Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

এই আন্দোলন অনেক কিছু দিয়ে গেলো…….

Oplus_131072
Sukalyan Bhattacharya

Sukalyan Bhattacharya

Teacher and Social activist
My Other Posts
  • July 31, 2026
  • 7:28 am
  • No Comments

ইংল্যান্ডে থাকা আমাদের দেশের এক ছেলে, মুম্বাই থেকে তার বাবা- মা কে যন্তরমন্তরে পাঠিয়েছেন এই বলে, “বাবা, তুমি আমার হয়ে পুলিশের কাছে একটা ডান্ডা খেয়ে এসো।” – দেহের শিরদাঁড়া বেয়ে এক অদ্ভুত শিহরণ নেমে যায় ; এই রকম জিনিস ভারতের গণ আন্দোলনের ইতিহাসে আগে ঘটেছে? জানা নেই!গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত একটি সরকার ও তা পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভের পারদ কোন জায়গায় পৌঁছোলে এই কমিটমেন্ট তৈরী হতে পারে, ভাবলে অবাকই হয়ে যেতে হয়! দেশের ব্যবস্থাপনা শুধরে নেওয়ার আন্দোলনে এ এক অভূতপূর্ব নজির!

সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলন ও তাকে কেন্দ্র করে গোটা দেশ জুড়ে ছাত্র- যুব’র ঐতিহাসিক জাগরণ ভারতের রাজনৈতিক গণ আন্দোলনের ইতিহাসে যে বিকল্প ধারার জন্ম দিয়ে গেলো, তাতে মূল ধারার রাজনৈতিক দল গুলোর গতানুগতিক আন্দোলনের ধারাকে আগামীতে অন্য খাতে প্রবাহিত করতে সম্ভবত বাধ্য করবে। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আশ্রয় – নাগরিক দের এই সমস্ত মৌলিক সমস্যা নিরসনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের ভয়ঙ্কর ফাঁক গুলোকে একেবারে বেআব্রু করে দিয়েছে এই বিক্ষোভ! দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরতে পরতে, দুর্নীতি, ভ্রষ্টাচার, স্বজন পোষণের , সুদীর্ঘ কালের যে মোটা আস্তরণ রয়েছে, সেই আস্তরণ পুরোপুরি ভেদ করতে না পারলেও এই আস্তরণ যদি সরানো না যায়, তাহলে আরও বড় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই সম্ভাবনাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে – এটাও এক বিরাট পাওয়া।

মাঝে মধ্যে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, বর্তমান প্রজম্নের অর্থাৎ জেন জি, আলফাদের ধৈর্য্য নেই, দেশের সমাজ, রাজনীতি, ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো চিন্তা – ভাবনা নেই। এই নতুন প্রজন্মের ছেলে – মেয়েরা ঐসব ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ট্যূইটার, টেলিগ্রাম, এক্স- হ্যান্ডেল, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি নিয়েই একেবারে আত্ম নিমগ্ন! এই কথাগুলো আজকের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে একেবারে অসাড়, সেটা প্রমাণিত! হাজার – হাজার, লাখো – লাখো ছেলে- মেয়ে যে নজিরবিহীন নজির সৃষ্টি করলো তা এই প্রজম্নের ভাবধারা কে নতুনভাবে ধরা দিয়ে গেলো। নিটসহ গোটা দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা সহ শিক্ষা ব্যবস্থার পণ্যায়ণের যে চলমান করুণ পরিণতি তা এই জন জোয়ার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেলো।

