১৯৪৪ সাল। আর কয়েকদিন বাদেই নাৎসি জার্মানি-এর কবল থেকে মুক্ত হয়ে যাবে ফ্রান্স। জর্জ ব্রুহার্ট-এর দুর্ভাগ্য যে ঘটনাটা ঘটে গেল তার কিছু দিন আগেই। ব্রুহার্ট নামজাদা পদার্থবিদ, ফ্রান্সের সবচেয়ে নামকরা কলেজ ইকোল নর্মাল-এর প্রশাসনিক প্রধান তখন। গেস্টাপো বাহিনী কলেজে ঢুকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নিয়ে গেল তাঁকে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে চললো অকথ্য অত্যাচার। ব্রুহাট-এর স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হল। সামনে রাখা হল শর্ত। অধ্যাপকের যে ছাত্র ফ্রেঞ্চ রেজিস্ট্যান্স আন্দোলনের সাথে যুক্ত তার নামটা কেবল বলে দিতে হবে। জেনারেল ফিজিক্সের ওপর অসামান্য টেক্সট বইয়ের লেখক, ছাত্র অন্তপ্রাণ পদার্থবিদ অস্বীকার করলেন নাম বলতে। ১৬ই আগষ্ট অন্যান্য বন্দীদের সাথে তাঁকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে চালান করে ফ্যাসিস্টরা। সারা জীবন শিক্ষকতা করে আসা ব্রুহার্ট সেই বন্দী শিবিরে জুটিয়ে ফেলেন একদল ছাত্র যাঁরা বন্দী হওয়ার আগে কেউ ছিলেন পদার্থবিদ্যার ছাত্র, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং এর। রাতের আকাশের তারা চিনিয়ে ব্রুহার্ট তাঁদের শেখাতেন এস্ট্রো ফিজিক্সের খুঁটিনাটি। হোম টাস্ক দিতেন। পড়া ধরতেন। এ সবই হল সেই অকথ্য যন্ত্রণায় মোড়া বন্দী শিবিরের বন্দীদের মরাল উজ্জীবিত রাখার জন্য পদার্থবিদ অধ্যাপকের কৌশল। সেই জঘন্য পরিবেশে ব্রুহার্ট অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফুসফুসের সংক্রমণে। সাসছেনহাউসেন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের বন্দী তাঁর ছাত্ররা জানতেন যে বিনা চিকিৎসায় তাঁদের শিক্ষকের মৃত্যু আসন্ন। ঠিক তাই হয়। পয়লা জানুয়ারি ১৯৪৫ ব্রুহার্ট শহীদের মৃত্যু বরণ করেন।
জীবনের শেষ দিন অবধি ফ্যাসিস্টদের সাথে কোনো ধরনের সমঝোতা করায় রাজি ছিলেন না। চোখের জলে তাঁর প্রিয় ছাত্ররা তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানায়। আজ শিক্ষক দিবসে এই ছাত্র দরদী শিক্ষক কে আনত প্রণাম।
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫










অসাধারণ ♥️😥🙏👏
আনত, এমনতর শিক্ষকের মন কে।