২৯ জুলাই, ২০২৬
২৪ জুলাই ২০২৬ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ একটি ‘উপদেশ’ জারি করেছেন (মেমো নম্বর BMC/2192) তাঁর নিজস্ব প্রশাসনিক আওতাভুক্ত কলেজ, ছাত্রাবাস, হাসপাতাল, হাসপাতালের অধীনে থাকা অন্যান্য সমস্ত জায়গায় কোনধরনের সমাবেশ, ধর্ণা, বিক্ষোভ প্রদর্শন, ব্যানার, পোস্টার, প্ল্যাকার্ড টাঙানো ও কোনরকম প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা যাবে না। এই উপদেশ অমান্য করলে তিনি শৃঙ্খলা ও আইন ভঙ্গের জন্য বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।
এই উপদেশ তিনি নিজের কোন অধিকার বলে অথবা রাজ্য সরকার, স্বাস্থ্যবিশ্ববিদ্যালয়, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল কাউন্সিল, রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ, স্বরাষ্ট্র বিভাগ বা ভারতীয় সংবিধানের কোন ধারায় জারি করলেন তার উল্লেখ করেন নি। তাঁর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশ ছিল কিনা তারও কোন উল্লেখ নেই।
তাই আপাতত এটুকুই বলতে পারা যায় এই উপদেশ জারি করার সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র তাঁরই।
সারা ভারতবাসী জানে সরকারি কোন কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখানোর মৌলিক অধিকার যে কোন নাগরিকের আছে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে শাসকদের বিরোধিতা করেই। আবার সারা দেশে সর্বত্রই শাসক দলের বদল হয়েছে নাগরিকের বিরোধিতা করার অধিকার আছে বলেই। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা এই অধ্যক্ষের নেই, থাকতে পারে না। অনতি অতীতে রাজ্যের, দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে, হাসপাতালে চুড়ান্ত বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল মিটিং পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন সব কিছু ব্যবহার করা হয়েছে অভয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। এর আগে বহু বছর ধরে কলেজে হাসপাতালে ছাত্ররা, চিকিৎসকরা নানা কারণে একই ভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। কোন পরিস্থিতিতেই এই বিষয়ে এভাবে ফতোয়া জারি করা হয় নি।
এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার অধ্যক্ষের এই উপদেশের বিষয়ে কোনরকম উচ্চবাচ্য করেনি। প্রশাসনের কোনও স্তর থেকে এই উপদেশ প্রত্যাহার করার কোন উদ্যোগ দেখা যায় নি।
আমরা এই উপদেশ অবিলম্বে নিঃশর্ত ভাবে প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ যেন দেখা না যায়। বহু রক্তক্ষয় প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার, স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা ভারতীয় সংবিধান কোন প্রশাসনকে দেয় নি।
হীরালাল কোঙার পুণ্যব্রত গুণ যুগ্ম আহ্বায়ক









