Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

হার্ভি ওয়াইনস্টিন থেকে জেফ্রি এপস্টিন: হিংস্র শিকারী খাদকরা (Predators) আধুনিক মানব সমাজেও রয়ে গেছে

epstein
Bappaditya Roy

Bappaditya Roy

Doctor and Essayist
My Other Posts
  • February 21, 2026
  • 6:35 am
  • No Comments

আগেও আমরা বহু নিবন্ধে আলোচনা করেছি যে বিশ্বের যাবতীয় প্রাণীকূল নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য সহ জন্ম, বেড়ে ওঠা, খাদ্য সংগ্রহ বা শিকার, খাদ্য ও পানীয় জল গ্রহণ, বাসা তৈরি বা কোন প্রাকৃতিক নিরাপদ আশ্রয়ে লুকোনো, বিশ্রাম ও নিদ্রা, রেচন, যৌন প্রক্রিয়া, সন্তান ধারণ ও তাদের বড় করা, মৃত্যু – একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার (Process) মধ্যে দিয়ে চলে। কালের বিবর্তনে তাদের পরিবেশ – পরিস্থিতি – অভ্যাসের পরিবর্তন হলেও মৌলিক ও সেই সময়ের ধরন টি (Pattern) তারা বজায় রাখে।

বিশ্বপ্রকৃতিকে একদিকে জয় করা এবং অন্যদিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে চলা একমাত্র মানুষ তার অনুপম বুদ্ধিবৃত্তি, কল্পনা, লোভ, লালসা, আকাঙ্ক্ষা, পরিকল্পনা, সূক্ষ্ম কর্মকাণ্ড, ইচ্ছা শক্তি, অর্জিত সম্পদ, প্রযুক্তি, প্রতিপত্তি ইত্যাদির প্রয়োগে তাদের জৈবনিক প্রয়োজন গুলিকে (Biological Needs) প্রয়োজনীয় অভ্যাস ও অনুশীলনের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন করতে পারে, পাশাপাশি সেগুলিকে বিকশিত করে আমোদ, প্রমোদ, বিনোদন, আরাম, ভোগ, ফূর্তি, বিকৃতি, পীড়ন, হিংসায় পর্যবসিত করতে পারে। মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব, স্বভাব, আচরণের কারণে বিভিন্ন পরিবেশে তাদের বিভিন্ন অভিব্যক্তি ও আতিশয্য দেখা দেয়।

বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন আদি মানব পশুদের মত কষ্টকর জীবন যাপন করত। খাদ্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকত, তাদের যৌনজীবন ছিল মুক্ত কিন্তু নির্দিষ্ট ধরনের প্রয়োজনবাদী। সেখানে যৌনসঙ্গী নির্বাচনে অনেকক্ষেত্রে পশুকূলের মত পুরুষের সঙ্গে পুরুষের কিংবা নারীর সঙ্গে নারীর রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও যৌনসম্পর্কে নারী পুরুষের উভয়ের সম্মতি থাকত। বেশ কিছু গবেষক বলে থাকেন তখন মানব সমাজ ছিল নারীকেন্দ্রিক, নারী ছিল শক্তিশালী ও গোষ্ঠীগুলির নেত্রী। তারা পুরুষদের সঙ্গে সমানে সমানে শিকার এবং ভয়ংকর প্রাণী ও বিরুদ্ধ গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুদ্ধ করত। স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত। স্বাধীন ভাবেই প্রেমের সঙ্গী নির্বাচন করত। মহামতি ফ্রেডেরিখ এঙ্গেলস তাঁর বিখ্যাত ‘ The Origin of the Family, Private Property and State ‘ গ্রন্থে বিষয়টিকে ‘ Individual Sex Love ‘ আখ্যা দিয়েছেন।

