★
শুনুন তবে, সত্যি একটা গল্প বলি,
বৃষ্টি এলো, যদিও… খুব মেঘ ছিল না
কিম্বা হয় তো ঘনিয়েছিল শহরতলি
মোটমাট সেই বৃষ্টি তখন শহর জুড়ে…
মাথার ওপর ছাদ ছিল না, কী অক্লেশে…
তাই ভিজলাম, বৃষ্টিও খুব আশ্লেষে সে
অসঙ্কোচে জড়িয়েছিল আমার আঙুল
বিনা দ্বিধায় উড়িয়ে দিল তার নিজেরই
ওষ্ঠলগ্ন সিগারেটের ধোঁয়ার মত।
এটাও সত্যি, বৃষ্টি জানত তুষার ক্ষত
স্বেচ্ছাচার আর ভালোবাসার নখরাবাজি।
বজ্র আঘাত ভাসিয়ে দিয়ে ভয়েস ক্লিপে
বৃষ্টি দেখছে, মনের মতন পুড়ছি কি না!
হ্যাঁ, পুড়েছি। এবং তীব্র পোড়ার পরেও
আর একবার আকুল হয়ে ভাবছি আসুক…
বৃষ্টি আসুক, ভেজাক আবার লজ্জাহীনা।
★
★
কী ভাবে কোথায় কোন অজুহাতে
করেছিল বিভ্রান্ত…
কবে নেমেছিল গোপন বৃষ্টি
সারাটা পৃথিবী জানত…
সে বৃষ্টি কণা কাকে যে তখন
দিচ্ছিল সান্ত্বনা…
আমি জানলেও, অবাক ব্যাপার
সে স্বয়ং জানত না।
সান্ত্বনা? নাকি পোড়াচ্ছিল সে?
দহনে ও শুশ্রূষায়…
কতটা তফাত মরুভূমিতে কি
ঠিকঠাক বোঝা যায়?
পুড়িয়েছে? নাকি আদর দিয়েছে?
বৃষ্টি কণাটি দ্বিধায়!
উবে যাওয়া তার চাইতে সহজ…
সত্যিই তার কী দায়?
করিনি গ্রাহ্য কতটা দাহ্য
প্ররোচনা জলকণায়
সে যাই হোক গে, রোগে আরোগ্যে
আজও বুকে… মেঘ ঘনায়।
★
সবার কথা তুচ্ছ করে যত্রতত্র ছড়াই খুশি।
ভালোবাসার পায়ে পরাই তুচ্ছ নূপুর… ছেলেমানুষি।
বৃষ্টি তোমায় খুঁজতে খুঁজতে বজ্রবাহন মেঘের কাছে
গিয়েছিলাম। পাইনি খুঁজে সেই কথাটা সাত কাহনে বলেওছি তো।
সবাই শুনে ঠাট্টা করল। কেউ বলল নিছক বাতিক…
মাথার অসুখ ঘটিয়েছিল ছেলেবেলার সান্নিপাতিক।
ছেলেমানুষি… করতে করতে এই এতদূর এগিয়ে এলাম…
সেই অর্থে… ঠিক করে আর সর্বমান্য বড় হইনি!
ভালোবাসার আকুলতায় দমবন্ধ ডুব দিয়েছি…
মরেও গেছি। তবু আমার ডোবার নেশা কাটতে চায় না।
এই যে আমার ছেলেমানুষি। এই যে আমার সকল বায়না
তোমার দিকে ধাবিত। আর তুমিও আমায় ভুল বুঝেছ…
ষড়যন্ত্রের গোপন ঘরে ভাবলে সর্বনাশকে পুষি…
এর পুরোটাই আত্মদহন… এর পুরোটাই ছেলেমানুষি!
★
রেজোলিউশন
★
একদিন নয় একদিন ঠিক… বৃষ্টি পাবে এই সাহারা!
মনের ভুলেও ঘুমের ভেতর এমন স্বপ্ন পায় কাহারা?
তেপান্তরের ভুল হদিশে
স্বপ্নগুঁড়ো যাচ্ছে মিশে…
ধরার যারা ধরতে পারি ভালোবাসার সেই পাহারা!
একদিন নয় একদিন ঠিক তোমার সঙ্গে দেখা হবে
সংসারের এই ক্লান্ত ভিড়ে, যখন তুমি একা হবে…
বলব তোমায় ফিসফিসিয়ে
তুমিই কি সেই গোপন ইয়ে…?
ব্যর্থ পরীক্ষাদের শেষে, তুমিই কি ইউরেকা হবে?
অপেক্ষাতে ফুরোয় আয়ু, এই কথাটা ঠিক অবশ্য!
দীর্ঘশ্বাস ফেললে লোকে ভাবছে ওটা নিছক হ্রস্ব।
তবুও জানি শেষের দিকে
নিজের হাতেই রাখবে লিখে,
এই কাহিনির অন্তিমে যে মোচন হবে সব রহস্য!
★
বৃষ্টির ছবি
___________
তবু তোর ছবি আঁকছি দেওয়ালে, কী আশ্চর্য!
অথচ জানিই… তোকে ভাবা আজ খুব নিষিদ্ধ!
কথা না মানলে অভিভাবক যে হবেন ক্রুদ্ধ
খবর পেয়েও কেন আমি ফের সাহস-বিদ্ধ?
আকাশের মেঘপুঞ্জ দেখছি খুব বেলেল্লা!
