(একটা অরাজনৈতিক কথা ও কাহিনী)
______________
—- বাবা, এককথায় আমাকে নাকচ করে দিলে তোমরা?
—- কে বলল তোকে?
—- বাঃ, আমি তো তোমার বুকের মধ্যেই বসেছিলাম সারাক্ষণ, এককোণে গুটিশুটি মেরে, তোমাদের জুম মিটিংয়ের সময়।
—- কই, কেউ তো দেখেনি তোকে! সবাই তো এক কথায় বলে দিল, তুই ছিলি না। আসিসইনি এই পৃথিবীতে হয় তো, কোথাও কোনওদিন।
—- তুমি ভিডিওটা অফফ্ করে রেখেছিলে। আমি ভাবলাম তুমি বুঝি অন্যদেরকে দেখাতে দিতে চাও না বলেই অফফ্। পাছে তারা আমায় দেখে ফেলে।
—- দ্য্যুৎ, সে তো ভিডিও বন্ধ করে রেখেছিলাম তখন আমার পোষাকআশাক ভদ্রস্থ ছিল না বলে।
—- সে না হয় হল। তাই বলে আমার কথা বলা মাত্রই আমাকে এককথায় রাজনীতির দোহাই দিয়ে নাকচ করল তোমার বন্ধুরা?
—- আসলে কী জানিস মা, আমাদের এই লিট্ল ম্যাগাজিনটা যখন সবাই মিলে বানালাম, তখনই সিদ্ধান্ত ছিল, রাজনীতির সংশ্রব মারাবে না আমাদের ম্যাগাজিন। তাই হয় তো ওরা…
—- কিন্তু বাবা, আমাকে নাকচের পাণ্ডারা তো কী বলে ওই রাজনীতি করতে গিয়ে এককালে জেলও খেটেছে। শুনেছি গল্প উপন্যাসও লিখেছে তাদের সেই সব আগুনঝরা দ্রোহকাল নিয়ে।
—- সেই অভিজ্ঞতাটাই হয় তো ওদেরকে বুঝিয়েছে, রাজনীতি খুব খারাপ।
—- তাই বাবা? সেই জন্যেই কি ওরা নিজেদের ঘর বাড়ি ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের আর রেসিডেন্স সার্টিফিকেট পাবার জন্য দৌড়েছিল কমিশনার কাউন্সিলরদের দোরে দোরে?
—- কিন্তু সেটাই তো নিয়ম রে বাবু। সেটা তো করতেই হবে বাবু।
—- ওঃ, নিজেদের সম্পত্তি রক্ষার বেলা, সম্পত্তি বানাবার বেলা, রাজনীতি করা রাজনৈতিক লোকেরা অচ্ছুত নয়। শুধু আমার বেলায়ই রাজনীতির কথা তুলবে তোমরা?
—- না, আসলে তো তুই খুন হয়ে গেছিস। আর সেই খুনের প্রমাণ মুছেছে বোধহয় রাজনৈতিক মদত পাওয়া লোকেরাই, তাই হয় তো।
—- কিন্তু বাবা, রাস্তায় নামা মানুষজনও তো যার যার পতাকা ছেড়েই… আমার ওই ছোটো ছোটো সঙ্গীরাও এখন অবধি বলেই যাচ্ছে, আমার জন্য তাদের চিৎকার পুরোটাই অরাজনৈতিক…
—- তা হোক, আমাদের এই ম্যাগাজিনের গ্রুপে, আমরা খুব সতর্ক আর সাবধান। আমরা চাঁদ তারা ফুল পাখি প্রকৃতি বুঝি, আমি-তুমি-আত্মীয়-বন্ধুদের নিয়ে লেখা সাহিত্য বুঝি। আর তারও চেয়ে ভালো বুঝি নিজের নিজের নিরাপত্তা আর রসেবশে থাকা স্থিতাবস্থা। কেউ যেন না বলতে পারে, আমরা ইয়ের পক্ষে… অথবা ইয়ের বিরুদ্ধে।
—- ও, বুঝেছি। এই জন্যেই বুঝি তোমাদের গ্রুপের নাম রেখেছ সমস্বর? সবারই লক্ষ্য সমান। নিজের গায়ে কাদাটি মাত্র না লাগিয়ে, যেটুকু শ্লাঘা অনুভব, যতটুকু কলার উঁচু করা। তার চেয়ে তাহলে নিজেদের গ্রুপের নামের পাশে ব্র্যাকেটে লিখে রেখো, আদর্শ মধ্যবিত্তর আত্মরক্ষা সমিতি।
—- খুব রেগে গেছিস মাগো, গ্রুপের নাম বদলাতে বলছিস রাগে। সে তো তোর নামও আমি বদলে দিয়েছি।
—- নাঃ, আমার একদম পছন্দ হয়নি সেই নামগুলো। তুমি একটা একদম একটা অন্য নামে ডেকো আমায়।
—- অন্য নামেই ডাকি তো মা। আমি তোর নাম রেখেছি কাহিনি। আর তোর সঙ্গে আমার এই চুপিচুপি কথা বলার নাম? সেটা তো উনি আগেই বলে গেছেন… “কথা ও কাহিনী”!