যাযাবর শিকারী মানুষ ক্রমে কৃষিকাজ ইত্যাদির মাধ্যমে থিতু হয় এবং উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ, প্রভূত খাদ্য ও ভোগ্য সামগ্রীর উৎপাদন ও স্বচ্ছলতার কারণে ভোগ বিনোদনের প্রতি পা বাড়ায়। ক্ষমতা, সম্পদ, অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদির দখলদারি কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে এবং গোষ্ঠীগুলির মধ্যে কিছু ব্যক্তির আয়ত্বে চলে আসায় সমাজে বৈষম্য ও শ্রেণী বিভাজন সৃষ্টি হয়। দলপতি, গ্রামনি, রাজন, একরাট, সম্রাট; ব্রাহ্মণ, পুরোহিত ইত্যাদি একটি শ্রেণীর হাতে যাবতীয় ক্ষমতা ও সম্পদ কুক্ষিগত হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র এবং ঈশ্বর, আত্মা, ধর্ম, কুসংস্কার, আচার, অনুষ্ঠান, যজ্ঞ ইত্যাদির নিগড়ে তারা সমাজকে নিজ স্বার্থে বেঁধে ফেলে। যুদ্ধে বিজিত গোষ্ঠীদের দাস বা শূদ্র তে পরিণত করা হয় যাদের কাজ হয় জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি কায়িক শ্রম করে এই রাজা – জায়গির – সেনাপতি – পুরোহিত শাসিত সমাজের সেবা করে এবং সমস্ত পরিষেবা দিয়ে চলা। এই ক্ষমতাসীনরা গোষ্ঠী ও অঞ্চলের মধ্যে সেরা – জমি, গাভী, অশ্বগুলির সঙ্গে নারীদের দখল করে, সেই সঙ্গে বিজিত গোষ্ঠীদের যাবতীয় সম্পদের সঙ্গে তাদের নারীদেরও দখল করে। ক্ষমতাসীনদের প্রাসাদ বা গৃহ মনিকাঞ্চন যোগে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজ ও সামন্ত্রতন্ত্রে আমরা ক্ষমতাসীনদের গৃহে অসংখ্য পত্নী ও উপপত্নী দেখতে পাই। এর বাইরেও ভোগের জন্য তারা পতিতালয়, পানশালা, নর্তকী আবাস, প্রমোদ ভবন ইত্যাদি নির্মাণ করেন। নারী ঐতিহাসিকভাবে হয়ে পড়ে রাজ, সামন্ত ও পুরুষ তন্ত্রের হাতে বন্দী ও পরাধীন। তার স্থান হয় হারেম, আতুর আর হেঁসেলে। এই ধনী ক্ষমতাসীনদের সম্পত্তি ধরে রাখার জন্য পত্নী, পরিবার ও পুত্রের প্রয়োজন এবং বিবাহের আয়োজন হলেও অবাধে ব্যভিচার, অজাচার, পরকীয়া, বারাঙ্গনা গমন ইত্যাদি চলতেই থাকে।

বিপুল ক্ষমতা, সম্পদ ও অবসর এবং সেইসঙ্গে অঢেল নারী সম্পদের যোগান এই রাজা – বাদশা, সেনাপতি – শ্রেষ্ঠী, জমিদার – নায়েব দের মধ্যে চূড়ান্ত যৌনাতিশয্য ও বিকারের জন্ম দেয় যা নারীকূলের বিপদ হলেও এক বিপজ্জনক সংস্কৃতি হিসাবে বিকশিত হয়ে যুগে যুগে প্রবাহিত হয়। আধুনিক যুগে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, গণতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী, সমাজবাদী, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও সমাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হলেও মূলত ক্ষমতাসীন ও ধনীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশে ও সমাজ ব্যবস্থায় এগুলি থেকে যায়। যার অজস্র উদাহরণ দেশে বিদেশে আমাদের সামনে আছে। আবার প্রতিটি রাষ্ট্র বিপর্যয়, যুদ্ধ, দাঙ্গা, হাঙ্গামায় যুযুধমান দুপক্ষের হাতে বিপক্ষের নারী আক্রান্ত হয়। নারীর উপর হিংসা, যৌনপীড়ন ও ধর্ষণকে ক্ষমতার আস্ফালন দেখানো হয়। পরবর্তীকালে পুঁজিবাবাদী ব্যবস্থার রমরমায় ভোগবাদ এবং মার্কিন ইয়াংকি সংস্কৃতির প্রাধান্যে নারীর উপর যৌন আক্রমণ বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন অবৈধ যৌনাচার সামনের সারিতে উঠে আসে।