বদলে যাওয়া পৃথিবীতে হাতের মোবাইল ফোনটাও যে গণ আন্দোলন বিস্তারে একটা ভয়ঙ্কর শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে তার জ্বলন্ত প্রমাণ এবারের এই আন্দোলন। প্রবল পরাক্রমশালী কর্পোরেট পূঁজির মিডিয়াকেও যে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েই ধরাশায়ী করে দেওয়া যায়, তা দেশের ছাত্র- যুব রা করে দেখিয়ে দিয়েছে! আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যক্তি- কুৎসা, ধারাবাহিক অপপ্রচার, মিথ্যা ভাষণ, লাগাতর খিল্লি করেও দমিয়ে দেওয়া যায় নি। দেশের ব্যবস্থাপনা শুধরে দেওয়ার প্রতি গভীর আদর্শ বোধ না থাকলে সম্ভব হতো না আজকের সাফল্যের। আজকের বিশ্ব পরিস্থিতির নিরিখে, ভাঙন, অবিশ্বাসের যুগে এই যে নতুন বিশ্বাসের প্রতি ভরসা সৃষ্টি – এক অসাধারণ প্রাপ্তি!

যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ আন্দোলন চলাকালীন, আমাদের কন্যাসমা এক বিক্ষোভকারী হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্যাকেট নিয়ে সোচ্চারে বলে উঠেন, “ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লিক করে, আমার ন্যাপকিন নয়! ” – মনুবাদী একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে এইরকম কষাঘাত এর আগে ভারতীয় রাজনৈতিক পরিমন্ডল প্রত্যক্ষ করে নি। রাষ্ট্রযন্ত্রের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে এইরকম কটাক্ষ শুনে ভারতীয় সমাজ চমকে উঠেছে। এই একটি বাক্যের মধ্য দিয়ে যে প্রতিবাদের অনল, গরল হয়ে ঝরে পড়েছে, তাতে বাকরুদ্ধ হয়েছি। তথাকথিত সনাতনী ভাবধারা আর মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই রকম সুতীব্র ঘৃণা আগে দেখা যায় নি। এইরকম প্রতিবাদের ভাষা শুনে তথাকথিত অনেক বিশুদ্ধবাদীরা নাক সিঁটকে উঠেছেন, গেলো গেলো রব উঠিয়েছেন, কিন্তু এই নিষ্ঠুর বাস্তব সত্যটাকে ফূৎকারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো বুকের পাটা দেখাতে পারেন নি! ছাত্র- যুবদের এইরকম পরিণত প্রতি বাদের ভাষা প্রচলিত রীতি – নীতির বিরুদ্ধে এক অনন্য সাধারণ সাবালকত্বই প্রমাণ করে।

গোটা বিক্ষোভ, আন্দোলন জুড়ে প্রতি বাদী ছাত্র- যুব সমাজ এক নতুন ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিবাদী ধারা সৃষ্টি করেছেন। যেভাবে নিজেদের দাবী – দাওয়া, বক্তব্য কে, ব্যাঙ্গাত্মক গান, রঙ্গ-তামাশা, মিম, কার্টুন, কবিতা, গান, রিল, শ্লোগানের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন, মানুষের মনকে ছূঁয়ে গেছে। একেবারে আধুনিক যৌবন, ঐ চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে যেভাবে সৃজনাত্মক ঢঙে নতুন আঙ্গিকে নিয়ে এসেছেন, তাও একেবারেই নতুন। এবারের এই উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যেনো দেশে নব যৌবনের দূত হিসেবে ‘ নতুন সময়ের নেতৃত্ব’ উঠে এসেছে ; এও তো এক বড় পাওনা আমাদের।

