আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বের সবচাইতে বড় প্রদর্শনী অলিম্পিক্স কে ছাপিয়ে গেছে বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় ক্রীড়া ফুটবলের বিশ্বকাপ। যার জন্য বিশ্বের অজস্র অনুরাগী প্রতি চারবছর ধরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। বিশ্বের ২২ টি দেশ এখন অবধি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে। ২০০২ এ প্রথম জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আয়োজন করে। এবার ২০২৬ এ আয়োজন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা তিনটি দেশ মিলে ১৬ টি শহরে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১১, মেক্সিকো ৩ ও কানাডা ২)। এরআগে মেক্সিকো ১৯৭০ ও ১৯৮৬ তে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪ তে এককভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করেছিল। ১৯ জুন ২০২৬ মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান এবং মেক্সিকো – দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন হয়। ১৯ জুলাই ফাইনাল হল নিউ ইয়র্ক – নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে।
১৯৩০ থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে ২০২৬ এর বিশ্বকাপের আগে অবধি মাত্র আটটি দেশ বিজয়ী হতে পেরেছে। ব্রাজিল পাঁচ বার, জার্মানি ও ইতালি চার বার করে, আর্জেন্টিনা তিন বার, উরুগুয়ে ও ফ্রান্স দুবার করে এবং ইংল্যান্ড ও স্পেন এক বার করে। প্রাক্তন ফুটবল ফেডারেশন সভাপতির নামে ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ অবধি চ্যাম্পিয়ন ট্রোফি টিকে বলা হত জুলে রিমে ট্রোফি। ১৯৫৮, ‘৬২ ও ‘৭০ এ তিনবার জিতে ব্রাজিল চিরকালের জন্য এটির অধিকারী হয়। তারপর থেকে নতুন ট্রোফি টির নাম হয় ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রোফি। ইভেন্ট টির নাম হয় ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ‘। স্প্যানিশে ‘কোপা মুন্ডিয়াল ডি লা ফিফা ‘ এবং ফ্রেঞ্চ এ ‘কুপে দু মুণ্ডে ডি লা ফিফা ‘।
এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৮। তার মধ্যে এশিয়া – অস্ট্রেলেশিয়া অঞ্চল থেকে (নিয়ামক সংস্থা: AFC) নয়টি দেশ, আফ্রিকা থেকে (CAF) ১০ টি দেশ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে (CONCACAF) ছয়টি দেশ, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে (CONMEBOL) ছয়টি দেশ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে (OFC) একটি দেশ এবং ইউরোপ থেকে (UEFA) ১৬ টি দেশ বিশ্বকাপ নির্ধারক আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। ইতালির মত ফুটবলের মহাশক্তি এবার নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে নি। আঞ্চলিক নিয়ামক সংস্থা গুলি ফিফার অধীন এবং সহযোগী। ফিফা (FIFA) পুরো কথাটা ‘ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন‘। ১৯০৪ এ প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার বর্তমান সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ড