আমরা যারা ক্রিকেট ভালবাসি এবং মেয়েদের ক্রিকেট নিয়মিত ফলো করি তারা জানি যে অফ স্ট্যাম্প এর বাইরে একটা ভালো বল কে একটু এগিয়ে এসে হাফ ভলি বানিয়ে নিয়ে ড্রাইভ করতে গেলে ছেলেদের ক্রিকেটে যে দক্ষতা লাগে, মেয়েদের ক্রিকেটেও একই দক্ষতা লাগে, আমরা জানি যে উইকেটে জমে যাওয়া একজন ব্যাটার কে আউট করতে ইনসুইং ইয়র্কার ডেলিভার করতে গেলে ছেলেদের ক্রিকেটে যে দক্ষতা লাগে, মেয়েদের ক্রিকেটেও একই দক্ষতা লাগে, আমরা জানি ডে নাইট ক্রিকেটে হাই মাস্ট আলোর নিচে রাত এগারোটার সময় লং অনে একটা উঁচু ক্যাচ ধরতে গেলে ছেলেদের ক্রিকেটে যে দক্ষতা লাগে, মেয়েদের ক্রিকেটেও একই দক্ষতা লাগে। আমরা জানি এসব দক্ষতা একদিনে অর্জন করা যায় না, করতে গেলে নেট প্র্যাকটিসের সময় ছেলেদের ক্রিকেটে যে পরিমাণ ঘাম ঝরাতে হয়, মেয়েদের ক্রিকেটেও একই পরিমাণ ঘাম ঝরাতে হয়। আমরা জানি গতকাল রাতের আগেও আমাদের মহিলা টিম ডায়ানা, ঝুলন, হরমনপ্রিতরা মাঠে নেমে এসব করে দেখিয়েছে, বহু ম্যাচে অবিশ্বাস্য সব তুলে এনেছে টিম স্পিরিটের জোরে, রাত দশটার পরেও বহু ম্যাচ খেলেছে। আমাদের জন্য কোনোটাই নতুন নয়।
আমরা যারা নিয়মিত দর্শক এবং যারা কাল ই প্রথম মেয়েদের ক্রিকেট দেখলাম, আমাদের সবার জন্য কাল কেবল একটাই নতুন জিনিষ দেখার ছিল। ফাইনালে খেলার এবং জেতার জন্য যে অনন্ত চাপ ছিল সেটা মেয়েরা নিতে পারবে কি না, সেই টেম্পারামেন্ট দেখাতে পারবে কি না। এর আগে পারে নি। কাল পেরেছে। সাউথ আফ্রিকা খুব ভালো খেলেও চাপ টা নিতে পারে নি চোক করে গেছে। এখানেই একটা চ্যাম্পিয়ন টিমের সাথে অন্য টিমের তফাৎ। ম্যাচের শেষ বল হওয়ার আগ অবধি হার মানব না, প্রত্যেকে নিজের ট্যালেন্ট কে ছাপিয়ে যাবো – জেতার এই উদগ্র মানসিকতা কাল আমরা দেখলাম আমাদের টিমের মধ্যে। সেটাই কাল এক্সট্রা স্পেশাল ছিল। এর আগেও নানান বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট টিম নানান দুর্ধর্ষ সব জয় আমাদের উপহার দিয়েছে কিন্তু কাল উপহার দিল সেই স্পেশাল কিছু যার জোরে আমরা ট্রফিটা ঘরে তুললাম।
কপিলদেবদের বিশ্বকাপ জয় কেবল আমাদের দেশের মাটিতে ক্রিকেট খেলাটাকে জনপ্রিয় করেনি, তার চেয়েও বেশি কিছু করেছিল। বিশ্ব দরবারে নানান দিকে পিছিয়ে থাকা একটা দেশের মানুষকে চ্যাম্পিয়ন ভাবার স্বাদ দিয়েছিল। আমাদের ভাবতে বাধ্য করেছিল যে আমরাও পারি, আমাদের শতাব্দী প্রাচীন হীনমন্যতার হাত থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছিলাম আমরা জাতি হিসেবে। জাতি হিসেবে বিশ্ব মানচিত্র তে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও আজও আমাদের দেশে নানান পিছুটান রয়ে গেছে একথা স্বীকার করতে লজ্জা নেই। মেয়েরা আবার ক্রিকেট খেলবে কি এ জাতীয় মন্তব্য ছেড়েই দি, মেয়েরা আবার খেলবে কি, বয়স হয়ে গেলেই বিয়ে দিয়ে দিতে হবে সৎ পাত্র খুঁজে, পুরুষালি ওসব খেলাধুলো করলে পাত্রস্থ করতে অসুবিধে হবে এজাতীয় মানসিকতা এখনো আমাদের মধ্যে প্রবল। সেই দেশে কাল মধ্যরাতে নতুন সূর্যোদয় হয়েছে। জয় হয়েছে চোদ্দ জন মেয়ের লড়াকু মানসিকতার।
যারা ঘরে ঘরে কালী দুর্গার ছবি লাগান, তারা দুর্গাদের পাশে আজকের কাগজ থেকে এই ছবিটা কেটে নিয়ে টাঙিয়ে দিন, নারীশক্তির জয়ের ধারণার পাশাপাশি ঘোর বাস্তব জগতের উদাহরণ নারী পুরুষ নির্বিশেষে আমাদের উদ্বুদ্ধ করুক। কেবল লিঙ্গ সাম্যের দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মহিলা জনগোষ্ঠী নয়, অন্যান্য অসাম্যের শিকার প্রতিটি ভারতীয়দের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকুক কালকের এই জয়। চেষ্টা করলে আমরাও পারি।












লেখাটা ফাটাফাটি।♥️♥️👍
মেয়েদের জয় টা সার্থক এমন একটা লেখার পাশাপাশি।।
তবে আমি তো জুবিনের ছবি লাগাবো ল্যামিনেশন করে। মানবরূপী ভগবান।এর মধ্যে কোনো লিঙ্গ সাম্য বা অসাম্য নেই।