যন্তরমন্তরসহ গোটা দেশ জুড়ে ঘটে চলা সাম্প্রতিক আন্দোলন ধর্মীয় বিভেদ ও হানাহানির বিরুদ্ধেও এক অদ্ভুত সম্মিলিত মোজেইক বিন্যাস নিয়ে এসেছে। আন্দোলন মঞ্চে, কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রীস্টান, কে শিখ, কে বৌদ্ধ, কে জৈন তা আলাদা করা যায় নি! বর্তমান ভারতে ঘটমান তার নিরিখে এ এক বেনজির দৃষ্টান্ত স্থাপন কারী ঘটনা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে, প্রবল প্রতাপশালী রাষ্ট্রযন্ত্রের অনাচারের বিরুদ্ধে, অর্থাৎ মৌলিক প্রশ্ন ধর্ম, সম্প্রদায়গত অবস্থান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে সফল হয় নাই – এই অনবদ্য ফ্রেম অনেক দিন পর দেখা গেলো। সঠিক দিশা ও লক্ষ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবী আদায়ের আন্দোলন সঠিক ভাবে পরিচালিত হলে অংশগ্রহণকারীদের ধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত পরিচিতি শেষ কথা বলে না, বলতে পারে না, তা আজ প্রমাণিত।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরাসরি বা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ অনুসারী ছাত্র – সংগঠন এক মঞ্চে থেকেও, নিজেদের পারস্পরিক সংঘাত ও বিতর্কে আন্দোলন ভেস্তে যায় নি, এও তো এবার একেবারে নতুন পাওয়া! দেশের বি জে পি বিরোধী প্রায় প্রতি টি রাজনৈতিক দলের নেতা – নেত্রী নিয়মিত মঞ্চে এসেছেন, ভাষণ দিয়েছেন কিন্তু আন্দোলনের লাগাম হাতে নিতে পারেন নি। দলীয় স্বার্থে এই আন্দোলন মুখর হয়ে উঠে নি এটাও সফল হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি।

আন্দোলন স্থলে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো, রকমারি ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল জ্যামার বিক্ষোভকারীদের দাবিয়ে রাখতে পারে নি! আধুনিক শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবহার করে যেভাবে আন্দোলনের প্রতিটি মুহুর্তের চালচিত্র গোটা দেশসহ আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন, সেও এক বিষ্ময়কর ঘটনা। হাজারো সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি, বন্দুক, লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, জল কামান, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা রক্ষী বস্তত: ছাত- যুবদের আকাশছোঁয়া জেদ আর মেধার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে। এই অকুতোভয় মরণপণ হার না মানা লড়াই দেশের প্রধান মন্ত্রী কে রাত- দুপুরে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে মুখ খুলতে বাধ্য করেছে। শেষ পর্যন্ত শাণিত চেতনার যৌবনের উদাত্ত লড়াইয়ের সামনে দেশের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছাত্র- যুব’র এই ঐতিহাসিক লড়াই এক আলোকবর্তিকা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, থাকতে বাধ্য।

বি জে পি বিরোধী মূল ধারার রাজনৈতিক দল একক ভাবে এইরকম আন্দোলনের তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারতো না। করলেও এত অসংখ্য মুখ যুক্ত করতে পারতো না। আর যদি করেও ফেলতো, তা অচিরেই কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করে ফেলতেন। কিন্তু ভারতের রাজনীতির অঙ্গণে একেবারে সাম্প্রতিক সৃষ্ট ” ককরোচ জনতা পার্টি ” যেভাবে পুরো বিষয়টি দ্রুততা ও ক্ষিপ্রতার সাথে সামনে নিয়ে এসে এক দল- নিরপেক্ষ অবস্থান নিলেন, সেই অবস্থান বুঝতেই প্রাথমিক ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে।

উত্তাল বিক্ষোভের সময় আমাদের দেশের এক প্রতিবাদী যুবক, আর এ এফ এর জওয়ানের চোখে চোখ রেখে বলে উঠেন, “ আমি পাকিস্তানী, আমাকে গুলি করো! ” এক মুহুর্তে মোবাইলে এই শব্দবন্ধ ভাইরাল হয়ে যায়। বেশ কয়েকবছর ধরে প্রতিবাদীদের দেশদ্রোহী হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার চেনা ছক এর কৌশল ভেঙে পড়ে! প্রতিবাদী যুবক, নীরবে লাঠির ঘা খেতে খেতেও বলে, ” মারো, আরও মারো, মেরে ফেলো। ” লাঠি, বন্দুক, গুলির সামনে অবিচল দাঁড়িয়ে দৃঢ়তার সাথে দেশের নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছ থেকে এইরকম মার খাওয়ার ছবি, আর ছবি থাকে না, দেশের কোণে কোণে এক অদ্ভুত প্রতিরোধের ছবি তৈরী করে ফেলে! এই নির্দয় ভাবে মার খাওয়ার ছবি প্রতিরোধের নতুন অস্ত্র তৈরী করে উদ্দীপ্ত যৌবনকে আরও ধারালো করে তোলে!

জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন সময় যেভাবে অনশন, মৌনতা অবলম্বন কে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অস্ত্রে পরিণত করেছিলেন, তার নজির ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে না নিয়ে এসেও দ্বিধাহীন ভাবে বলা যায়, ওয়াংচুকের অনশনও দেশের বড় অংশের মানুষের মধ্যে এক অভাবনীয় প্রক্ষোভিক আবেশ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের জনমানসে এই অনশনের প্রতিক্রিয়া কত দূর প্রোথিত হয়েছে তা আন্দাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার। এই আন্দোলন সফল হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠিও এটা।
বিখ্যাত সুইডিশ ক্লাইমেট প্রোটেকশন এক্টিভিস্ট ‘ গ্রেটা থুনবারগ ‘ এই আন্দোলন প্রসঙ্গে অসাধারণ একটি মন্তব্য করেছেন — “The Indian student protests are making us all proud and they give us hope. They show what we can accomplish when people come together and resist. They show the true meaning of people power.”

People Power তথা জনগণের শক্তি যে কত অসীম শক্তিশালী হতে পারে তার ঝলক আমরা দেখতে পেয়েছি এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই।

কাফকা’র বিখ্যাত উপন্যাস, “মেটামরফোসিস” এর মতো ভারতীয় গণ আন্দোলনের ধারারও এক অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক মেটামরফোসিস সকলে মিলে আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। এটা সত্য সময়ের হাত ধরে এই আন্দোলন ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেবে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন বিবর্তিত নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি আবির্ভূত হবে কি না, এখনই বলা যাবে না , বা বলা সম্ভবও নয় তবে এই আন্দোলন, এই আন্দোলনের কৌশল আগামীতে অন্য আন্দোলনের ধনাত্মক অণুঘটক হিসেবে কাজ করবেই করবে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী- আসমুদ্র হিমাচল ব্যাপ্ত বহুত্ববাদী ভারতবর্ষকে একমুখী একনায়ক তান্ত্রিক শাসন তন্ত্রের আগলে বাঁধতে চাইলে সংঘর্ষের ঐতিহাসিক অনিবার্যতা আজ এই আন্দোলন প্রমাণ করে দিয়েছে। নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির জন্য দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবী ও তা বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা – সময়ের স্রোতে হয়ত হারিয়ে যাবে । কিন্তু এই দাবী উঠবার পেছনের যে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, ভ্রষ্টাচারের কুশীলবদের ষড়যন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলবার, সিস্টেম বদলানোর যে অদম্য লড়াই তা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়বার সুযোগ তো তৈরী হলো আবার। মধ্যপ্রদেশের বেতওয়া রক্ষার লড়াই, উত্তরাখন্ডের পরিবেশ রক্ষার লড়াই, তিস্তা রক্ষার লড়াই, আরাবল্লী রক্ষার লড়াই, আন্দামানের নিকোবর রক্ষার লড়াইয়ের প্রান্তিক লড়াকু মানুষেরা দেশ জুড়ে এই যৌবনের লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। দেশজুড়ে দল – নিরপেক্ষভাবে জল – জমি – জঙ্গল রক্ষার লড়াইয়ের এক সূত্রে গাঁথার দাবী উঠছে – এও তো এক বিরাট পাওয়া। অনেকে ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র- যুবদের এই আন্দোলন কে বাংলাদেশ, নেপালের আন্দোলনের সাথে তুলনা করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা বলছেন। এই আন্দোলনের সাথে নেপাল, বাংলাদেশের জেন- জি আন্দোলনের কৌশলগত কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু সাযুজ্য থাকলেও, মৌলিক কিছু ফারাক আছে। অসংসদীয় সহিংস অগণতান্ত্রিক পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবার আন্দোলন এটা ছিলো না। ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বারংবার এই জাতীয় প্রোপাগান্ডা হলেও, এই আন্দোলনের মধ্যে সন্ত্রাস, হিংস্রতার মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ডাক দেওয়া হয় নি। এই গুণগত ফারাকটা মাথায় রেখেই সামগ্রিক ভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে বলেই মনে করি। গোটা দেশ জুড়ে এক বিকল্প প্রতিবাদী আন্দোলনের ধারা রাজনীতির চেনা ছকের বাইরে যে করা সম্ভব, করে যে সফলতা আসতে পারে তা এই আন্দোলন আজ করে দেখিয়ে দিয়েছে – এই ধারা বজায় থাকবে না আবার রাজনীতির কুটিল অন্ধ গলিতে হারিয়ে যাবে, সেটাই দেখার!

