পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র ডাক্তারদের ৭ জন কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে আমরণ অনসনে বসেছে – প্রায় ৪৮ ঘন্টা হয়ে গেল। প্রত্যেকেরই অল্পবিস্তর শারীরবৃত্তীয় অসুবিধে শুরু হছে। এখনও অব্দি গুরুতর কিছু নয়।
ডাক্তারদের আন্দোলনের চরিত্রগত শক্তি এখানে যে, এরা মানুষকে সরকার এবং রাষ্ট্রের তরফে মানুষকে চিকিৎসা ও নিরাময় দেবার এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সচল রাখার চালিকাশক্তি। তদুপরি এদের পাশে সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের সিনিয়র চিকিৎসকদের বড়ো অংশ সক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি প্রতীকী অনশনেও অংশগ্রহণ করেছেন।
এবং অগণিত নাম-না-জানা সাধারণ মানুষ? জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে অন্ন-বাসস্থান-পানীয়-ছাউনি দিয়ে পুষ্টি দিয়েছেন এই অনামা অসংখ্য মানুষ। কোন মা তার জন্মদিন পালন করেছিলেন অবস্থান মঞ্চে, সবাইকে পায়েস খাইয়ে। কেউ খাইয়েছেন কেক। হৃদয়ের ওম দিয়ে লালন করেছেন এই আন্দোলনকে। এদের সবাইকে আমার, জুনিয়র ডাক্তার এবং ডাক্তার সমাজের তরফ থেকে প্রণাম, ভালোবাসা এবং অভিনন্দন। আপনারা সজাগ নজর রাখবেন, যাতে ন্যায়ের পথে থাকতে পারি।
জুনিয়র ডাক্তারেরাই বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় – অনেক জায়গায় যেখানে কোন ত্রাণই পৌঁছয়নি – নিজেদের উদ্যোগে ওষুধ, খাদ্য এবং ত্রাণসাগ্রী নিয়ে ছুটে গেছে।
কুর্ণিশ, আন্দোলনকারী সন্তানসম জুনিয়র ডাক্তারদের এবং এদের সহযোগী সমস্ত ডাক্তারসমাজকে! এরা মেডিক্যাল সাম্রাজ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির চেহারা বেআব্রু করে দিচ্ছে – প্রতি মুহূর্তে। সিবিআই সেগুলো খুঁজে বের করছে।
(সৌজন্যঃ আনন্দবাজার পত্রিকা)
কেন এই আমরণ অনশন?
এ কথা আজ জোর দিয়ে আমাদের তরফে বলার এবং মানুষের তরফে আন্তরিকভাবে বোঝার প্রয়োজন আছে যে, অন্য সমস্তকিছুকে সরিয়ে রেখে যদি ভাবা যায়, তাহলে আমরা দেখব জুনিয়র ডাক্তাররা রাষ্ট্র ও সরকারের ‘legalized lawlessness’ (আইনসিদ্ধ আইনহীনতা)-এর বিরুদ্ধে লড়ছে। এর আগে কোন ডাক্তার আন্দোলন এ চরিত্র এবং অভিমুখে পৌঁছয়নি। শুধু ডাক্তারদের কথাই বা বলি কেন, অন্য কোন পেশার বা অন্যক্ষেত্রের গণসমাজের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া আন্দোলন স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে এ উচ্চতায় যেতে পারেনি। এত স্পষ্ট করে ‘legalized lawlessness’ (আইনসিদ্ধ আইনহীনতা)-এর কথাও তুলে ধরতে পারেনি। এখানেই আন্দোলনের শক্তি। এখানেই সরকারের ভয়।
ফলশ্রুতি? যে ছেলেমেয়রা স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থানে “আমার ভাইয়েরা, বোনেরা” ছিল, এখন তারাই হিমশীতল নিস্পৃহতার শিকার – যেন পশ্চিমবঙ্গের কোথাও কিছু ঘটেনি। এমনকি আরজি কর ছাড়াও আরও অন্তত ৪টি জায়গায়। তবে তারা দরিদ্র, গ্রামীণ না প্রান্তিক মানুষ – হৈচৈ তুলনায় কম হবে। কিন্তু আরজি করের অভিঘাতে আগে যেমন নিঃসারে সবকিছু সেরে ফেলা যেত, এখন আর সেটাও সম্ভব হছেনা।