সুতরাং বর্তমান মার্কিন মুলুকে যা ঘটছে সেখানে তো বটেই অন্যত্রও নতুন কিছু নয়। আমাদের দেশেও ক্রীড়া থেকে বিনোদন শিল্প সর্বত্র এর ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। ধনী, অবাধ যৌনতার মার্কিন সমাজে তাহলে ওয়াইনস্টিন এবং এপস্টিন ঘটনা এত সোরগোল ফেলেছিল বা ফেলছে কেন? তার কারণ এর ব্যাপকতা, সমাজের নিয়ন্তা তাবড় ব্যক্তিবর্গের যোগ, এই দুজনের রাষ্ট্র ও সমাজে প্রবল প্রভাব এবং সমকালীন বিশ্ব ও মার্কিন ঘরোয়া রাজনীতি। ওয়াইনস্টিন একজন আকাদেমি পুরস্কার পাওয়া নামী চিত্র প্রযোজক ছিলেন যার Miramax সংস্থা বহু নামী ও সফল সিনেমা প্রযোজনা করে। ক্রমে তিনি হলিউড এবং Academy of Motion Pictures, Arts and Science এর প্রধান কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন। তার অনুমোদন ছাড়া কোন নতুন অভিনেত্রী এবং অভিনেত্রীরা কোন নতুন চলচ্চিত্রে সুযোগ পেতেন না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি হলিউড এর সুন্দরী নায়িকা ও অভিনেত্রীদের ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি করতেন। পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত ধনী, মার্কিন সমাজের একজন কেউকেটা, দানশীল সমাজকর্মী, ডেমোক্রেট দলের পৃষ্ঠপোষক এবং বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ট ছিলেন।

১৯৭০ এর দশক থেকে প্রায় ৪০ বছর ধরে এই কুকর্ম করে আসছিলেন। তার প্রবল প্রতাপ এবং নিজেদের অসহায়তা ও সম্ভ্রমের জন্য মহিলারা কিছু বলে উঠতে পারতেন না, বললেও চাপা দিয়ে দেওয়া হত। ২০০৬ সালে তারানা বারকে মার্কিন দেশে অসহায় যৌন নির্যাতিতা ও ধর্ষিতা নারীদের নিয়ে Me Too আন্দোলন শুরু করেন। ২০১৭ তে অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী অ্যালিশা মিলানোর নেতৃত্বে Me Too আন্দোলন গতি পায়। তখন বেশ কিছু ভুবনবিজয়ী নায়িকা সহ হলিউডের ৮০ জনের বেশি অভিনেত্রী এবং বেশ কিছু মডেল Hashtag # Me Too তে নিজেদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। আরও অনেকেই ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। ওয়াইনস্টিন তাদের এবং অনুসন্ধান চালানো সাংবাদিকদের থামানোর জন্য ঘুষ, ভয় দেখানো, গুণ্ডা পাঠানো, ব্ল্যাক কিউব ও ক্রোল প্রভৃতি ঘাতক বাহিনী পাঠানো, প্রেসিডেন্ট অফিসের প্রভাব খাটানো সবই করেছেন। অবশেষে তিনি তিনটি ধর্ষণ এবং একটি যৌন হয়রানি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে নিউ ইয়র্কের রিকার দ্বীপ কারাগারে ১৬ বছরের দণ্ডাদেশ খাটছেন।

আর জেফ্রি এপস্টিন ছিলেন এক সুদর্শন, সপ্রতিভ, চোস্ত, মেধাবী, ধুরন্ধর অপরাধী যার প্রভাব শুধু মার্কিন নয় আবিশ্বের ক্ষমতার অলিন্দে গমগম করত। ব্রিটিশ সোশালাইট ঘিসলাইনো ম্যাক্সওয়েল, নরওয়ের রাজকুমারী মেতে মারিট, ব্রিটিশ রাজপুত্রের স্ত্রী সারা ফার্গুসন প্রমুখরা তার প্রেমে মুগ্ধ ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, এন্ড্রু মাউন্টব্যাটন, ইহুদ বারাক প্রমুখ ক্ষমতাধর লম্পটরা তার সহযোগী ছিলেন। বিল গেটস, মাইকেল জ্যাকসন, ল্যারি সামার্স, সৌদি রাজকুমার প্রমুখরা তার উপভোক্তা ছিলেন। নোম চামোস্কি প্রমুখেরা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।