অবশ ফোঁটায় একশ রকম বৃষ্টি জেল্লা
ছিটিয়ে দিচ্ছে। দিতেও থাকবে দিকদিগন্তে।
প্রায় হেরে যাওয়া যুদ্ধ দেবেই বাঁশের কেল্লা।
সেই বৃষ্টির ছবি টাঙালাম… মতিচ্ছন্ন…
হয় তো আবারও ঠোঁট ফোলাবে সে সেটার জন্য
সম্বোধনে কি ভুল মিশেছিল। তাই কী এখানে
নিষিদ্ধ সব গল্পে সাজল এই অরণ্য?
সব্বাই খুব লক্ষ রাখছে কোখায় মিশছে
বৃষ্টিকে এই চিনে রাখবার গোপন ইচ্ছে।
★
আবহ সংবাদ
———————
বৃষ্টি চাওয়াটাই ছিল আজন্ম অসুখ
খুব ভিজল সেই লোকটা,
সবাইকে ডেকে ডেকে শুনিয়েছে
এই দ্যাখো ভিজে গেছি,
দ্যাখো শুধু মেঘ নয়, বৃষ্টি এলো আমার উঠোনে
বোকা লোকটা জানত না
চিরকাল যা নিয়ম,
সারাটা জীবনই
বৃষ্টি এলো বলতে নেই
বলতে হয়,
বৃষ্টি এসেছিল…
★
আয়, ঝরে পড়
★
আমি শুধু তোকে দেখি… তোকে দেখে যাই
কী রকম স্রেফ তুই আমাকে দেখিয়ে
একে তাকে প্রেম দিস, বেহায়া নিলাজ হয়ে ফোনে ফিসফিস
আড় চোখে দেখে নিস্, আমি দেখছি কি না!
তোর সে হৃদয় চিহ্ন, তুই তো জানিস,
বৃষ্টির বদলে নেমে এই খানে কাকে যে পোড়ায়
হ্যাঁ তো, দেরি হয়েইছে দেখা হতে, তোকে খুঁজে পেতে…
তাই বলে এই অশুদ্ধ মহাভারতের
প্রতিটি চ্যাপ্টার যদ্দিন না ফের লেখা হবে
তত দিন পুড়ে যাব? অথবা তা’ লেখাই হবে না?
এমনও হতেই পারত, তুইই এলি কোনও বারে আগে
সে বারেও হন্যে হয়ে, সাত বাসি তোকে
খুঁজতাম এই আমি। ঠিক কি না বল?
খোকা হোক বলে বলে… উত্তক্ত করে যে পাখিটি
ও পড়েনি সেই সব চিঠি,
যাতে লেখা আমাদের অগণিত খোকা ও খুকুতে
এ’ পৃথিবী ভরে আছে। তাদেরকে ছুঁতে
ফিরে ফিরে চলে আসি, সেই সাথে ছুঁই
নিজেদেরও।
ঈর্ষা দিয়ে হবে না খারিজ
বৃষ্টি… শোন্… রোদে পুড়ছি,
পৃথিবীতে নেমে আয় প্লিজ্…
★
আয় বৃষ্টি ঝেঁপে
______________
★
তুই দেখলি না বলে মেঘপুঞ্জ ব্যর্থ হয়ে গেল
বিজলি ঝলসেছিল? হ্যাঁ, হ্যাঁ,সে তো নিয়মমাফিক।
নৈঋত বাতাসে ছিল যথারীতি ভাঙন আভাসও
কিন্তু বৃষ্টিফোঁটা, যার জন্য এত হাপিত্যেশ
বস্তুত জীবন জুড়ে, আমাদের এ মরুপ্রদেশে,
সেই প্রত্যাশা মেটা, সত্যি কথা, যা ভাবলে দুরূহ,
মেটেইনি এক বিন্দু। মাঝপথে উবে গেছে ফের।
আর সেই ফিরে যাওয়া খুব ব্যর্থ জলের ফোঁটাটি
জনে জনে জানিয়েছে, এইখানে ভালোবাসা নেই।
নকল বিস্ফার চোখে, আদুরে সংলাপ কিছু ঠোঁটে।
শুধু সতর্কতা আছে। টোপ ফেলে মাপসই কথা।
কথা রাখবার কোনও দায়মন্ত্র ছিল না এখানে।
মেঘ চলে যেতে জানে। এই আকাশ পুনশ্চ দহনে।
তবু বলি, আয় বৃষ্টি, বুকে আয়, ধান দেব মেপে।
★
অপেক্ষা
_________
★
মেঘ-সম্মোহন ছিঁড়ে বৃষ্টি তুই এসেছিস ফের
রাত জেগে জেগে তোর অবস্থা কাহিল,
কেঁদেছিস বুঝি খুব ওর পাশে তার ছবি দেখে
আসলে আঁচলে তার বৈধ সব কাগজ রয়েছে,
প্রেক্ষাপটে থাকা দামী গাড়ির মতনই
ওরও আছে সামাজিক দায়
অনতিযুবক সেই খেলোয়াড় ছেলে…
ভালো জানে এ খেলার নাগরিক নিয়ম কানুন,
কী ভাবে কোথায় কাকে চিঠিতে ছবিতে
নিবেদন করতে হয়, প্রেম কিম্বা অন্য দক্ষিণা
( সাত ও সতেরোটি যার জানত না গ্রামীন প্রেমিক,
সে বারেও তুই কিন্তু ভেজানোর অধিকার চেয়ে…)
যাক গে সে সব কথা
এ বারেও অনিবার্য কান্না মিটে গেলে
মনে থাকে যেন বৃষ্টি,
তোর জন্য, তোরই জন্য বালি-বুক খুলে
অনন্ত তৃষ্ণা নিয়ে বসে আছে বোকা মরুভূমি…
★