এতসবের সম্মিলিত অভিঘাতে সরকারের তরফে ভাষ্যের বয়ান বদলে যাচ্ছে – সারমেয়রা চিৎকার করলেও উৎসব (নিন্দুকদের তর্জমায় উৎ-শব) চলবে, কারণ মানুষ যদি উৎসবেই না ফেরে হুল্লোর না করে তাহলে তো আন্দোলনের পাশে থাকবে (যদিও এখনও আছে তারা)। নতুন পুলিশ কমিশনারের সংক্ষিপ্ত এক বাক্যের প্রতিক্রিয়া –“সময়মতো ঊপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
শুরু হয়েছিল অবস্থানমঞ্চ তৈরি করতে বাধা দিয়ে – ডেকরটেরদের ভয় দেখিয়ে অবস্থানের জায়গা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। এমন কি, একজন জুনিয়র ডাক্তারকে মাটিতে ফেলে টেনেহিঁচড়ে সরিয়েও দেওয়া হয়েছিল। তারপরে এল, বায়োটয়লেট বসাতে চলবেনা। কিন্তু সাধারণ মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে যখন বিকল্প ব্যবস্থা করে ফেলেছে তখন বাধ্য হয়ে বায়োটয়লেটের অনুমতি দিয়েছে, বায়োটয়লেট বসেছে।
জুনিয়র ডাক্তারদের দাবী কী?
জুনিয়র ডাক্তারদের দশ দফা দাবিগুলো হল –
১। দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্যাতিতার বিচার।
২। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের অবিলম্বে অপসারণ।
৩। হাসপাতালগুলিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘রেফারেল’ (রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া) ব্যবস্থা চালু করা।
৪। প্রতিটি হাসপাতালে কত বেড ফাঁকা, কেন্দ্রীয়ভাবে তার ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা, যাতে একেবারে দূরের রোগীর স্বজনও জানতে পারে কলকাতার কোন হাসপাতালে কোন ডিপার্টমেন্টে কত বেড ফাঁকা আছে এবং কোথায় ভর্তি করা সম্ভব। এর ফলে কলকাতার হাসপাতালের ওপরে অহেতুক রোগীর অসম্ভব চাপ এড়ানো সম্ভব। রোগীদেরও এ হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতালে ছুটোছুটি করতে হয়না। রোগীর প্রাণ, ডাক্তারদের প্রাণের মতোই অতি মূল্যবান।
৫। কলেজভিত্তিক টাস্কফোর্স গঠন। সিসিটিভি, ডাক্তারদের জন্য অন কল রুম, শৌচালয়, হেল্পলাইন নম্বর, প্যানিক বোতাম চালু করতে হবে।
৬। নিরাপত্তায় সিভিক ভলেন্টিয়ারের বদলে পুলিশকর্মী নিয়োগ। সঙ্গে মহিলা পুলিশকর্মীও নিয়োগ করতে হবে।
৭। হাসপাতালগুলিকে দ্রুত শূন্যপদে নিয়োগ করতে হবে।
৮। ‘ভয়ের রাজনীতি’-তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৯। মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং রেসিডেন্ট ডাক্তারদের সংগঠনকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
১০। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল এবং রাজ্যের হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগগুলির প্রসঙ্গে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে।