মেধাবী ছাত্র ও সংগীত শিল্পী এপস্টিন ডিগ্রি অর্জন না করেই নামী স্কুলে পড়িয়েছেন। শেয়ার বাজার এর দালালি ও আর্থিক উপদেষ্টার কাজ করে প্রচুর সাফল্য পান এবং অত্যন্ত ধনী হয়ে ওঠেন। বেয়ার স্টার্ন, আই পি জি ইত্যাদি সংস্থা হয়ে নিজেই খুলে বসেন জে স্টিন অ্যান্ড কোম্পানি। এর পাশাপাশি চালান বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রের হয়ে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক কার্যকলাপ এবং সেই সূত্রে বিভিন্ন দেশের ক্ষমতাসীনদের পরিচিত হয়ে ওঠেন। এর সঙ্গে চলতে থাকে তার নারী হরণ, নারী সম্ভোগ, নারী পাচার এবং অত্যাধুনিক পতিতালয় চালানো।

তিনি মেইন ল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও সেন্ট টমাস দ্বীপ প্রভৃতি জায়গায় তার নিজের এবং ক্ষমতাসীন দের যৌনাচার এবং ভোগের চূড়ান্ত ব্যবস্থা করেন। লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ কিনে সেখানে গড়েন পাপের ভূস্বর্গ। বহু বিমান কেনেন বা ভাড়া নেন তার এই কুকর্মে যার একটি বোয়িং ৭২৭ এর নাম দেন নবোকভের যৌন উদ্দীপক উপন্যাস ‘ লোলিটা ‘ র নামে লোলিটা এক্সপ্রেস। তার লক্ষ্য থাকত সদ্য কৈশোর প্রাপ্ত নাবালিকাদের প্রতি। বিভিন্ন স্কুল ও অনাথ আশ্রমে টোপ ফেলে তিনি তাদের সংগ্রহ করতেন। এছাড়াও রাশিয়া, সুইডেন, ইউক্রেন প্রভৃতি জায়গা থেকে সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে আসতেন। একবার তার খপ্পরে পড়লে তার হাত থেকে কেউ বেরোতে পারতোনা। তার কড়া নজরদারি নেটওয়ার্কের মধ্যে এই নাবালিকা ও তরুণী রা প্রতিনিয়ত হিংস্র যৌন পীড়ন ও অত্যাচারের শিকার হত।

তিনি ধূর্ততার সঙ্গে পিন হোল ক্যামেরার মাধ্যমে তার উপভোক্তাদের ও নাবালিকাদের প্রতিটি মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছবি তুলে রাখতেন। প্রত্যেকের সঙ্গে কথোপকথন ই মেলের মাধ্যমে নথিভুক্ত করে রাখতেন এবং উভয়কেই ব্লাকমেইল করে নিজের তালু বন্দী করে রাখতেন। প্রভাবশালীদের নানা কাজে লাগাতেন এবং তাদের থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করতেন। এরকম ছয় লক্ষ ফাইল, দু হাজার ভিডিও ও ১৮ লক্ষ ছবি এখন অবধি পাওয়া গেছে।

একটি একটি করে ৩৫ জন নাবালিকা ২০০৫ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচ পুলিশ স্টেশনে এপস্টিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। এরপর তদন্ত হয়ে প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও ২০০৮ সালে তার মাত্র ১৩ মাসের জেল হয়। বেরিয়ে এসে প্রভাব খাটিয়ে তার যৌন ব্যবসা বাড়িয়ে তোলেন। ২০১৮ তে আবার ৮০ জন নাবালিকার অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিক জুলি ব্রাউনের সক্রিয়তায় ২০১৯ সালে তার আবার কারাদণ্ড হয়। ঐ সময়েই ম্যানহাটন কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সরকারিভাবে আত্মহত্যা বললেও অনেকে মনে করেন তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে তাকে খুন করা হয়, অনেকে মনে করেন আসল এপস্টিন কে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

