শিক্ষক আন্দোলন এক কানা গলিতে ঢুকে পড়েছে। এর থেকে বেরুনোর পথ হয়তো নেই। এটা নিতান্ত আমার ধারণা। আপনারা হতাশা ছড়ানোর জন্য আমাকে গালিগালাজ করতে পারেন কিন্তু আমি নাচার। মাথায় যা এসেছে সেটা না বলে পারছি না।
সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়ে দিয়েছে। এরপর সাংঘাতিক কিছু না হলে এই রায় পরিবর্তন হবার আশা খুব কম।
কালকের মিটিংয়ে OMR প্রকাশ করার কথা হয়েছে। এখানেও একটি বিষয় আছে। এই দুর্নীতিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট সতেরো রকমের দুর্নীতি হয়েছে। র্যাংক জাম্প তার মধ্যে অন্যতম। OMR প্রকাশ হলেই এক দারুন খেলা হবে। যারা যোগ্য বলে নিজেদের দাবি করছে, তাদের অনেকেই লিস্টে পিছিয়ে যাবে আর যে বাইশ লক্ষ পরীক্ষা দিয়েছিল তাদের অনেকেই নতুন লিস্টে ঢুকে যাবে। যারা বেরিয়ে যাবে তারা সঙ্গে সঙ্গে কোর্টে ছুটবে এটা বলার জন্য যে ওই OMR তাদের নয়। এই হার্ড ডিস্ক যেহেতু সিবিআই এক ব্যক্তির হেফাজত থেকে বাজেয়াপ্ত করেছিল তাই এর তথ্য সঠিক কিনা তার দায় কেউ নেবে না। না বোর্ড না পর্ষদ না সরকার না সিবিআই। ফলে যারা OMR প্রকাশ আলোর পথ বলছিলেন তারা দেখবেন ওটাই অন্ধকার কানা গলি।
এর মধ্যে কোর্টের রায় যেহেতু পাল্টাচ্ছে না, সেহেতু নতুন পরীক্ষা হবে। বাইশ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে যারা চাকরি করছিলেন তারা ছাড়া বাকিরা সবাই পরীক্ষা দিতে চাইবে। এই পরীক্ষা হলে আরেকটি ঘটনা ঘটবে। যারা মাস্টারি করছিলেন তারা চাকরির পরীক্ষার প্রিপারেশন বহু বছর ছেড়ে দিয়েছেন। যারা পায়নি তাদের মধ্যে অন্তত দুতিন লক্ষ নিয়মিত পরীক্ষার মধ্যে আছে। পরীক্ষা হলে এই ছাব্বিশ হাজার এর দুয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাকিরা কেউ পাবেন না। এটা নির্মম সত্য। ফলে যেটা হবে নতুন ২৬০০০ প্রার্থী চাকরি পাবে।
এখন যারা চাকরি হারিয়েছেন আর নিজেদের যোগ্য বলছেন তারা ঘটিটাও হারাবেন। পরীক্ষা একবার হয়ে গেলে যারা এখন নিজেদের যোগ্য বলছেন তারা সেটা বলারও অধিকার হারাবেন। সরকারের তরফে যে আপিল সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়া হয়েছে সেখানে আগামী দুতিন মাস আপনাদের স্কুলে যেতে অনুমতি চেয়েছে। দ্রুত পরীক্ষা যে নেয়া হবে সেটাও জানিয়েছে। ফলে ঘটনা এই খাতে বইলে আপনাদের সিংহভাগের কপালে আগামী দুতিন মাসের মাইনের বেশি কিছু প্রাপ্তি আছে বলে মনে হচ্ছে না। এখন চাকরি হারিয়েছেন, দুতিন মাস পরে ঘটিটাই হারাবেন।
সাধু সাবধান। একটু বড় পরিসরে ভাবা প্র্যাকটিস করুন। নাহলে ভবিষ্যতে আপনাদের ওপর করুণা ছাড়া আর কিছুই দেবার থাকবে না।