এর জুরিখে। এই ধনী সংস্থার বর্তমান সম্পদ ৬,৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৩ – ‘২৬ বিশ্বকাপ পর্যায়ে প্রকল্পিত রাজস্ব ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফিফার সর্বোচ্চ নিয়ামক কাঠামো ফিফা কংগ্রেস ২১১ টি সদস্য দেশের প্রতিনিধি সম্বলিত। এছাড়াও কর্মসূচি রূপায়ণের জন্য রয়েছে ফিফা কাউন্সিল, জেনারেল সেক্রেটারিয়েট সহ বিভিন্ন বিভাগ। ২০১৬ থেকে ফিফার প্রেসিডেন্ট রয়েছেন বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী সুইস – ইতালিয়ান জিয়ানি ইনফানতিনো।
ফিফা আয়োজিত এই বিশ্বকাপে তিন আয়োজক দেশের রাষ্ট্র প্রধানের উপস্থিতিতে করা লটারিতে ৪৮ টি দেশ নিম্নলিখিত ১২ টি গ্রুপে বিভক্ত হয়:
(১) গ্রুপ ‘ এ ‘ : মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র
(২) গ্রুপ ‘ বি ‘ : কানাডা, সুইজারল্যান্ড, বসনিয়া অ্যাণ্ড হার্জেগোভিনা ও কাতার
(৩) গ্রুপ ‘ সি ‘ : ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি
(৪) গ্রুপ ‘ ডি ‘: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া প্যারাগুয়ে ও তুরস্ক
(৫) গ্রুপ ‘ ই ‘ : জার্মানি, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েদর ও কুরাকাও
(৬) গ্রুপ ‘ এফ ‘ : দ্যা নেদারল্যান্ডস, জাপান সুইডেন ও তিউনিশিয়া
(৭) গ্রুপ ‘ জি ‘ : বেলজিয়াম, ইজিপ্ট, ইরান ও নিউজিল্যান্ড
(৮) গ্রুপ ‘ এইচ ‘ : স্পেন, কেপ ভার্দে, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব
(৯) গ্রুপ ‘ আই ‘ : ফ্রান্স, নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাক
(১০) গ্রুপ ‘ জে ‘ : আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান
(১১) গ্রুপ ‘ কে ‘ : কলম্বিয়া, পর্তুগাল, ডি আর কঙ্গো ও উজবেকিস্তান
(১২) গ্রুপ ‘ এল ‘ : ইংল্যান্ড, ঘানা, ক্রোয়েশিয়া ও পানামা
এবারের বিশ্বকাপের নতুনত্ব ছিল: (১) দুই অর্ধের মাঝামাঝি তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক, (২) প্রতি ম্যাচে সর্বাধিক পাঁচ জন পর্যন্ত খেলোয়াড় পরিবর্তনে (অতিরিক্ত সময় খেলা চললে সর্বাধিক ছয় জন) সময় হ্রাস (সর্বাধিক ১০ সেকেন্ড), (৩) গোল কিক, থ্রো ইনে সময় নষ্ট আটকানো (পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে), (৪) কোন খেলোয়াড় মাঠের মধ্যে আহত বা অসুস্থ হলে দ্রুত মেডিকেল টিমের মাধ্যমে মাঠের বাইরে শুশ্রূষার জন্য নিয়ে যাওয়া এবং মাঠে ফেরার ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক মিনিট গ্যাপ রেখে ফেরা, (৫) নিখুঁত সিদ্ধান্তের জন্য VAR (Video Assistant Referee) এর পরিধি বৃদ্ধি, (৬) লিপ রিডিং আটকে মুখ ঢাকা দিয়ে প্রতিপক্ষ কে অপশব্দ বলার ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ ইত্যাদি।
এবার অ্যাডিডাস এর যে ট্রিয়ন বলে খেলা হচ্ছে তাতে মাইক্রোচিপ লাগানো থাকছে ম্যাচের সূক্ষ্মতম গতিবিধি জানার জন্য। বলগুলিতে হাওয়া দেওয়ার পরিবর্তে ৯০ মিনিট ধরে ওয়ারলেস চার্জে বসাতে হয়। ঐ বলে টানা ছয় ঘন্টা খেলা সম্ভব। খেলোয়াড়দের বুট সরবরাহকারী নাইকে, অ্যাডিডাস এবং পুমা বৃহৎ ক্রীড়া সরঞ্জাম সংস্থাগুলি সুস্পষ্ট টেলি সম্প্রচারের জন্য সমস্ত বুটের রঙ গোলাপি করে দিয়েছে।