২০২৪ এর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় এপস্টিন ফাইলগুলি সামনে এসে। ডেমোক্র্যাট রা মনে করেছিলেন ট্রাম্পের নানা কুকীর্তি বেরিয়ে তিনি কুপোকাত হবেন। আগেই বহু যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ট্রাম্পের জয় তো আটকায় নেই, তার কোন হেলদোলও নেই। বরং বেশ কিছু ডেমোক্র্যাট কেউকেটা ফেঁসে গেছেন। তবে ইউরোপের দেশগুলি এপস্টিন কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভারতেরও বেশ কিছু প্রভাবশালীর নাম এপস্টিন ফাইলে প্রকাশিত হয়েছে। আগামী দিনে হয়তো আরও কিছু নাম বেরিয়ে আসবে। ভারত সরকার কি ব্যবস্থা নেন সেটি দেখার। হিংস্র শিকারী খাদক এপস্টিনের শিকার হাজারের বেশি নাবালিকা। তাদের অনেকের জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকজন মারা গেছেন। বাকিরা প্রবল মানসিক ক্ষত নিয়ে এখন জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে নানা কারণে সামনে আসেন নি। যারা ঝুঁকি নিয়ে সাহস করে সামনে এসেছিলেন তারাই বা কি বিচার পান সেটাও দেখার।

১৭.০২.২০২৬

PrevPreviousন্যায়বিচারকে আটকে রাখার অপচেষ্টা চলবে না।
Nextআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

আমরা চলমান বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি

February 22, 2026 No Comments

তাইওয়ান প্রণালী (Taiwan Strait): এই মুহূর্তে রণাঙ্গনের সবচাইতে উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল দিয়ে শুরু করি। চিনের (People’s Republic of China বা PRC) পূর্ব উপকূলের ফুজিয়ান প্রদেশের তটরেখা

“মোদের গর্ব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা”

February 22, 2026 No Comments

আজকে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস । আজকের দিনটি আমাদের ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করে । মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার যাদের রক্তে রক্তিম হয়েছিল

ইচ্ছা মৃত্যু বা মৃত্যুর ইচ্ছা

February 21, 2026 No Comments

মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম ইচ্ছা মৃত্যুর বর পেয়েছিলেন। ঐ রকম মহাবীর, ঐ রকমের প্রগাঢ় প্রজ্ঞা, ঐ অকল্পনীয় আত্মত্যাগ; তবুও শেষ বয়সে কি গভীর পরিতাপ নিয়ে বেঁচে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

February 21, 2026 No Comments

স্বাস্থ্যের বৃত্তে-ডক্টরস ডায়লগ-প্রণতি প্রকাশনীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার বিকাল ৪ঃ০০ টা থেকে, সুবর্ণ বণিক সমাজ সভাগৃহে। ১। অভয়া আন্দোলন: অভয়ার বিচার

ন্যায়বিচারকে আটকে রাখার অপচেষ্টা চলবে না।

February 20, 2026 No Comments

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বহুচর্চিত আর্থিক দুর্নীতি মামলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা আজ আর “প্রশাসনিক জটিলতা” বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। এটি স্পষ্টতই

সাম্প্রতিক পোস্ট

আমরা চলমান বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি

Dr. Gaurab Roy February 22, 2026

“মোদের গর্ব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা”

Medical College Kolkata Students February 22, 2026

ইচ্ছা মৃত্যু বা মৃত্যুর ইচ্ছা

Dr. Dayalbandhu Majumdar February 21, 2026

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

Doctors' Dialogue February 21, 2026

হার্ভি ওয়াইনস্টিন থেকে জেফ্রি এপস্টিন: হিংস্র শিকারী খাদকরা (Predators) আধুনিক মানব সমাজেও রয়ে গেছে

Bappaditya Roy February 21, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

610799
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]