কথার গভীরতা মাপতে গিয়ে কবে যে গভীর জলের মাছ হয়ে গেছি, সে সবের কিছুই আর মনে পড়ে না। খুঁজি, আর অনুভব করি, এই সব পূর্ব কোনও জন্মের কথা প্রায়। ঝাপসা বৃষ্টির ছাঁটে ঢেকে থাকা জলজ কোনও অতীত হয়তো – জন্মান্তরে অবিশ্বাসী নিভৃত মানব যাকে পূর্বজন্ম বলে মানে।
শহরের রাস্তায় পোড়া তেলের সঙ্গে মিশে যায় বৃষ্টির জল, যেমন করে স্নিগ্ধ প্রেম ধুয়ে যেতে থাকে বিতৃষ্ণায়। প্রেমময় বাণীর ‘পরে ঝরতে থাকে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত। শান দেওয়া আঁশবটির অনতিদূরে আমরা ধুয়েমুছে রাখি একান্ত নিজস্ব আঁশ – আর পাঁচ নম্বর শ্যানেল আমাদের নিরন্তর ভরসা জোগায়, মৎস্যগন্ধী এই আমরা হয়ে উঠব আশ্চর্য মায়াবী।
এসব কথা তোমাদের বলেছি অনেকবার। বাকিদের মতো, তোমরাও, বিশ্বাস করোনি। স্বাভাবিক। কালো পুকুরের জলে ভেসে থাকা মাছেদের লাশ দেখে তোমরা ভেবেছ, এ আর এমন কী! তার পর বৃষ্টি নেমেছে জোর। ধুয়ে যাওয়া পাতার সবুজ যতো চকচক করে, তোমরাও ততোধিক উৎসাহে ফুলিয়ে নাও নিজস্ব স্বেদময় ত্বক। সাজিয়ে রেখেছ, সযত্নে, তোমাদেরই আঁশ।
তার পর। তত্বের ডালায় চেপে অন্য কোনও আস্তানা খুঁজে পাওয়া। যে উৎসব তোমার নয়, তারপরও। এটুকুই।
(ছবি : যোগেন চৌধুরী