এবার টুর্নামেন্টের প্রধান স্পনসর অ্যাডিডাস, অ্যারামকো, কোকা কোলা, হুন্ডাই কিয়া, লেনোভো, কাতার এয়ারওয়েজ, ভিসা এবং আরও অনেক বহুজাতিক কর্পোরেট সংস্থা এবং টুর্নামেন্ট জুড়ে এদের প্রবল দাপট। স্টেডিয়ামে র মধ্যে কেবল কোকা কোলা, ম্যাকডোনাল্ডস, লেস প্রমুখ স্পনসর সংস্থাই খাদ্য পানীয় বিক্রি হচ্ছে এবং সর্বত্র তাদের লোগো ও প্রচার।
প্রতিটি গ্রুপে প্রত্যেক দেশের মধ্যে খেলা হয়েছে অর্থাৎ প্রত্যেক দেশ কে তিনটি করে ম্যাচ খেলতে হয়েছে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন নির্ধারিত শহরের নির্ধারিত স্টেডিয়ামে। প্রতি গ্রুপে ছয়টি করে মোট ৭২ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জিতলে তিন পয়েন্ট, ড্র করলে এক পয়েন্ট, হারলে শূন্য এইভাবে গ্রুপ এ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারিত হয়েছে। এরপরও কোন দুটি দলের পয়েন্ট সমান হলে গোল পার্থক্য দেখা হয়েছে। তারপরও পয়েন্ট সমান হলে কোন দলের কতজন হলুদ ও লাল কার্ড কতবার দেখেছেন ইত্যাদি সূচক দেখার সিদ্ধান্ত ছিল।
গ্রুপ লীগে বেশ কিছু অঘটন ঘটেছে। ইকোয়েদর জার্মানিকে পরাজিত করেছে এবং ইজিপ্ট বেলজিয়ামের সঙ্গে, কেপ ভার্দে স্পেন ও উরুগুয়ের সঙ্গে, ডি আর কঙ্গো ও কলম্বিয়া পর্তুগালের সঙ্গে, ঘানা ইংল্যান্ডের সঙ্গে এবং জাপান দ্য নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র করেছে। সেনেগাল ফ্রান্সকে একটি ও নরওয়েকে দুটি, জর্ডান আর্জেন্টিনাকে একটি এবং মরক্কো ব্রাজিল কে একটি করে গোল দিতে সক্ষম হয়েছে। বড় দলের মধ্যে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা ধারাবাহিকভাবে সফল। স্টারদের মধ্যে সফল মেসি, হালান্ড, এম ‘ বাপে, দেম্বেলে প্রমুখ। এরমধ্যে হ্যাটট্রিক সহ প্রতি ম্যাচে গোল সহ ছয়টি গোল দিয়ে মেসি গ্রুপ লিগে সর্বাধিক গোলদাতা। খেলছেনও সারা মাঠ জুড়ে ফুল ফুটিয়ে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া – আলজিরিয়া ৩ – ৩ ড্র এর ম্যাচ ফিক্সিং করে ইরানকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। ৯১ মিনিটে দ্যাভিশন সানচেজের হেডে পর্তুগালের বিরুদ্ধে করা গোল বাতিল করে কলম্বিয়া কে পরাজিত করার অভিযোগ উঠেছে। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ভিনিসিয়াসের গোল বাতিল করা নিয়েও রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকেছে।
এবার প্রতিটি গ্রুপ থেকে প্রথম স্থানাধিকারী দুটি দল নিয়ে ২৪ টি দল এবং ১২ টি গ্রুপের থেকে প্রথম আটটি তৃতীয় দল মোট ৩২ টি দল পরবর্তী নক আউট পর্যায়ে পৌঁছেছে। যে ৩২ টি দল পরবর্তী নক আউটে পৌঁছেছে তারা হল: (১) মেক্সিকো, (২) দক্ষিণ আফ্রিকা, (৩) সুইজারল্যান্ড, (৪) কানাডা, (৫) বসনিয়া অ্যাণ্ড হার্জেগোভিনা, (৬) ব্রাজিল, (৭) মরক্কো, (৮) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, (৯) অস্ট্রেলিয়া, (১০) প্যারাগুয়ে, (১১) জার্মানি, (১২) আইভরি কোস্ট, (১৩) ইকুয়েদর, (১৪) দ্যা নেদারল্যান্ডস, (১৫) জাপান, (১৬) সুইডেন, (১৭) বেলজিয়াম, (১৮) ইজিপ্ট, (১৯) স্পেন, (২০) কেপ ভার্দে, (২১) ফ্রান্স, (২২) নরওয়ে, (২৩) সেনেগাল, (২৪) আর্জেন্টিনা, (২৫) অস্ট্রিয়া, (২৬) আলজিরিয়া, (২৭) কলম্বিয়া, (২৮) পর্তুগাল, (২৯) ইংল্যান্ড, (৩০) ক্রোয়েশিয়া, (৩১) ঘানা এবং (৩২) ডি আর কঙ্গো।