PrevPreviousপ্রতিবাদের অধিকার হরণের প্রচেষ্টা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে
NextSurging PriceNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

অভিযুক্তদের যথাস্থানে বহাল না রেখে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন

August 14, 2026 No Comments

বেশ কিছুদিন ধরে অনেক নাটকীয় পটভূমিকার পর নর্থ বেঙ্গল লবির থ্রেট কালচারে দাগি অভীক দে ঘনিষ্ঠ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সুপারের বদলির ঘটনা সামনে আসে। এখন

সভ্যতাকে নতুন করে দিশা দেখায়

August 14, 2026 No Comments

সিনে সেন্ট্রালের লুসোফন চলচ্চিত্র উৎসবে পর্তুগিজ ছবি : ফ্লাইট অফ ক্রোকোডাইল ঔপনিবেশিক ক্ষমতার স্বার্থে একটি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার চেষ্টা হলেও কী করে আক্রান্ত সেই জনগোষ্ঠী

হিন্দুবীরের রংবাজি এবং রংবদলের রাজনীতি

August 14, 2026 No Comments

২০২৬ সালের ৫/৬ জুলাই কলকাতার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের একটি অংশের (প্রবেশদ্বারের কাছের একটি পুরনো টিকিট কাউন্টার/নিরাপত্তা কক্ষ) রং রাতারাতি বদলে দেওয়া হয়। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর

এম পি পরমেশ্বরণ – এক প্রতিবাদী পরিবেশবিদ

August 13, 2026 No Comments

মানুষের সঙ্গে অন্যান্য প্রাণিদের সবথেকে বড়ো ফারাক কী জানেন? প্রাণিজগতে একমাত্র মানুষই প্রশ্ন করতে পারে, নিজের আয়নায় নিজেকে দেখতে পারে, নিজেকে নিরন্তর ব্যস্ত রাখতে পারে

প্রাচীন ও প্রাক-আধুনিক ভারতে হাসপাতালের নানা চেহারা – চরক-সংহিতা ও অন্যান্য

August 13, 2026 No Comments

শুরুর কথা হাসপাতাল মানুষের ইতিহাসের অতি প্রাচীন মানবিক সংগঠনগুলোর একটি। এবং এর ইতিহাসও অতি প্রাচীন। আজ থেকে প্রায় ২০০০ বছর আগে এলিয়াস অ্যারিস্টিডিস বলছেন –

সাম্প্রতিক পোস্ট

অভিযুক্তদের যথাস্থানে বহাল না রেখে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন

West Bengal Junior Doctors Front August 14, 2026

সভ্যতাকে নতুন করে দিশা দেখায়

Sanjoy Mukherjee August 14, 2026

হিন্দুবীরের রংবাজি এবং রংবদলের রাজনীতি

Gopa Mukherjee August 14, 2026

এম পি পরমেশ্বরণ – এক প্রতিবাদী পরিবেশবিদ

Somnath Mukhopadhyay August 13, 2026

প্রাচীন ও প্রাক-আধুনিক ভারতে হাসপাতালের নানা চেহারা – চরক-সংহিতা ও অন্যান্য

Dr. Jayanta Bhattacharya August 13, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

661533
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]