সেই কলেজ জীবনের ঝোড়ো দিন, যখন আমি ‘দিমাগী নকশাল’, আদর্শের চোখে স্বপ্ন দেখি সাম্য সমাজ গড়ব, দেশ গড়ব। ভালোবাসা ভরেছিল বুকে। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আর্তের জন্য অশ্রু আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে চোয়াল শক্ত করা জেদ নিয়ে পথ চলতে চেয়েছি। কণ্ঠে ছিল রবিঠাকুরের গান, গণসঙ্গীত আর কবিতা। মনে আছে কলেজস্ট্রিটে বিধানদার দোকানে বলা ছিল, প্রতি মাসে দু চারবার ঢুঁ দিতাম সেখানে, নতুন কী কবিতার বই এল! এইসব কন্ঠে নিয়ে পথসভা, মিটিং মিছিল, জনসভা, গ্রামে-গঞ্জে-মফস্বলে। তখন রৌদ্র, ঝড়ে, মেঘে কত কত কত যে মায়া!
সে সময় প্রেম এসেছিল সততই। রৌদ্রে লেগেছিল আর একটু সোনা, মেঘে আর একটু পুলকিত অশ্রু আর হাওয়ায় বৈশাখী! তবে যৌথ পথচলার প্রধান শিকড় ছিল সেই আদর্শের বোধ, ভালোবাসায় মিশেছিল সাম্য সমাজের স্বপ্ন। তার সঙ্গে হাত ধরে পথ হেঁটেছি, তুমুল তর্ক করেছি, চার অধ্যায়ের অন্তু এলা হয়েছি, কথা বন্ধ করেছি, কিন্তু স্বপ্ন দেখা ফুরিয়ে গিয়ে জীবন স্রেফ স্বার্থপর, আত্মমগ্ন হয়ে ওঠেনি। দুজনেই মানুষকে ভালোবেসেছি, পাগলের মত ভালোবেসেছি। যদি কোনোদিন সংসার হয় আমাদের সে সংসার কিছুতেই বৈভবের হবে না, কিন্তু অনটন যেন বেচে দিয়ে না যায় যৌথের আদর্শকে – এই বোধের ওপরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমরা।
তারপর কী হল কোথায় হারাল সে, সে ইতিহাস লিখতে বসিনি আজ। শুধু এটুকু বলি আমার গানে সে আসে। আজও আসে। একটা গানে লিখেছিলাম,
কলেজ স্ট্রিটে জমছিল জল তেমনি আবার বৃষ্টিবাদল,
কফির শেষে
দিন বদলের স্বপ্ন নিয়ে সেই মেয়েটি মেঘ ঝরিয়ে
নিরুদ্দেশে
রেখেছি দুয়ার খুলে হয়ত মেঘের চুলে
আসবে কখন
সারারাত বৃষ্টিযাপন…
এ গান আজও গাইনি আমি। যত্ন করে তুলে রেখেছি নিজের কাছে। তবে আজ একটা অন্য গান গাইব। সেখানে সে আছে ভীষণ ভাবেই আছে। আর আছে বলেই এ গান অন্য প্রেমের গানের থেকে আলাদা, এক্কেবারে আলাদা।
লিঙ্ক রইল সে গানের।











