৭ জুলাই, ২০২৫
২০২৪ এর ৯ আগষ্ট, কলঙ্কজনক ইতিহাস রচিত হয় এই কলকাতায়,এই বাংলায়। মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক-পি জি টি তরুণীর উপর নির্মম নির্যাতন, ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা। ঘটনার পৈশাচিকতায় আলোড়িত হয় বাংলার বিবেক। রাজ্য, দেশের মানচিত্রের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে বাংলায় নারীর মর্যাদা, সম্ভ্রম যা আজ ভুলুন্ঠিত রাজ্যে প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর আমলে। ১৪ আগষ্ট থেকে দিনের পর দিন ‘রাত দখল’ বাংলার মা বোনেদের। লন্ডন, ওয়াশিংটন, প্যারিস, আমস্টারডাম সহ সর্বত্র শুধুই ধিক্কার। বাংলা তথা এ দেশের মানুষ শাসকের বদান্যতায় উন্নাও, হাথরস, মণিপুর,পার্ক স্ট্রীট, কামদুনি, মধ্যমগ্রাম, সর্বশেষ কোন্নগর, ক্যানিং, কালিগঞ্জ – চলমান অত্যাচার, হত্যালীলার সাক্ষ্য বহন করছেন। দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজের ঘটনা বিভীষিকাময়,শাসক যোগ স্পষ্ট, তবু,আর জি কর-এর ঘটনা আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা আমাদের কাছে পবিত্র স্থান, স্যাংচুয়ারি,তার অভ্যন্তরে এই ঘটনা আমাদের সব রকমের খারাপ ইতিহাসকে ম্লান করেছে। দ্বিতীয়তঃ আজ পর্যন্ত অভয়া, তার পরিবার,সারা বাংলার মানুষ বিচার পাননি। যেটুকু বিচার হয়েছে তা অসমাপ্ত, অপর্যাপ্ত। প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হওয়ায় অপরাধীরা বেলাগাম অপরাধ সংঘটিত করতে পারছেন। অপরাধী – দুর্নীতি – শাসক নেক্সাস আজ স্পষ্ট। শাসক, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত নির্দিষ্ট একজনের ফাঁসি চেয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে চেয়েছেন। সি বি আই, তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতায় আসল অপরাধীদের আড়াল করছেন। আর কেন্দ্রীয় সরকারের মাননীয় মন্ত্রীরা রাজ্যে বারবার আসলেও অভয়ার পরিবারের সাথে দেখা করতে চান নি। অভয়া’র মা, বাবা দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারোর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েও পারেন নি। এ যন্ত্রণা লুকাবো কোথায়? আমরা প্রতিমাসে ৯ তারিখকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করি। এই ১১ মাস প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও রাজপথে অথবা আল পথে অভয়া মঞ্চ বিচার চেয়ে আওয়াজ তুলেছে। যতদিন না বিচার পাবো এবং আরো অজস্র অসহায় অভয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হবে আমাদের লড়াই জারি থাকবে। ৯ আগষ্ট অভয়া হত্যার প্রথম বর্ষপূর্তি। ঐদিন বাংলার সকল গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে নিয়ে বিকেল চারটের সময় ‘কালিঘাট চলো’ ডাক্ দিচ্ছে অভয়া মঞ্চ। কলকাতা লাগোয়া মূলতঃ চারটে জেলা থেকে মানুষ অংশ নেবেন এই মিছিলে। অভয়া মঞ্চ একটি অদলীয় রাজনৈতিক সংগঠন। দলমত নির্বিশেষে সকল প্রতিবাদী মানুষকে হাজরা মোড় থেকে এই মিছিলে অংশগ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি। অন্যান্য জেলায় সারাদিন প্রতিবাদী কর্মসূচি চলবে। সকাল বেলায় ‘রাখী বন্ধন’ হবে অভয়া মঞ্চে’র উদ্যোগে বা সমমনোভাবাপন্ন সংগঠনগুলোর উদ্যোগে।এর পরেই ১৪ আগষ্ট আবার ‘রাত দখল’। রাত ১২ টার পর স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ‘রাত দখলে’ অংশ নেবেন উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গের, গ্রাম শহরের প্রতিটি পরিবার।
আগামী ৯ জুলাই শ্রমিক কর্মচারীদের আহ্বানে সর্বভারতীয় সাধারণ ধর্মঘট। শ্রম কোড বাতিল সহ শ্রমের মর্যাদা,সম কাজে সম বেতন, কর্মরত নারী শ্রমিক কর্মচারীর নিরাপত্তা ও বেতন/ভাতার বৈষম্য দূরীকরণ, স্থায়ী পদে কর্মসংস্থান ও অস্থায়ী কর্মচারীদের নিয়মিতকরণসহ বিভিন্ন দাবিতে এই ধর্মঘট হতে চলেছে। অভয়া মঞ্চ এই ধর্মঘটের প্রতি সংহতি জ্ঞাপন করছে। ধর্মঘটকে সফল করার আহ্বান জানাচ্ছে। অভয়ার বিচার ছিনিয়ে আনার প্রত্যয় ঘোষণা করছে। ধর্মঘটের প্রতি সংহতি জানিয়ে অভয়া মঞ্চে’র মিছিল হবে ধর্মঘটের দিন অর্থাৎ ৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে। মিছিল শুরু হবে মৌলালীর মোড় থেকে, শেষ হবে রাজাবাজার মোড়ে এবং একটি সংক্ষিপ্ত সভা সেখানে অনুষ্ঠিত হবে।
আমাদের দাবিঃ-
১) দ্রুত অভয়ার বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২) অভয়া’র মৃত্যুর এগারো মাসেও অসংখ্য অভয়া নির্যাতন ও হত্যা হয়ে চলেছে। দুর্নীতি, অপরাধ,শাসক যোগই মূল কারণ। রাজ্য সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বিচার যেমন জরুরী, ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়টা সুনিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা দেওয়াটাও প্রশাসনের অন্যতম প্রধান কর্তব্য।
৩) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। তাদের ‘সারারাত ফোনালাপ’ প্রকাশ্যে আনতে হবে।
৪) কেন্দ্রীয় সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সারা দেশজুড়ে মহিলাদের উপর পৈশাচিক নিপীড়ন বন্ধ হয়, জঘন্যতম অপরাধীরা উপযুক্ত সাজা পায়। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে যথাযথভাবে তদন্তের কাজ করতে হবে।










