সময়টা রাত দু’টো, অনশনের ৫৩ ঘন্টা অতিবাহিত, আন্দোলনের ৫৯ দিন। সরকারের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। অনশন প্রাঙ্গনে লুটিয়ে পড়লেন একজন- না কোন অনশনকারী নন। একজন সল্টলেকে কর্মরত শেফ- সারাদিন একখানা জাতীয় পতাকা হাতে ঘুরে বেরিয়েছে লোকটা। অবশেষে শরীর আর দেয়নি। জিজ্ঞাসা করছি, কী কষ্ট হচ্ছে? অর্ধচৈতন্য অবস্থায় উত্তর ম্যাডামের কথা খুব মনে পড়ছে, খুব কষ্ট হচ্ছে!!
এদিকে অনশন মঞ্চে সাত যোদ্ধা, অধিকাংশই বহুদিনের পরিচিত। সবচেয়ে পুরোনো দিনের চেনা বুয়া, সেই স্কুলের দিনের সম্পর্ক। তাকে দেখছি, দূর থেকে, বাসের খাঁচা পেরিয়ে। না কাছে যাওয়ার কোনো বাধা নেই, কিন্তু যেতে পারছিনা। কষ্ট হচ্ছে, রাতের খাবারটা দলা পাকিয়ে উঠছে, বমি পাচ্ছে… অনুষ্টুপ, পুলস্ত্য, স্নিগ্ধা- সবাইকেই দেখলাম। মুখগুলো শুকিয়ে গেছে। চরম অপরাধবোধ কাজ করছে, মনে হচ্ছে আমাদের জন্য এরা আজ চরম পদক্ষেপ নিয়েছে- আমাদের লড়াই এরা লড়ছে। আমি বেশ খাচ্ছি, ওয়ার্ডে যাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি।
দেখতে দেখতে আরেকটা মুখ দেখলাম, তনয়াদির। খুব মনে পড়ে, আমার ইন্টার্নশিপের প্রথম দিন। দিদি অর্ডার করে খাবার আনিয়েছিল। আমি টাকা দিতে গেছিলাম বলে খুব বকা দিয়েছিল। প্লাস্টিক পেতে কেমন করে অনকল রুমে খেতে হয়, সেসব দেখিয়েছিল। আজ আমার সেই দিদিটা দু’দিনের উপর কিছু খায়নি। অথচ হাসছে, মোবাইলে কীসব দেখছে। আমি তাকে গিয়ে বলতে পারছিনা, দিদি তোমার জন্য খাবার এনেছি, খাও!!
মনে হচ্ছে শ্মশানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। পশ্চিমবঙ্গের মানবতার শ্মশান। মানবিকতা দহন হচ্ছে চোখের সামনে। আমরা তাকিয়ে দেখছি, জানি ঢাকের আওয়াজ আসবে কাল থেকে। আমার অশৌচ এবার। আমার মানবিকতা মারা গেছে।









