আমি নৈকষ্য নাস্তিক।
অলৌকিকে আস্থা নেই।
তবুও আজ বহু মানুষের কাছ থেকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা পেয়ে ছোটবেলায় পড়া একটা গল্প মনে পড়লো।
“সে বহুযুগ আগের কথা।
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা অষ্টমীর এক দুর্যোগময় রাতে গোকুলে জন্মেছিল একটি মেয়ে। আজকের দিনেই। তার বাবার নাম নন্দ, মা যশোদা।
সদ্যোজাত মেয়েটির মা প্রসব যন্ত্রণায় অচেতন। বাইরে প্রবল দুর্যোগ। আকাশ ভেঙে পড়ছে পৃথিবীর বুকে! তার মধ্যেই উত্তাল যমুনা পেরিয়ে এলেন এক পুরুষ। তাঁর বুকের কাছে পরম যত্নে ধরে রাখা এক সদ্যোজাত শিশুপুত্র। অচেতন যশোদার কোলে সেই শিশুকে রেখে সর্ন্তপণে তুলে নিলেন মেয়েটিকে।
বৃহত্তর স্বার্থের যূপকাষ্ঠে বলি হওয়া সেই একরত্তির নাম আহ্লাদিনী। একটি মেয়ে। আদতে যোগমায়া।
মায়ের বুক থেকে তুলে এনে মেয়েটিকে পাচার করা হয় কংসের কারাগারে। সেখানে অপেক্ষা করছিল মৃত্যু আর অন্ধকার। সদ্যোজাত ছেলেটির জন্য ওঁত পেতে ছিল ঘাতক রাজার সাঙ্গোপাঙ্গোরা। তারা জানত বসুদেব আর দেবকীর এই অষ্টম সন্তানের হাতেই মৃত্যু লেখা আছে নৃশংস কংসরাজের।
মথুরার রাজা কংস সদ্যোজাত ছেলেটিকে খুন করতে এসে দেখতে পেলেন মেয়েটিকে। ভাবলেন, এই তার ভবিষ্যৎ ঘাতক!
আর কে না জানে ক্ষমতা কখনও সহ্য করে না সম্ভাব্য বিনাশককে!
কংস তুলে নিয়ে গেলেন মেয়েটিকে, হত্যা করবেন বলে। জন্মের কয়েক দণ্ডের মধ্যেই ফের হাতবদল হল মেয়েটির। দ্বিতীয়বারের জন্য।
কারাগারের দেওয়ালে আছাড় মারতে চেয়ে দুই হাতে মেয়েটিকে তুলে ধরলেন রাজা। সজোরে নিক্ষেপ করলেন পাথরে।
কিন্তু তাকে মারবে সাধ্য কার! তৎক্ষণাৎ সেই কন্যা কংসের হাত থেকে মুক্ত হয়ে উড়াল দিল আকাশে। আট হাতে ধারণ করল ধনুক, শূল, বাণ, চর্ম, অসি, শঙ্খ, চক্র, গদা! ঝলসে উঠল যোগমায়া রূপে। কংসের উদ্দেশ্যে ভেসে এল আকাশবাণী- ‘তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে!’”
অনেকে বলছেন মেয়েটি যেন দধিচীর হাড়।
আত্মাহুতি দিয়ে বজ্র দিয়ে গেল সমাজের হাতে।
সে যেন ফিনিক্স। অগ্নিস্নানে পূত হয়ে সারা সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে তার অভাবনীয় উড়ান!
তার আগুনে ডানায় অমোঘ আহ্বান, যুগ বদলের।
আমার মনে হচ্ছে সে ছিল মহামায়া।
সে সুনিশ্চিত করে অত্যাচারী শাসকের সংহার!
বিনাশ করে ক্ষমতার অহঙ্কার!
ওই পৈশাচিক অত্যাচার যেন তাকে কারাগারের দেওয়ালে ছুঁড়ে শেষ করে দেওয়ার অক্ষম প্রয়াস।
কিন্তু তাকে হত্যা করা যায় নি।
অভয়া হয়ে, তিলোত্তমা হয়ে সে ছড়িয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষের বুকের মধ্যে।
ঘটে যাচ্ছে এক স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান।
তথ্যসূত্র: https://banglalive.com/jonmashtomi-and-the-story-of-jogomaya/










