আপনারা অনেকেই ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বা শিয়ালদা কোর্টে অভয়ার ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বিচার বিভাগীয় তদন্তের গতিপ্রকৃতি কী এবং আমরা নিয়মিত ভাবে তার আপডেট দিচ্ছিনা কেন? অনেকে হয়তো এই সন্দেহও প্রকাশ করেছেন যে অভয়ার ন্যায়বিচারের আন্দোলন থেকে কি আমরা পিছিয়ে এসেছি?
আপনাদের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখা প্রয়োজন, আন্দোলনের শুরু থেকে এখনও অবধি সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্ট, শিয়ালদা কোর্ট সহ প্রতিটি স্তরে অভয়ার ন্যায়বিচারের জন্য বাবা-মা অথবা জুনিয়র ডাক্তারদের পক্ষ থেকে যে লড়াই হয়েছে, হচ্ছে তার সার্বিক আর্থিক খরচ ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট বহন করে চলেছে। শুধু আর্থিক খরচই নয় তার প্রত্যেক মুহূর্তের আইনি তদারকি এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে চলেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট! কিন্তু শেষ কয়েক মাস ধরে তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া ন্যূনতম অগ্রসর হয়নি এবং চরম হতাশার সাথে আমরা লক্ষ্য করেছি সিবিআই-আদালত সবকিছু মিলিয়ে সমগ্র বিচার ব্যবস্থা এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে। আমরা এই অনগ্রসর বিচার প্রক্রিয়ার একই বার্তা প্রতিনিয়িত প্রচার করে আপনাদের হতাশার সম্মুখীন করতে চাইনি।
কিছুদিন আগে শিয়ালদহ কোর্টে শুনানি চলাকালীন এক অভাবনীয় মুহূর্তের সম্মুখীন হই আমরা, প্রতিনিয়ত সিবিআই-এর অবহেলা বঞ্চনা, ঢিলেমি এবং সর্বোপরি অকর্মণ্যতায় ক্ষিপ্ত অভয়ার মা সিবিআই-এর তদন্তকারী অফিসারকে ‘নির্লজ্জ’ বলে আদালতে ভৎসর্না করেন। আমরা মনে করি, অভয়ার মা শুধু নন সিবিআই-এর চরম অপদার্থতার কারণে সারা বাংলার মানুষ সমস্বরে ওনাকে নির্লজ্জ বলতে এক বিন্দু পিছুপা হবে না।
আর জি করের নৃশংসতার আজ ১৫ মাস হতে চললো, অথচ কোনও অতিরিক্ত চার্জশীট জমা হলো না এমনকি অভয়ার ফোন, ল্যাপটপ এর ফরেনসিক পরীক্ষার কোনও রিপোর্ট আজও সামনে আনা হলো না। উপরন্তু আমাদের নজরে এলো সেই মহিলা অফিসার বাইরে এসে একদম হিন্দি সিনেমা/ সিরিয়ালোচিত কায়দায় কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণ করলেন এবং তা সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামেও উঠে এলো এক সহানুভূতির ছলে। আমরা, West Bengal Junior Doctors’ Front অভয়ার মা-বাবার সাথে সহানুভূতি রেখে তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রিতা এবং সিবিআই-এর এই চরম অপদার্থতাকে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাই।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা দরকার আজকের সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে West Bengal Junior Doctors’ Front-এর পক্ষ থেকে আইনজীবী মূলত তিনটি বিষয় তুলে ধরেন,
১) অভয়ার ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সিবিআই-এর অযথা বিলম্ব ও অতিরিক্ত চার্জশিটের জমা না দেওয়ার প্রসঙ্গ
২) ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য গঠিত NTF ( National Task Force) এর কোনোরকম কর্মপ্রণালী নির্দিষ্ট না হওয়ায় অতিরিক্ত নির্দেশ ও পরবর্তী আলোচনার প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ
৩) শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ডাক্তারদের থানায় ডেকে হেনস্থা করার প্রতিহিংসামূলক আচরণের প্রসঙ্গ।
আদালত সদর্থক ভূমিকা বজায় রেখে জানতে চেয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি কোথায় বিচারাধীন এবং প্রাথমিক ভাবে NTF নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে ও পুলিশি হেনস্থার বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিবেচনা করার কথা বলেছেন।
বিচার আমাদের ছিনিয়ে আনতেই হবে, এই অঙ্গীকার ও ঐক্যবদ্ধ শপথ বুকে নিয়ে শুরুর দিন থেকে প্রতিটি কোর্টের শুনানির প্রতি আমাদের যেমন সক্রিয় ভূমিকা ছিলো আগামীতেও সমান ভাবে থাকবে।