সাধারণ মানুষ এবং সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন – বুকে হাত দিয়ে বলুন তো একটি সুষ্ঠু মেডিক্যাল ব্যবস্থা সচল রাখা এবং “হুমকি সংস্কৃতি”কে অতিক্রম করে স্বাভাবিক, ভয়হীন, সুস্থ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব কিনা? একে এড়িয়ে কিছু সিসিটিভি বসানোর মতো “কসমেটিক ড্রেসিং” করে কার উপকার হবে – রোগী তথা সাধারণ আর্ত মানুষের বা ডাক্তারদের? স্পষ্ট করে বোঝা দরকার, “অভয়ার”র বিচারের দাবী এবং আবার একটি “অভয়া” না হবার সঙ্গে এগুলো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে।
সিনিয়র ডাক্তার তথা জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডকটরস-এর তরফে আহ্বান
৬.১০.২০২৪-এ জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টরস, পঃবঙ্গের তরফে শারদোৎসবের প্রাক্কালে বিনম্র আবেদন:—
প্রতি
রাজ্যব্যাপী ছোট বড় সমস্ত দুর্গোৎসব উদ্যোক্তা/পরিচালকমণ্ডলী
সুধী সংবেদনশীল সহনাগরিক,
পেরিয়ে গেছে আটান্নরও বেশী বিনিদ্র রাত। নারকীয় নির্যাতন ও প্রাতিষ্ঠানিক খুনের বলি আমাদের সবার ঘরের “অভয়া” আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। প্রকৃত বিচারের আলো এখনো বহু ক্রোশ দূরে। জনগণ উত্তাল ক্ষোভের আগুনে রাজপথে রোজ, গ্রাম থেকে শহরে। গণ জোয়ার তরঙ্গায়িত আট থেকে আশির হৃদয়-অন্তঃপুরে। অভয়ার পরিবারের শূন্যতা, আমাদের সব পরিবারে।
একই সাথে পালন হোক শারদোৎসব , পাশে নিয়ে দ্রোহের উৎসবের মশালের দীপ্তি। দাবী থাকুক এক ও অভিন্ন। ‘অভয়ার প্রকৃত বিচার’। আসামি ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। চাই না দেখতে কোনো দ্বিতীয় অভয়া। ফিরে আসুক মানবতার চেনা ছন্দ। বেআব্রু হোক দুর্নীতির/হুমকি সংস্কৃতির এখনও অদেখা বহু স্তর।
এই আবহে মানুষের এই আন্দোলনের এক যোগ্য সহযোদ্ধা হিসেবে আমাদের হার্দিক আহ্বান, আপনার সমীপে–
১] পুজো মণ্ডপের প্রাঙ্গণের বৃহত্তর পরিসীমার মধ্যে, অনতিদূরে ” *অভয়ার বিচারের দাবিতে দ্রোহ-মঞ্চ এবং শপথ* *কোণ* “, পুজোর দিনগুলোতে ক্রিয়াশীল থাকুক, স্মৃতির সম্মানে প্রজ্জ্বলিত প্রদীপ এবং অসংখ্য দর্শনার্থীদের মনের কথা লিপিবদ্ধ করার নোটবুক সহ।
২] পুজো মণ্ডপের চৌহদ্দিতে যে মাইক সিস্টেম ক্রিয়াশীল থাকবে, সেখানে প্রতি ঘণ্টায়, সব হারানো অভয়ার বাবা-মা এর ” *দু মিনিট এর আর্তি ও আবেদন”,* আমাদের সব্বার সন্তান/ বোন এর দ্রুত বিচারের দাবীকে বাস্তবায়িত করতে, সম্প্রচার করার জন্য হার্দিক প্রয়াস গ্রহণের আবেদন রাখছি।
মনের পাথর সরছে না কিছুতেই। ক্ষোভের আগুনও নেভবার নয় সহজে। তাই আশা রাখি, আমাদের আন্তরিক আবেদনে সাড়া দেবেন আপনারা প্রত্যেকে।
সবাইকে শারদীয় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা।
ডাঃ পুণ্যব্রত গুণ
ডাঃ হীরালাল কোনার
যুগ্ম আহ্বায়ক
জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টরস, পঃবঙ্গ
[ পঃবঙ্গের চিকিৎসক সংগঠনগুলির সম্মিলিত মঞ্চ]
আমরা কী দেখছি?
