সাহিত্য বিশেষতঃ কবিতায় আমার ব্যুৎপত্তির ইতিহাস বেশ করুণ। শম্ভু এই নিয়ে প্রায়ই আমাকে কিছুটা উপহাসই করতো। শম্ভু মানে শম্ভু মৈত্র ছিল আমার ভীষণ কাছের, এতোটাই কাছের যে ভ্রাতৃসম বললেও কিছুই বলা হয় না। অনেকদিন হলো চলে গেছে, মুখে মুখে বলতে পারতো বহু কবিতার অংশবিশেষ। আমি সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও কোনো অজ্ঞাত কারণে শম্ভু আমাকে দাদা বলতো না, পুরো নামেই ডাকতো। প্রায়ই আমাকে পরিহাস/উপহাস করেই বলতো, ‘অমিত পান, একটু কবিতা টবিতা পড়ো’। অন্যদেরও বলতো, আর এক মৈত্র সুভাষদা খুব রেগে যেতো, পাল্টা তর্ক জুড়ে দিতো। আমি আর তর্ক করে কী করবো, জ্ঞান গম্যির সত্যিই খুব অভাব!
মুশকিল হলো, সেই আমার মনেও দুদিন আগে একটা কবিতার অন্তত কিছু অংশ হঠাৎ কী যেন বলে ‘ঘাই মেরে’ উঠলো। এখন একটা সুবিধা আছে, কোনো রকমে একটা লাইন মনে পড়লেই ‘সার্চের মাধ্যমে’ পুরো কবিতা বার করাটা কোনো ব্যাপারই নয়। গিয়েছিলাম আই. এম. এ. এর স্টেট ব্র্যাঞ্চ আয়োজিত ‘ডক্টরস্ ডে’র অনুষ্ঠানে, আমার এক অত্যন্ত প্রিয় মানুষ সম্বর্ধিত হচ্ছেন বলে। পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেলো, হলে তিল ধারণের জায়গা নেই। তাই হলের বাইরেই বসে ভিতরের বক্তৃতা শুনতে লাগলাম। তখনি হঠাৎ শঙ্খ ঘোষের কবিতার লাইনগুলোর আবির্ভাব কী আশ্চর্য প্রায় অনায়াসেই….
“……
এবার সব খুলে চরণমূলে
ঝাঁপাবো ডাঁই করা পাঁকে
এবং মিলে যাব যেমন সহজেই
চৈত্র মেশে বৈশাখে।”
ভিতর থেকে বার হয়ে আসছে বিগত ১৫ বছরের কী করুণ কাহিনী! প্রাণপণে সরকারকে সহায়তা করতে চেয়েও বিগত পনেরো বছরে কী ভাবে জুটেছে ঔদাসীন্য, অবহেলা ও বঞ্চনা। কোনো অনুষ্ঠানে পুরো কেন হাফ স্বাস্থ্য মন্ত্রীও জোটেনি। ‘অভয়ার মৃত্যু’, wbmc নির্বাচনে গুন্ডামি, ‘সেবাশ্রয়ে’ চরম দুর্নীতির মতো জঘন্য ঘটনাগুলির তীব্র নিন্দা বারবার ভেসে আসতে লাগলো হলের ভিতর থেকে। সেবাশ্রয়ের জালিয়াতি নিয়ে অবশ্য আগের দিন থেকেই প্রেসে সরব আই.এম.এ. এর নেতারা ‘চাঞ্চল্যকর’ অভিযোগ নিয়ে যদিও এই ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে এরা শুধু সক্রিয় নয় অতি সক্রিয়ভাবেই জড়িত ছিলেন সেই ক্যাম্পগুলির সংগঠনের সঙ্গে। কী করা যাবে! জীবনে উন্নতি করতে গেলে শুধু নির্লজ্জ হলেই হবেনা, শুধু দুকান কাটা হলেও চলবে না, নাক-কান-চুল আর যা যা সম্ভব সব কেটে ফেলতে হবে, দেখবেন কোমরে যেন ‘ডুমুরপাতা’ও না ঝোলে। এখন তো আবার জীবনের একটাই লক্ষ্য কীভাবে এক শাসক দলের আশ্রয় থেকে আর এক শাসক দলে মিশে যাওয়া যায়, যেমন ‘চৈত্র মেশে বৈশাখে’!!
তবে, ‘স্পীড’টা বাড়াতে হবে, অতো ধীরে সুস্থে হলে মুশকিল আছে। পুরো না হলেও দেবরাজ চক্রবর্তীর কাছাকাছি চরিত্র তো ছড়িয়ে আছে চারিদিকে। হঠাৎ, কে কখন কী অভিযোগ করে বসে বা পুরোনো অভিযোগ তুলে ধরে, বলা তো যায় না। তাইতো এই নিরন্তর প্রয়াস…..
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষণ শোনা হয়নি, কারণ তিনি আসতেই যেভাবে তার উপর ‘অপরিশোধিত তৈল’বর্ষণ শুরু হলো, দুর্বল হৃদয়ে তা সহ্য করা সত্যিই দুরূহ হয়ে উঠেছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কতটা বিচলিত বা দ্রবীভূত হয়েছিলেন জানি না, তবে দরজা বোধহয় ঠিক ‘হাট করে খুলে যায়নি’। তবে, তাতে কী হয়েছে? রাজনীতিতে থাকতে গেলে টিকে থাকতে হয়, গালাগাল -অপমান -বিদ্রুপ সব হজম করেই, যার জলজ্যান্ত আদর্শ উদাহরণ হলো ‘কুনাল ঘোষ’! বলে না, ‘যে সহে সে রহে’…..
আজ দরজা খুললো না কী হয়েছে! লেগে থাকতে হবে, কতদিন আটকে রাখবে যদি লাগাতার গান চালিয়ে যাওয়া যায়,
‘খোলো খোলো দ্বার রাখিয়ো না আর
বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে।’
হতাশ হবেন না, দ্বার খুলবেই ‘গ্রেট ওয়াশিং মেশিন’-এর যেখানে সব কিছু হয় একদম smoothly, মসৃণভাবে!! ডিম সহযোগে বাঙলা বা আড়ং ধোলাই এর জন্য নাহয় থাকবে কিছু বাছাই করা ‘দেবরাজ – শাজাহান – শওকত’!!
তাই, হতাশ হওয়ার কারণ নেই। জরুরি অবস্থার সময় ট্রামে বাসে লেখা থাকতো না, ‘পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই’?! নাকি, উল্টোটা, ‘বিকল্পের কোনো পরিশ্রম নেই ‘? আজকাল সবই উল্টোপাল্টা হয়ে যায়। সত্যিই, এই বয়সে কি এতো কথা বলা ভালো!!
এখন তো শুধু বাড়ির লোক নয়, আকাশ বাতাস সবাই বলছে, “এতো কথা বলো কেন? চুপ করো শব্দহীন হও……”












সুন্দর লেখা। শঙ্খ ঘোষের উদ্ধৃতি মোক্ষম।