যে গাছে ফুল ফল হয়না তার পরিচর্যা মানুষ করে না। কয়েক বছর দেখার পর গাছ কেটে নতুন গাছ লাগায়। গরু দুধ না দিলে গেরস্ত সেই গরু পোষে না। হাঁস মুরগী বাড়ির খেয়ে অন্যের বাড়ি গিয়ে ডিম পাড়লে গেরস্ত বেশিদিন সঝ্য করে না। কয়েকদিন দেখে কেটে ফিস্ট করে। বাজে ভাষায় বললে আমরা যেমন বাগান করি, গরু হাঁস মুরগী পুষি ঠিক তেমনি আমাদের ট্যাক্সের টাকায় কিছু সরকারি বিভাগের ভরন পোষন করি। যাদের কাজ আমাদের ন্যায় দেয়া, সুরক্ষা নিশ্চিত করা। পুলিশ সিবিআই বিচার ব্যবস্থা সব কিছুই জনগণের টাকায় পোষিত। এদের কাজ জনগণকে ন্যায় সুরক্ষা ইত্যাদি প্রদান করা। প্রকৃতি বা ঈশ্বর কেউ এই সংস্থাগুলো বানায়নি। এগুলি দেশের মানুষের বানানো। নাগরিকের অর্থে এদের প্রত্যেকের মাইনে হয়। বাকি সুযোগ সুবিধার বন্দোবস্ত হয়।
এতগুলো কথা লিখলাম বর্তমানের কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে।
আর জি করের খুন ধর্ষনের কয়েকমাস অতিক্রান্ত।এখনো আমরা জানতে পারিনি তিলোত্তমা কেনো খুন হয়েছিলো। আত্মহত্যার তত্ত্বের পিছনে কি ছিলো। কারা অপরাধস্থল মাছের বাজার বানিয়েছিলো। প্রমান লোপাট কারা করেছে। কাকে বা কাদের বাঁচাতে এই প্রমাণ লোপাট করা হয়েছিলো। টালার ওসি গ্রেফতারে এটা প্রমাণিত কলকাতা পুলিশ এতে জড়িত। এই ষড়যন্ত্রে বিনীত গোয়েল অভিষেক গুপ্তা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এদের ভূমিকা কি। কোন ষড়যন্ত্রের ফলে পুরো পুলিশ দপ্তর অভিক দে কে লুকোনোর জন্য ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় কে দিয়ে মিথ্যা প্রেস কনফারেন্স করলো। দেহ তাড়াহুড়ো করে পোড়ানোর নির্দেশ কার ছিলো। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী রাত দুটো পর্যন্ত ফোনে কি মনিটরিং করেছিলেন। বিনীত গোয়েল আদৌ মুখ্যমন্ত্রীকে সত্যি জানিয়েছিলো, নাকি ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের প্রেস কনফারেন্সের মতো মিথ্যে রিপোর্ট জানিয়েছিলো। আমরা এখনো জানতে পারিনি অপরাধস্থলে কারা ছিল আর কেনইবা ছিলো।
এই সমস্ত উত্তরের জন্য আমরা তাকিয়ে আছি সিবিআই তদন্তের আর সুপ্রিম কোর্টের মনিটরিংয়ের দিকে।
এখনো পর্যন্ত যা দাঁড়িয়েছে সঞ্জয় রাই খুন ধর্ষনের একমাত্র অপরাধী। প্রমাণ লোপাটে সন্দীপ ঘোষ আর টালার ওসি অভিজিৎ মন্ডল। তোলাবাজি আশীষ পান্ডে।শেষমেষ যদি দেখা যায় সিবিআই তদন্তে এটাই বেরুলো, তাহলে বলবো দেশের মানুষের সত্যি ভেবে দেখার সময় এসেছে। নোবেল চুরি আমরা ক্ষমাঘেন্না করে দিয়েছি। তদন্ত চলাকালীন বিনয় মিশ্র ভানুয়াতুয়াতে চম্পট দিয়েছে, সেটাও আমাদের গায়ে বিশেষ লাগেনি। আর জি কর কেস একটি মৃত্যুর ঘটনা। এটাকে এতো সহজে ছেড়ে দেয়া যায়না। এখানে সিবিআই সঠিক তদন্ত করতে না পারলে সেটা ভয়ংকর। সেক্ষেত্রে দেশের মানুষকে ভাবতে হবে,সিবিআই নামক প্রতিষ্ঠান আদৌ চালিয়ে যাবার দরকার আছে কিনা। সেক্ষেত্রে জাস্টিসের আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ হয়তো হবে সিবিআই এর অবলুপ্তির দাবি নিয়ে। ন্যায়ের দাবি শুধু বিচারের দাবি নয়। তদন্ত আর পুলিশ ব্যবস্থার সুস্থতার দাবিও বটে। সিবিআই এর বর্তমান কার্যকারিতা হয়তো ঠিক করে দেবে আর জি কর আন্দোলনের ভবিষ্যত অভিমুখ। আমি এখনো বিশ্বাস করতে চাইবো সিবিআই নিরপেক্ষ তদন্ত করবে। মানুষকে সিবিআই নিয়ে আর আন্দোলনে নামতে হবে না।











