁটেছিল এই বিশ্বাসে যে দেশের বিচারব্যবস্থা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে প্রকৃত অপরাধীদের সামনে আনবে।
আমাদের আশা ছিল, যারা খুন হতে দিল, যারা খুন করল, যারা পরিকল্পিতভাবে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করল, সবাই শাস্তি পাবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখলাম ঠিক তার উল্টো ছবি। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আর জি করের প্রিন্সিপাল ও টালা থানার ওসি গ্রেফতার হলেও সিবিআই কোনও সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিল না, বরং তারা জামিন পেয়ে গেল। শিয়ালদহ কোর্টে বিচার চলাকালীন স্পষ্ট হয়ে গেল, কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে তদন্তভার নেওয়ার পর সিবিআই কার্যত বিশেষ কিছুই এগোয়নি। পুরো ঘটনাকে এক জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে শেষ করার দিকেই আগ্রহ দেখা গেল।
ঘটনা ও তদন্ত নিয়ে আজও অসংখ্য প্রশ্ন, অসংখ্য ধোঁয়াশা রয়ে গেল।
বিচার আমরা পেলাম না।
তবু শেষ ভরসাটুকু রেখে অভয়ার বাবা মা আবার আইনি লড়াই শুরু করলেন। প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড ও ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের বিরুদ্ধে মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে। আমরা ভেবেছিলাম, অন্তত এখানেই দ্রুত শুনানি হবে।
কিন্তু এখানেও চলছে সেই একই ছবি। দীর্ঘসূত্রিতা। তারিখের পর তারিখ। এমনকি নির্ধারিত দিনেও শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে। একটি ছোট কিন্তু ভয়ংকর হিসেব বলছে সবকিছু। ২৮.০৮.২৫ থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন বেঞ্চ বদল এবং শেষে বেঞ্চ নির্দিষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়ায় অভয়া মামলা ৩১ বার Assigned হয়েছে। একবারও শেষ পর্যন্ত শুনানি হয়নি।
যে বিচারব্যবস্থা আন্দোলনের উত্তুঙ্গ সময়ে সুপ্রিম কোর্টে দিনের পর দিন লাইভ স্ট্রিমিংয়ে শুনানি চালিয়ে মানুষের মনে ভরসা জাগিয়েছিল, আজ সেই বিচারব্যবস্থাই এই ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের ন্যায়ের আকাঙ্ক্ষাকে কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আজ দাঁড়িয়ে আমরা এর আর কোনও ব্যাখ্যা খুঁজে পাই না। তাহলে কি প্রতিটি খুন, ধর্ষণ, অবিচারের বিচারের জন্য সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমেই থাকতে হবে প্রতিদিন?
এই অসহ্য বিলম্ব ও দীর্ঘসূত্রিতার বিরুদ্ধে, যাতে অভয়ার মামলায় বিচার পেতে আরও দেরি না হয়, সেই দাবিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিশেষত মহিলা জুনিয়র ডাক্তারদের একটি ডেপুটেশন আমরা মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দিতে চলেছি আগামী ৯ ই ফেব্রুয়ারি, সোমবার। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ধর্মতলা চত্বরে জমায়েত। সেখান থেকে আমাদের প্রতিনিধিদল যাবে কলকাতা হাইকোর্টে।
আমরা চাই, যারা প্রথম দিন থেকে অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন, রাত জেগেছেন, লড়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কণ্ঠস্বর একসঙ্গে ধ্বনিত হোক ডোরিনা ক্রসিংয়ে। যাতে বিচারব্যবস্থার শীর্ষে থাকা মানুষরা বুঝতে পারেন, এই দীর্ঘসূত্রিতা সাধারণ মানুষের মনে কতটা ক্ষোভ, দুঃখ আর হতাশা জমা করছে। আজ যখন পুলিশ ও সিবিআইয়ের উপর মানুষের আস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে, তখন বিচারব্যবস্থাই শেষ ভরসা। সেই ভরসার জায়গায় যাতে আঘাত না লাগে তা সুনিশ্চিত করা বিচারব্যবস্থারই দায়িত্ব।

প্রসঙ্গত, ওই দিনই অভয়ার জন্মদিন। নারকীয় হত্যার পর বিচারহীন ১৮ মাস কেটে যাওয়ার পরে জন্মদিনের আলাদা কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকে না হয়তো। তবু আমরা আমাদের সহকর্মীকে স্মরণ করতে চাই তাঁর কর্মস্থল আর জি কর মেডিকেল কলেজের Cry of the Hour প্রাঙ্গণে।
দুপুরের কর্মসূচির পরে, সন্ধ্যা ৭টায় আর.জি.কর মেডিকেল কলেজে Cry of the Hour এর সামনে অভয়ার স্মরণে এবং লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা আবার জড়ো হবো।