নক আউট পর্ব থেকে আরম্ভ হল আসল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ৩২, ১৬, ৮, ৪, ২ মোট পাঁচটি নক আউট পর্যায়। ম্যাচ ড্র হলে অতিরিক্ত সময়, তাতেও না হলে ট্রাই ব্রেকার, তাতেও না হলে সাডেন ডেথ যতক্ষণ না কেউ জিতছে। ম্যাচের ক্লান্তি, চোট আঘাত, বিস্তর ট্রাভেল, এতদঞ্চলের আবহাওয়া ইত্যাদির মধ্যে, মানসিক শক্তি ও খেলার ফর্ম ধরে রেখে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আটটি ম্যাচ খেলে তারপর ফাইনালে পৌঁছনো খুব কঠিন ব্যাপার।
৩২ এর নক আউটে রুদ্ধশ্বাস একেকটি ম্যাচে কানাডা ১ – ০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে, ব্রাজিল ২ – ১ গোলে জাপানকে, প্যারাগুয়ে ৫ – ৪ গোলে জার্মানিকে, মরক্কো ৪ – ৩ গোলে দ্য নেদারল্যান্ডসকে, নরওয়ে ২ – ১ গোলে আইভরি কোস্টকে, ফ্রান্স ৩ – ০ গোলে সুইডেনকে, মেক্সিকো ২ – ০ গোলে ইকুয়েদরকে, ইংল্যান্ড ২ – ১ গোলে ডি আর কঙ্গোকে, বেলজিয়াম ৩ – ২ গোলে সেনেগালকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২ – ০ গোলে বসনিয়াকে, স্পেন ৩ – ০ গোলে অস্ট্রিয়াকে, পর্তুগাল ২ – ১ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে, সুইজারল্যান্ড ২ – ০ গোলে আলজিরিয়াকে, ইজিপ্ট ৫ – ৩ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে, আর্জেন্টিনা ৩ – ২ গোলে কেপ ভার্দেকে এবং কলম্বিয়া ১ – ০ গোলে ঘানাকে পরাজিত করে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। এর মধ্যে কিছু নির্ধারিত সময়ে, কিছু অতিরিক্ত সময়ে, কিছু ট্রাইব্রেকারে এবং প্যারাগুয়ে – জার্মানি ম্যাচটি সাডেন ডেথে মীমাংসা হয়।
বহু অঘটনই ঘটে যায় যেমন ফুটবল দৈত্য জার্মানি ও দ্য নেদারল্যান্ডস এর পরাজয় ও বিদায় এবং প্যারাগুয়ে ও মরক্কোর জয়। আইভরি কোস্ট, ডি আর কঙ্গো, সেনেগাল আগে গোল দিয়ে দুর্দান্ত খেলে জিতে থেকেও অভিজ্ঞতার অভাবে শেষে হেরে যায়। মেসি, এম ‘ বাপে, হালান্ড, ভিনিশিয়াস, কেন যথারীতি গোলের মধ্যে থাকেন। ফ্রান্সের ওলিজে, বারকোলা, দুয়ে নতুন নায়ক হিসাবে উঠে আসেন। প্যারাগুয়ে ও কঙ্গোর গোলরক্ষক গিল ও পাসি অবিশ্বাস্য সব সেভ করেন, যেমন প্রশংসিত হন কেপ ভারদের বর্ষীয়ান গোলরক্ষক জোজিনহো। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে সেনেগালের বিরুদ্ধে পেনাল্টি দিয়ে বেলজিয়ামকে এবং অফ সাইডের অভিযোগে ক্রোয়েশিয়ার তিনটি গোল বাতিল করে এবং একটি পেনাল্টি দিয়ে সি আর সেভেনের পর্তুগালকে জেতানোর অভিযোগ আসে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মেসির গোলটিও ছিল অফসাইড থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর এই গরমে এতদিন ধরে এতগুলি ম্যাচ খেলার ধকল খেলোয়াড়দের মধ্যে চোখে পড়ে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে যখন আধুনিক ক্রীড়ার এই মহাযজ্ঞ চলছে তখন বিশ্বজুড়ে এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর নেতৃত্বেই চলছে বিভিন্ন আঞ্চলিক যুদ্ধ, শুল্ক যুদ্ধ এবং চরম রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অস্থিরতা। রাশিয়া – ইউক্রেন, মার্কিন – ইরান, ইজরায়েল – হেজবোল্লা, পাকিস্তান – আফগানিস্তান, মায়ানমার, আফ্রিকার সাব – সাহারান ও সাহেল দেশগুলিতে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ ও গৃহযুদ্ধ চলছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের পর নতুন লক্ষ্য কিউবা। ভেনেজুয়েলা সহ বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াল সব প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ ও বিপর্যয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের witch hunting। এই বিশ্বকাপেও ইরান এবং বেশ কিছু আফ্রিকান দেশ ভিসা ইত্যাদির সমস্যায় পড়েছে।
এছাড়াও ঘটে চলেছে ব্যাপক পরিবেশ দূষণ। ১৬ টি শহরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলা চলায় প্রচুর বিমান ভ্রমণ, জ্বালানি খরচ ও দূষণ। শুধু গ্রুপের তিনটি ম্যাচ খেলতেই ইংল্যান্ড দল, সপোর্ট স্টাফ, সাংবাদিক, ফিফা অফিসিয়াল, প্রচুর সমর্থক কে ১৭২১ মাইল করে বিমান যাত্রা করতে হয়েছে। এই বিপুল কার্বন নিঃসরণ প্রচুর ক্ষতি। এছাড়াও সম্প্রচার, স্ট্রিমিং, ডেটা ফিড, বেটিং সেন্টার, ডেটা সেন্টার, স্যাটেলাইট, অসংখ্য দর্শকের যাবতীয় বৈদ্যুতিন যন্ত্র – সব কিছুতেই প্রয়োজন বিপুল শক্তির। ডিজিটাল ফুট প্রিন্ট তো দূরের কথা পরিবেশ রক্ষা নিয়ে ফিফাও বহুজাতিক বাণিজ্যিক দৈত্যদের প্রভাবে নির্বিকার।
১৬ নক আউট বা প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা – মরক্কো ম্যাচে কানাডা দ্রুতগামী ফুটবলে প্রবল আক্রমণ শুরু করে এবং অনেকগুলি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে। অভিজ্ঞ মরক্কো খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে ধীর করে দেয়। তারপর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের রাশ নিয়ে তিনটি গোল দিয়ে ৩ – ০ তে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছয়। ফ্রান্স – প্যারাগুয়ে ম্যাচে ফ্রান্সের ঢেউয়ের মত আক্রমণ প্যারাগুয়ে রক্ষণে ভিড় বাড়িয়ে রুখে দিতে থাকে। এছাড়া এম’বাপেকে কড়া ট্যাকলিং ও ফাউল করে তাঁর খেলার ছন্দ নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করে। শেষে পেনাল্টি বক্সে এম’বাপেকে ফাউল করায় ফ্রান্স একটি পেনাল্টি পায় এবং সেটি থেকে গোল দিয়ে এ’মবাপে ফ্রান্স কে ১ – ০ গোলে জিতিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেন। ব্রাজিল – নরওয়ে ম্যাচে আবার প্রমাণ হল গতানুগতিক রক্ষণভাগ আর বেশিক্ষণ বলপায়ে রেখে ধীরলয়ের ব্রাজিলের এই ফুটবল শক্তিশালী ইউরোপীয় দলগুলির শক্তিশালী রক্ষণব্যবস্থা, প্রবল শারীরিক সক্ষমতা এবং দ্রুতগামী প্রতি আক্রমণমূলক আধুনিক লক্ষ্যভেদী ফুটবলের সঙ্গে পেরে উঠছে না। একদা পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল