
একজন প্রকৃত চিকিৎসককে বছরের পর বছর কঠোর পড়াশোনা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, MBBS, ইন্টার্নশিপ, রেজিস্ট্রেশন ও পরবর্তী প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেখানে ভুয়ো ডিগ্রি, জাল রেজিস্ট্রেশন বা বেআইনি পথে কীভাবে কেউ চিকিৎসকের পরিচয় পাচ্ছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি।
বিশেষত West Bengal Medical Council-এর রেজিস্ট্রেশন নম্বরকে কেন্দ্র করে অনিয়ম এবং কাউন্সিলের ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে। রেজিস্ট্রেশন নম্বর অর্থের বিনিময়ে পাওয়ার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, এর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি, সে যতই প্রভাবশালী হোক, আইনের আওতায় আনতে হবে।
WBJDF-এর দাবি:
১. অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করতে হবে।
২. ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন ও ভুয়ো চিকিৎসকদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
৩. রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার আবেদন, নথি, যাচাই ও অনুমোদন সম্পূর্ণ ডিজিটাল অডিটের আওতায় আনতে হবে।
৪. ভুয়ো চিকিৎসকের পাশাপাশি দালাল, মধ্যস্থতাকারী এবং জড়িত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন যাচাইয়ের স্বচ্ছ ও সহজলভ্য অনলাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে চিকিৎসক নিয়োগের আগে ডিগ্রি ও বৈধ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করতে হবে।
এর পাশাপাশি আরও একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর চাই। West Bengal Medical Council নিজেই যদি একটি অবৈধ ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে গঠিত নির্বাচনের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে এমন কাউন্সিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। আইনানুগভাবে এই কাউন্সিলকে ডিসলভ করে, স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কাউন্সিল গঠন করতে হবে।
চিকিৎসা কোনও ব্যবসায়িক লাইসেন্স নয়। এটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক গুরুদায়িত্ব। প্রকৃত চিকিৎসকদের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের জীবন নিয়ে প্রতারণার বিরুদ্ধে কোনও আপস নয়।












