দক্ষিণ মহারাষ্ট্রের একটা remote জায়গায় থাকতে গিয়ে দেখি হোটেলের ক্যান্টিনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্তত তিনজন কাজ করছে, তার মধ্যে chief cook এসেছে নদিয়া জেলা থেকে। একটি মেয়ে এসেছে আসাম থেকে (সম্ভবত বোড়োল্যান্ড), ওরা নাকি চারজন এসেছিল বাকি তিনজন ফিরে গেছে। এরা সবাই বাড়ি যায় অনেকদিন পরে, কারণ বাড়ি যেতে গেলে ফ্লাইটই ভরসা, ট্রেনে যেতে আসতেই তো এক সপ্তাহ চলে যাবে।
গোয়ায় অ্যাগুয়াডা জেল মিউজিয়ামে ঢুকতে যেতেই একটি কম বয়সের ছেলে আমাদের বাঙলায় কথা বলতে শুনে এগিয়ে এলো। আসাম থেকে অল্প দিন আগে এসেছে এজেন্সির মাধ্যমে সেখানে নিরাপত্তা রক্ষী হিসাবে। থাকাটা ফ্রি খাওয়া নয়, মাইনে মোট পনেরো হাজার মাসে। এখনো কোনো টাকা হাতে পায়নি, রোজ ১২ ঘন্টা ডিউটি কোনো নির্ধারিত ছুটি নেই। মুসলিম বাঙালি, পড়াশোনা বেশি করেনি, স্রেফ পনেরো হাজার টাকার আশায় এতো দূর চলে এসেছে। সরকারি সম্পত্তি হলেও, রেগুলার কর্মী না রেখে এজেন্সির মাধ্যমে কাজ চালাচ্ছে। কিছু বলার আছে? মানুষ কাজের জন্য কোথায় না কোথায় যাচ্ছে, তাও শুধুমাত্র গ্রাসাচ্ছাদনের তাগিদে বড়লোক হওয়ার জন্য মোটেই নয়।
তবে, আর কিছু না হলেও বাঙালি ঘরকুনো, পরিশ্রম বিমুখ এই বদনামটা তো ঘুচেছে। এখন যেখানেই বেড়াতে যাই, কোনো না কোনো বাঙালি কর্মীর সঙ্গে দেখা হয়, যারা কিন্তু IT sector এর লোক নয়, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
যাক, বেড়ানোর শেষ, আপাতত বাড়িতে। গিন্নির কড়া নির্দেশ এখন আর বাইরে যাওয়ার নামও উচ্চারণ করা যাবে না। কী করে বোঝাই, সময় আর হাতে বেশি নেই। যেটুকু পারা যায় তার সদ্ব্যবহার তো করতে হবে…….