১. আমরা একটি অসম যুদ্ধে নেমেছি। পবিত্র ক্রোধ, সততা, নিষ্ঠা, বিবেক এবং বুদ্ধিমত্তা ছাড়া আর কোন পুঁজি নেই। ফলে প্রতিটি পদক্ষেপ সমবেতভাবে আলোচনা সাপেক্ষে নেওয়া দরকার। এখানে জুনিয়র-সিনিয়র ডাক্তার এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত মতামত তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।
২. আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশি মাটির লড়াই বেশি জরুরী। এখানেই আন্দোলনের জয়-পরাজয় নির্ভর করবে।
৩. সর্বোপরি, আমাদের ঐক্য অটুট রাখা একমাত্র মন্ত্র হওয়া দরকার।
৪. শুধু এটুকুই নয়, এ আন্দোলনের অভিঘাতে নারীরা সামাজিক সুরক্ষা এবং ব্যক্তি নারীর স্বাতন্ত্র্যচিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। সমস্ত নাগরিক সমাজ – সবরকমের দলীয় প্রভাবকে দূরে সরিয়ে রেখে – একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছে। এরকম এক তৃতীয় পরিসর বা নাগরিক পরিসর স্মরণীয়কালের মধ্যে বাংলার তথা ভারতের সমাজে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য উন্মোচিত হয়নি।
রাজনৈতিক দল এবং ঝান্ডা ছাড়া মানুষের বিশুদ্ধ আবেগ এবং পবিত্র ক্রোধকে রাষ্ট্র সবসময় ভয় পায়। চায়, একে বারংবার সহিংস হবার পথে ঠেলে দিতে। সফল না হলে একে প্রশমিত করার জন্য গণতন্ত্রের তথাকথিত চারটি স্তম্ভই কাজ করে – বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্ন মাত্রায়। সে কাজ করা শুরু হয়েছে, এবং করবেও। আমাদের রাস্তা ধর্ণায় বসে থাকা, পথে নেমে বন্ধু এবং সাথীকে চিনে নেওয়া। নাগরিক সমাজের বিপুল অংশগ্রহণ আমাদের নতুন ‘Human Bondage’ তৈরি করেছে। অজানা অচেনা প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ এ আন্দোলনের সাথে জুড়ে যাচ্ছে। আড়ে-বহরে “অভয়া”-র জন্য বিচার চাওয়ার অবয়ব ক্রমাগত বড়ো হচ্ছে।, দীর্ঘ হচ্ছে। আরও গভীরতায় প্রবেশ করছে।
আমাদের কাছে অজানা শিশু-কিশোর-কিশোরী-যুবক-যুবতী-মাস্টার মশাই-দিদিমণি-দাদা-বৌদি-ভাইদের আমরা জড়িয়ে ধরছি – যেন আরও বেঁধে বেঁধে থাকতে পারি আমরা।
বিশ্বখ্যাত সঙ্গীত Imagine-এর গায়ক এবং লেখক জন লেনন ১৯৬০-এর দশকের উত্তাল সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন – “When it gets down to having to use violence, then you are playing the system’s game. The establishment will irritate you – pull your beard, flick your face – to make you fight. Because once they’ve got you violent, then they know how to handle you. The only thing they don’t know how to handle is non-violence and humor.”