পরপর ছয়টি বিশ্বকাপে ব্যর্থ। তাছাড়া এদিন একটি পেনাল্টি সহ গোলের প্রচুর সহজ সুযোগ তারা মিস করে। বিপরীতে নরওয়ে প্রাধান্য নিয়ে দ্রুতগামী ফুটবল খেলে। তাদের ৬’৫” দীর্ঘ তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড ম্যান মারকিং এর মধ্যেও দ্বিতীয়ার্ধে ঠাণ্ডা মাথায় দুটি চোখ জোড়ানো গোল উপহার দেন। নরওয়ের গোলরক্ষক অরজান নিল্যান্ড কয়েকটি অবধারিত গোল বাঁচান। ২ – ১ গোলে জিতে নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছয়। ইংল্যান্ড – মেক্সিকো খেলাটি প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় ও উপভোগ্য হয়। মেক্সিকো বেশ কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট করে। ইংল্যান্ডের ফিনিশিং ছিল ভাল। তারা ৩ – ২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছয়। ইংল্যান্ডের হয়ে বেলিংহাম দুটি এবং কেন একটি গোল করেন।
ফুটবলের দুই মহারথী দুই ইউরোপীয় প্রতিবেশী দেশ স্পেন ও পর্তুগালের ম্যাচ আক্রমণ প্রতিআক্রমণের তীব্র লড়াই এ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। পর্তুগালের আধিপত্য ছিল বেশি যদিও সি রোনাল্ডো এদিনও অফ ফর্মে থাকেন। শেষ মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে করা গোলে স্পেন ১ – ০ গোলে পর্তুগাল কে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায়। বেলজিয়াম – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের আগে আরেকটি কাণ্ড ঘটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো কে লাল কার্ড দেখা মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের শাস্তি তুলে নিতে বলেন। ফিফা নজিরবিহীনভাবে বালোগুনের শাস্তি তুলে নেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের দেশের মাঠে লড়াকু ফুটবল খেললেও অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী বেলজিয়াম খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং দুই অর্ধে দুটি করে গোল করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কে ৪ – ১ এ হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পোঁছয়। চোটের জন্য সুপার সাব হিসাবে খেলা বেলজিয়ামের বর্ষীয়ান স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু এদিনও একটি গোল করেন। আর্জেন্টিনা – ইজিপ্ট ম্যাচ টি ছিল সবচাইতে উত্তেজক। সালে, জিজো দের নেতৃত্বে দ্রুতগামী ফুটবল খেলে ইজিপ্ট আর্জেন্টিনার রক্ষণ কে তছনছ করে দেয়। তাদের ইব্রাহিম ও জিকো দুই অর্ধে একটি করে চমৎকার গোল দেন। ইজিপ্টের করা দ্বিতীয় গোল ভারের মাধ্যমে বাতিল হওয়ায় বিতর্ক হয়। মেসি এদিন তার এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস করেন। শেষ ১৩ মিনিট ঘুরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা তিনটি গোল করে ৩ – ২ এ ম্যাচ জিতে যায়। মেসি আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করেন। যদিও ইজিপ্ট আর্জেন্টিনার প্রথম গোল অফসাইডে এবং পেনাল্টি বক্সে সালাকে ফাউল করা সত্ত্বেও পেনাল্টি না দেওয়া নিয়ে অভিযোগ করে। কলম্বিয়া – সুইজারল্যান্ড ম্যাচে দুপক্ষের রক্ষনাত্বক কৌশলের খেলার মধ্যেও কলম্বিয়া প্রাধান্য রাখলেও গোল মিস করায় খেলা গোলশূন্য হয়ে শেষ হয়। ট্রাইব্রেকারে সুইজারল্যান্ড ৪ – ৩ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায়।
কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার উপর সম্পূর্ণ আধিপত্য রেখে ফ্রান্স ২ – ০ গোলে মরক্কো কে হারায়। প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করলেও দ্বিতীয়ার্ধে এম ‘ বাপে একটি অসাধারণ গোল করেন। তারপরেই আরেকটি চমৎকার গোল দেন দেম্বেলে। ইউরোপের দুই বড় ফুটবল শক্তি স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যে খেলা খুবই প্রতিদ্বন্দিতাময় হয়। খেলায় স্পেনের প্রাধান্য ছিল। সুপার সাব মেরিনো এদিনও স্পেনের হয়ে শেষ লগ্নে দ্বিতীয় গোল করেন। স্পেনের তরুণ তারকা লেমিনে ইয়ামাল এদিন চমৎকার খেলেন। স্পেন ২ – ১ এ বেলজিয়ামকে হারায়। নরওয়ে – ইংল্যান্ড ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আগ্রাসী দ্রুতগামী নরওয়ে কে পাওয়া যায়না। হাল্যান্ড কে ইংলিশ রক্ষণ বোতলবন্দী করে রাখে। ইংল্যান্ড ক্রমশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তথাপি শেল্ডেরুপের একটি দুর্ধর্ষ গোলে নরওয়ে এগিয়ে গিয়েছিল। দ্রুত গোল শোধ করে দেন ইংল্যান্ডের তারকা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। অতিরিক্ত সময়ে এই বেলিংহামের গোলে ইংল্যান্ড ২ – ১ গোলে নরওয়ে কে হারায়। বেলিংহাম বিশ্বকাপের নক আউট পর্যায়ে পরপর দুটি ম্যাচে জোড়া গোল করেন। আর্জেন্টিনা – সুইজারল্যান্ড ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ১ – ১ থাকায় অতিরিক্ত সময় গড়ায়। ঐ সময় দুই গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা ৩ – ১ এ সুইজারল্যান্ড কে পরাজিত করে। এদিনও আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি নিয়ে সুইজারল্যান্ডের অভিযোগ থাকে। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে স্পন্সরদের চাপে এবং বাণিজ্যের স্বার্থে ফিফা মেসি ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে পক্ষপাতিত্ব করে চলেছে।
এই বিশ্বকাপের সেরা দুই দল ছিল ফ্রান্স এবং স্পেন, তার মধ্যে এম‘বাপে, দেম্বেলে, ওলিসে সম্বলিত ফ্রান্স ছিল বেশি ওজনদার। কিন্তু ফ্রান্স – স্পেন সেমিফাইনালে উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, মার্ক কুকুরেলা, ফ্যাবিয়ান রুইজ, রদ্রি, ল্যামিনে ইয়ামল, মাইকেল ওয়াজারজাবাল রা এম‘বাপেদের বোতলবন্দী করে এবং ছোট ছোট দ্রুত পাশ, দ্রুত জায়গা বদল এবং দ্রুত প্রতিআক্রমণের তিকিতাকা ফুটবল খেলে ফ্রান্সকে নাস্তানাবুদ করে দিল। দিদিয়ের দে‘শ কে রণকৌশলে টেক্কা দিলেন লুই দে লা ফুয়েন্তা। প্রথমার্ধে পেনাল্টিতে করা একটি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে যৌথ আক্রমণ থেকে করা আরেকটি গোলে ফ্রান্সকে ২ – ০ গোলে হারিয়ে স্পেন ফাইনালে উঠল।
