সময়, তোর সাথে কিছু জরুরী কথা ছিল, তুই দাঁড়িয়ে যা একটু। যতই আমায় তুই গো ব্যাক স্লোগান দিয়ে অভিমন্যুর মতো ঘিরে ধরে, আমার রথের চাকা ভেঙ্গে দিয়ে পথের ধারে ধুলোয় গুঁজে দিতে চাস, একবার তাকিয়ে দেখ, আমি উঠে দাঁড়িয়েছি। ভর মাতাল সন্ধ্যেয় আমায় দেখতে পাওয়া যায় না বলে তুই যতই চেল্লাচিল্লি করিস, একবার তাকিয়ে দেখ মাঝরাতের কালো আকাশের নিচে কালো আমি তারা হয়ে ফুটে আছি। সময় তোর মনে পড়ে যে তুই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলি আমাদের নিয়ে যাবি পাহাড়ের সোনালী চূড়োয়, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলি আমার ব্যাংক একাউন্টে ঢোকাবি টাকা যা দিয়ে আমি আকাশের সিথি থেকে সিদুরের টিপ কিনে আনবো, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলি মঙ্গলযানের ক্যামেরায় ছবি তুলে সাজিয়ে উপহার দিবি অ্যালবাম, ভাত দিয়ে ভাত মেখে খেতে খেতে আমি যার পাতা উল্টে দেখবো – সেগুলি তুই কিছুই রাখিসনি, তোর কথার কোনো দাম নেই আসলে। সময়, তোর প্রতিশ্রুতি আসলে যত্রতত্র ছড়াবার ছিটোবার কথা, থুতু, মলমুত্র। তোর প্রতিশ্রুতি আসলে কেবল সাদা নীল গেরুয়া পতাকার ব্যতিব্যস্ত ওড়াউড়ি, তোর প্রতিশ্রুতি কোটি টাকার প্রেস নোট, তোর প্রতিশ্রুতি আসলে কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মঞ্চ থেকে ভেসে আসা দৈববাণী। সময়, তুই বুঝতে পারছিস না যে বিরক্ত নদীর মতো ভুরু কুঁচকে বসে আছে আমাদের কাল। যাচ্ছি যাব, যাচ্ছি যাব এই গড়িমসি করে খেয়াঘাটে পারাপার ভুলে-যাওয়া, নৌকা এখন আবার চলতে শুরু করেছে। সময়, তুই থমকে থেকে গেছিস, তোর পায়ে ফুটে গেছে দীর্ঘ পেরেক বা মনসার কাঁটা, খুলে গেছে তোর জুতোর গোড়ালি। সময়, তুই আয়নায় তাকিয়ে দেখ, ন্যাংটু হয়ে গেছিস, কারণ তোর কোটপ্যান্ট আর মুখোশ ধোবার ভাটি থেকে ফেরত আসেনি, ধোবারা ঘেন্নায় ছুঁয়ে দেখেনি ওগুলো। সময়, আয় তোকে শেখাই প্রতিশ্রুতি কাকে বলে। “প্রতিশ্রুতি হ’ল শীতের চাদর, প্রতিশ্রুতি ভাঙা চালে খড়, প্রতিশ্রুতি আসলে সাদা ভাত, ভাতে দুধ, দুধে ঘন সর, প্রতিশ্রুতি চেতনার স্তরে স্তরে সপ্তসিন্ধুজলের মর্মর”। প্রতিশ্রুতি আসলে রক্তে রাঙ্গানো অক্ষরে লেখা দেয়ালের লিপিচিত্র। সময়, তুই ভয় পেয়েছিস তাই মাঝরাতে তোর অশ্বারোহীর দল এসে ছিঁড়ে দিয়ে যায় আমার রথের ধ্বজা, নিশান গড়াগড়ি খায় পথের ধারে। হে সময়, হে বিকলাঙ্গ বিভ্রান্ত সময়, কানা কুকুরের মতো এটো-কাটা ঘাঁটাঘাঁটি ভুলে একটি বার তাকিয়ে দেখো, পৃথিবীর আয়নায় মুখ রেখে রণ সাজে সজ্জিত, দিনের সূর্যের বল্লম হাতে তৈরি আমার অশ্বারোহীর দল। হে সময়, পারলে থামাও আমার মহাকাল রথের যাত্রা।











শালা হেভিহ্ লিখসো গো।🥰
লেখাটায় চুমু।😘
আমার লেখাটা পড়ে কেবল কোণার্কের সূর্য মন্দির মনে হলো।
সেই ভোরের কোণার্কে দেখা একা একা
কোণার্ক সনেট
🙏💕
জিও কলম।