হ্যাঁ, রাষ্ট্র হিংস্রতাবর্জিত মাটি কামড়ে পড়ে থাকা আন্দোলনের যথেষ্ট মোকাবিলা করার পদ্ধতি এখনও ভালোভাবে শেখেনি – পুলিস, গুণ্ডা, বুলেট এবং লাঠির ব্যবহার ছাড়া। এরা কৌতুকও গ্রহণ করতে পারেনা। এখানে আমরা চার্লি চ্যাপলিনকে স্মরণ করে কৌতুকে পর্যুদস্ত করার কাজ শুরু করতে পারি। দাবী না মেটা পর্যন্ত আমাদের ফিরে আসার জন্য পাড়ে কোন নৌকো বাঁধা নেই – No Boat to Return।
আপনারা সবাই আসুন, পাশে থাকুন, বেঁধে বেঁধে থাকুন, আমাদের ফিরে আসতে সাহায্য করার জন্য। ডাক্তারদের একমাত্র কাজ রোগিদের চিকিৎসা করা।
আরেকটি কথাও পাঠকেরা ভেবে দেখবেন। জুনিয়র ডাক্তারেরা বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছেন, শহরের এই বড়ো হাসপাতালগুলোর ওপরে এত চাপ কেন? কোথায় গেল আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্যের প্রাণবন্ত উপস্থিতি? ভোর কমিটি (জোসেফ ভোরকে নেতৃত্বে রেখে ১৯৪৩ সালে তৈরি এবং ১৯৪৬ সালে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে চিকিৎসাব্যবস্থার কেন্দ্রে স্থাপন করার জন্য সুপারিশ করেছিল) সহ বিভিন্ন সময়ে একের পরে এক সরকারি কমিটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনস্বাস্থ্যের কেন্দ্রে স্থাপন করতে বলেছে। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার তরফে বলা হয়েছে – “All people, everywhere, have the right to achieve the highest attainable level of health. This is the fundamental premise of primary health care (PHC). Primary health care is a whole-of-society approach to effectively organize and strengthen national health systems to bring services for health and wellbeing closer to communities.”
জনস্বাস্থ্যের দর্শন একটি ভিন্ন অবস্থান। এটা কোন মেডিক্যাল শিক্ষার প্রচলিত বুদবুদের বাজার নয় (অর্থনীতির ভাষায়) বা এর মাঝে রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রের মতো কোন লুকনো শিক্ষাক্রম নেই। এখানে সবকিছুই অবারিত খোলা এবং মানুষ ও সমাজের প্রতি সৎ দায়বদ্ধতাই একমাত্র ভিত্তি। নিজের নিজের সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবন-চর্যা এবং সর্বোপরি পড়শি-চেতনা ধরে আছে ভারতের মতো আরো বহু দেশের অসমসত্ত্ব বিপুল জনসমস্টিকে।
এতগুলো সম্ভাবনা আমাদের এক অর্থে শিক্ষক জুনিয়র ডাক্তারেরা সমাজের কাছে, বৃহত্তর ডাক্তারসমাজের কাছে এবং একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের কাছে খুলে দিয়েছে। এরকম সম্ভাবনা বারবার আসেনা। একে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নাগরিক সমাজের।
কোথাও মানুষ ভাল রয়ে গেছে ব’লে
আজও তার নিঃশ্বাসের বাতাস নির্মল;
যদিও উজীর, কাজী, শহর-কোটাল
ছড়ায় বিষাক্ত ধুলো, ঘোলা করে জল
তথাপি মানুষ আজ শিশুকে দেখলে
নম্র হয়, জননীর কোলে মাথা রাখে,
উপোসেও রমণীকে বুকে টানে; কারও
সাধ্য নেই একেবারে নষ্ট করে তাকে।
(বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)














দাঁত কামড়ে অহিংস গণআন্দোলন দমিয়ে দেয়া রাষ্ট্রের অজানা । নতুন প্রজন্মের এই সংগ্রামী সন্তাদের প্রণাম ।
দেখে শুনে যা মনে হচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তরই আসল ঘুঘুর বাসা। কোথা থেকে এরা এত সাহস পায়?
পুলিশ কমিশনারের ভাষাতেই বলি ” সময়মত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Very good 🙏🙏🙏
Our motto “ there is no return from going ahead with the present movement “
ঠিক। ” বুদ্ধিমত্তা ছাড়া আমাদের কোন অস্ত্র নেই।” যার ঐক্যবদ্ধ স্বর সমস্ত অত্যাধুনিক অস্ত্রকেও স্তব্ধ করার ক্ষমতা রাখে। এই শুভ বুদ্ধির জয় হোক। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক।
Salute to these fighters 🙏🏼