অপর সেমিফাইনালে নিস্তরঙ্গ প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের প্রাধান্য ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি দ্রুতগামী আক্রমণে ইংল্যান্ড একটি চমৎকার গোল করে এগিয়ে যায়। এরপর আর্জেন্টিনা গোল করার জন্য ইংল্যান্ডের অর্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইংল্যান্ড অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হওয়ায় তাদের সুবিধা হয়ে যায়। ইনসাইডে এতক্ষণ বোতলবন্দী থাকা মেসি এবার রাইট উইঙ্গারের পজিশনে চলে গিয়ে বল নিয়ে ড্রিবলিং করতে করতে ইংল্যান্ড রক্ষণের বাম দিক থেকে একের পর এক মাপা পাশ আর ক্রশ বাড়াতে থাকেন। তার থেকে ফারনান্দেজ এবং মারতিনেজ চমৎকার শট ও হেডে দুটি গোল করে ইংল্যান্ড কে ২ -১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে যান।
তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ণয়ের খেলায় গোলের ফুলঝুরি বয়ে যায়। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড চার গোল দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে তারা আরও দুটি এবং ফ্রান্স চারটি গোল দেয়। ইংল্যান্ড ৬ – ৪ গোলে জেতে। ইংল্যান্ডের তরফে সাকা হ্যাট্রিক করেন এবং রাইস, কোন্সা ও বেলিংহাম একটি করে গোল করেন। কেনকে এই ম্যাচে খেলানো হয়নি। ফ্রান্সের পক্ষে এম ‘ বাপে দুটি এবং বারকোলা ও দেম্বেলে একটি করে গোল দেন।
ফাইনালে ভরা স্টেডিয়ামের সামনে ঝলমলে রোদে প্রথমার্ধ আক্রমণ প্রতিআক্রমণে উপভোগ্য হলেও ছিল গোলশূন্য। স্পেনের প্রাধান্য এবং বল পজেশন অনেক বেশি ছিল। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠ ও রক্ষণ মেসিদের নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল এবং ফরওয়ার্ডের একের পর এক পাশ বাড়াচ্ছিল। কিন্তু স্পেনের ফরওয়ার্ডরা গোলমুখে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ভিড়ে ঠিকমত শট নিতে পারছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন আর্জেন্টিনাকে আরও চেপে ধরল। আর্জেন্টিনার অর্ধে পেনাল্টি বক্সে ও আশেপাশে খেলা হচ্ছিল। কিন্তু কিছুতেই স্পেন গোল দিতে পারছিল না। আর্জেন্টিনার গোলকিপার ইমিলিয়ানো মারতিনেজ পাহাড়ের মত গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে একের পর এক গোল বাঁচিয়ে গেলেন। অতিরিক্ত সময়েও স্পেনের একচ্ছত্র প্রাধান্য এবং অবিশ্বাস্য সব গোল মিস। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ১০৬ মিনিটে অবশেষে এক চমৎকার যৌথ মুভ থেকে জোরালো শটে পরিবর্ত খেলোয়াড় এফ. টোরেস স্পেনের হয়ে গোল করলেন। স্পেন ১ – ০ তে বিজয়ী হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হল। এই হাই টেনশনের ম্যাচ রেফারি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করলেন। স্পেনের মিডফিল্ডার ক্যাপ্টেন রদ্রি ফাইনালের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হলেন।
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসাবে মেসি গোল্ডেন বল পেলেন। সরবোচ্চ ১০ টি গোল করে ফ্রান্সের এম ‘ বাপে সোনার বুট পেলেন।
সব মিলিয়ে অবশ্যই ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ছিল ঘটনাবহুল।
২০.০৭.২০২৬










