পাগল শব্দের আভিধানিক অর্থ যাই হোক না কেন,যতই তাদের সমাজের চোখে অবাঞ্ছিত মনে করা হোক না কেন এই সময়ের সমাজে তাদের উপস্থিতির গরিমাকে কখনোই খাটো চোখে দেখা যাবে না। তথাকথিত পাগলের পাগলামি কখনো কখনো আমাদের মতো স্বাভাবিক মানুষদের কর্মকাণ্ডকে ছাপিয়ে যায়। এমনই দুই পাগলের কর্মকান্ডের গপ্পো নিয়ে হাজির হলাম। আজ তার প্রথম কিস্তি। মতামত জানান।

পরিবেশ দূষণের মোকাবেলায় আমরা সবাই খুব চেনা পথে হাঁটার কথাই ভাবছি – বৃক্ষ রোপন। গাছের প্রয়োজন নেই এমন কথা কেউ বলেনা, কিন্তু এই বিষয়টি এখন অনেকটাই খুব সাজানো গোছানো,নিয়মানুগ আয়োজনে পরিণত হয়েছে। আমাদের কাহিনির গোপাল এমনই এক অনুষ্ঠানের সাক্ষী হয়েছিলেন,আজ থেকে ঠিক ১২ বছর আগে। তাঁদের মহল্লায় গাছ লাগানোর উৎসব পালিত হবে। দিন কয়েক আগে থেকেই মাইক বাজিয়ে চলছে তার প্রচার। সেই চিৎকৃত প্রচারে কান পাতা দায়। বৃক্ষরোপণের দিন নতুন কিছু দেখার আশায় গোপাল গিয়েছিলেন অনুষ্ঠানস্থলে। বর্ষার সময় কাজের চাপ কম, তাই এমন সুযোগ মিলেছিল। সেখানে গিয়ে এক গাছের নিচে চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবকিছুর ওপর নজর রাখছিলেন গোপাল। নির্দিষ্ট সময় পার করে মন্ত্রী মহোদয় সপার্ষদ সেখানে এসে হাজির হলেন, স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন তাঁকে সাদরে বরণ করে নিতে ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছে – আগে থেকে খুঁড়ে রাখা জায়গায় মন্ত্রী মহোদয় দাঁড়াতেই ক্যামেরার শাটার ওঠানামার শব্দে চারিদিক চমকিত হলো। একগাল হেসে মন্ত্রীজী গাছের চারাটি হাতে নিয়ে সাংবাদিক, বিভাগীয় চিত্রগ্রাহকদের অনুরোধে বেশ কয়েকটি ভঙ্গিতে ছবি তুলে রাস্তার ধুলো উড়িয়ে এক সময় প্রস্থান করলেন। গাছগুলো পড়ে রইলো ধুলি ধূসরিত পথের ধারে নিতান্তই অবহেলা আর অনাদরে। এই সব গাছেরা বাঁচেনা। কিছু গাছের মৃত্যু হয় উপযুক্ত পরিচর্যার অভাবে,গরু ছাগল এসে তাদের আহার্য ভেবে সাবাড় করে বাকিদের। ক্যাগ রিপোর্টে এই করুণ পরিণতির কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ক্যাগ খোঁজখবর নিয়ে দেখেছে সারা বছর ঢাকঢোল পিটিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করার নামে দেশজুড়ে যত সংখ্যক গাছ লাগানো হয়, তার গড়পড়তা ৪০% পরিণত হবার আগেই মারা যার উপযুক্ত যত্ন আত্তির অভাবে। এ এক বিপুল অপচয়। অথচ কারও কোনো হেলদোল নেই।

খুশি গোপাল। তাঁর এই নিরলস কাজের জন্য তিনি হয়ে উঠেছেন অক্সিজেন বাবা। সবাই তাঁকে এই নামেই ডাকে।
এমন পাগলদের আজ বড়ো প্রয়োজন এসময়ের এক আত্মকেন্দ্রিক সমাজে। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও তার সুষ্ঠু পরিণতির মাঝখানে তৈরি হয়ে যাচ্ছে বিরাট শূন্যতা। আমাদের সার্বিক অবহেলায় এই ফারাক ক্রমশই অনতিক্রম্য হয়ে উঠেছে। গোপালের মতো আন্তরিক মানুষেরা এই ব্যবধান কমিয়ে ফেলতে সচেষ্ট। এক ট্যাঙ্ক জল হয়তো খুব একটা বড়ো ব্যাপার নয়, কিন্তু তাঁর পেছনে সক্রিয় অত্যন্ত সাধারণ এক মানুষের হৃদয়ের অর্ঘ্য অনেক অনেক বড়ো বিষয়। গোপালকে কুর্ণিশ। এমন পাগলদের সংখ্যা বাড়ুক হিসেবি মানুষদের জটলার মাঝে।
ঋণ স্বীকার: বেটার ইন্ডিয়া।
জুলাই ২৪. ২০২৬.
উল্টোরথ।।











গাছ লাগানোর পর বাঁচিয়ে রাখার কাজটি অত্যন্ত জরুরী এবং অত্যন্ত শ্রম সাপেক্ষ। হাততালি পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। তাই গোপাল দের সংখ্যা কম। লেখকের মত আমরাও চাই গোপালদের সংখ্যা বাড়ুক ।তার থেকেও ভালো হয় যদি আমরা সবাই গোপাল হয়ে উঠি।