~ হ্যালো হ্যালো, জুকুদা, শুনতে পাচ্ছো? হ্যালো হ্যালো…
~অ্যাই, অত চেঁচাস না। সবই শুনতে পাচ্চি। তুই আমাকে দাদা বলছিস কেন রে পোড়ারমুখী?
~মানে, ইয়ে, অত বড় কোম্পানির মালিক আপনি। এমনিতে আমি আইপিএস আইএএস আর মন্ত্রীটন্ত্রীদের তুই তোকারি খিস্তিখাস্তার ওপরেই রাখি। কিন্তু আইপ্যাকের লোকেরা বলল, আপনাকে ওসব চার পাঁচ ছঅক্ষর বললে হেব্বি খচে যাবেন। তাই দাদা বলেচি।
~শোন রে পাঁঠি, খিস্তিতে আমিও কম যাই না। কিন্তু দাদা না। নো দাদা। আমার চাইতে তোদের ওই জুনিয়র ডাক্তারেরা অবধি দুচ্চারজন সিনিয়র, তা জানিস? আমি এপ্রিল ১৯৮৪। হয় জুকু স্যার নইলে স্রেফ জুকু।
~ঠিক আছে, জুকু ভাই
~ আবার ভাই। নো ভাই… নো ভাইপো… নো পারিবারিক রিলেশন। তোর সঙ্গে ওসব ডাকে জড়ালেই বহুত লাফরা, আমি জানি। ও সব ডাক চলতে দিলেই চুরি বাটপারি বদমায়েশি সব একসঙ্গে করতে হয় তোর ওখানে, মেটা বলেছে।
~ ঠিকাছে ঠিকাছে।(জনান্তিকে) বাপরে কী মেজাজ! এখানে থাকলে কেষ্টাকে দিয়ে শিওর একটা গাঁজা কেস দিয়ে দিতাম শোরের বাচ্চাকে। তা হ্যাঁ গো জুকু স্যার…
~ কী ভ্যাজর ভ্যাজর কচ্চিস তখন থেকে?
~ মানে ইয়ে, বলছিলাম কী, তোমার নামটা যদিও শুনতে জার্মান-অস্ট্রিয়ান, আইপ্যকেরা বলল কী, তুমি নাকি আসলে আমেরিকান? ইংরেজি জানো।
~ এই সব সাত সতেরো শুধোচ্ছিস কেন? তোর দেশ থেকে পালাতে চাস? এখানে কিন্তু খুব কড়াকড়ি। মেক্সিকোর দিক দিয়ে ঢুকতে হবে। তোর ভাইপো নাকি দুবাই না ব্যাঙ্কক নাকি ভানুয়াতুয়া পাঁচ ছ জায়গায় সেট করে রেখেছে। তুই ওর সঙ্গেই যা বরং।
~ না গো জুকু দাদা, আঃ, শোনোই না
~ ফের দাদা? অ্যাই কে আছিস, এটাকে ঘাড় ধরে…
~ না না, দাদা না দাদা না, ঠিকাচে…জুকু স্যার। বলছিলাম কী স্যার, আপনার তো অনেক চেনাজানা। যদিও শেয়ার নেই তবু গুগুল কোম্পানিকে বলে ওদের ট্র্যান্সলেটরে একটা জিনিস ঢুকিয়ে দিতে হবে।
~ কী জিনিস? ইল্লিগ্যাল কিছু?
~ আরে না না ভীষণ লিগাল। কেউ ধরতেই পারবে না। ওদের ট্র্যান্সলেটর কে শেখাতে হবে, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” মানে “বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়”।
~ তুই তো জানিস এটা নিয্যস মিথ্যে! জানিস না?
~আঃ হা, এই তুশ্চু কাজটার জন্য নয় নগদে কিছু ধরে দোবো আপনাকে আর পিচাইকে!
~ গেট আউট। অ্যাটর্নি আপিসে এমনিতেই ফেঁসে আছি সাইবার ক্রাইমে। গেলি?
~ তা হলে আর কী। পুলিশদের বলি, এই কথা কেউ বললেই তাকে অন্যায় সংহিতার কেস দিয়ে টাইট মেরে দিক।









