ধরা যাক, বেশ কিছু বছরের পরে,
বিচার সমাধা হলো,
কারো ফাঁসি হলো, কেউ পেলো যাবজ্জীবন,
কারো কিছু সাল সশ্রম কারাদণ্ডে যাবে,
সেই মতো রায়টা বেরোলো.. তারপর?
তারপর কিছু নয়,
ভারতীয় দণ্ডবিধি নাম পরিবর্তনে
দ্রুতগতি পেয়েছে, তেমন খবর নেই,
সুতরাং ততদিনে গোটা দুয়েক নির্বাচন পেরিয়ে গিয়েছে,
জুনিয়র ডাক্তাররা সিনিয়র হয়ে গেছেন,
বলা যায় না, আর জি কর-এরও নাম বদলে গিয়েছে
কোনো শাসকের খেয়ালিপনায়,
শুধু কিছু বুড়োবুড়ি,
সজাগ থাকার সেই গর্বিত রাতেদের গল্প শোনায়।
তারপর কিছু নয়,
একটা বাড়িতে তখনও জ্বলজ্বল করবে নেমপ্লেট,
বাইরে পুলিশ নেই,
ম্রিয়মান কামরাগুলোর আনাচ-কানাচে এখনকার মতোই বিষণ্ণতা থিতু,
মেয়েহারা দম্পতি যে পুত্র কন্যা পেয়েছিলেন হাজারে হাজারে,
তারা তখনো খোঁজ নেন মা’ বাবার, সময় সুযোগে ঠিক করে যান দেখা,
তবু ওই নেমপ্লেটে যার নাম লেখা,
তার স্মৃতিভার তাঁরা বয়ে যান একা ।
তারপর কিছু নয়, দিনে
নব্বই হিসেবে ততদিনে কয়েক লক্ষ ধর্ষণ হয়ে গেছে ,
কয়েকজনকে কিছু কাব্যিক নাম দেওয়া গেছে,
বাকিরা অনামী,
লিস্টে ব্রাহ্মণ, দলিত, শিশু, বৃদ্ধ, চাকুরিজীবী, গৃহস্থ,
বোরখা, মিনিস্কার্ট, শিক্ষিত, নিরক্ষর.. সব আছে,
নারী হলে তার আগে বা পরের বিশেষণ বিশেষ জরুরি নয় দেশে,
তবু কিছু একটা বদলে গেছে যেন।
ধর্ষিতারা মুখ না লুকিয়ে আদালত পৌঁছিয়ে বিচার চাইছেন এসে।
তারপর কিছু নয়,
বিচারের রায়ের পরে কলকাতার বিভিন্ন পাড়ার থেকে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার থেকে,
দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে,
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে
পাকামাথারা রওনা দিয়েছেন আর জি করের উদ্দেশ্যে,
যারা একসময় হেঁটেছিলেন,
রাত জেগেছিলেন,
উত্তাল হয়েছিলেন জাস্টিস চেয়ে..
তাঁরা আবার আগামী থেকে ফিরছেন অতীতের পথ বেয়ে।
তারপর কিছু নয়,
সেই প্ল্যান না করা জমায়েতের মধ্য থেকে
‘ক্রাই অফ দি আওয়ার’-এর সামনে দাঁড়িয়ে
কেউ না কেউ চোখের জলে বর্ষা ডেকে বলছেন
‘দ্যাখ, আমরা পেরেছি রে মেয়ে!‘










