ময়দান ভারি হয়ে নামে কুয়াশায়
দিগন্তের দিকে মিলিয়ে যায় রুটমার্চ
তার মাঝখানে পথে পড়ে আছে ও কি কৃষ্ণচূড়া?
নিচু হয়ে বসে হাতে তুলে নিই
তোমার ছিন্ন শির তিমির।
(“তিমির বিষয়ে দু’টুকরো” – শঙ্খ ঘোষ)
কবি, তুমি তো তুলে নিতে পেরেছিলে “তোমার ছিন্ন শির, তিমির”। আমরা কাকে তুলে নেব, কবি? আমরা তো চিরদিনের জন্য হারিয়েছি আমাদের কন্যা “অভয়া”কে। তার দেহ কিংবা ছিন্ন শির কোনটাই তো পাইনি! “অভয়া”র জন্য ওর হাজারে হাজারে ভাইবোন গলায় রক্ত তুলে আন্দোলন করেছে, দিনের পরে দিন অনশনে বসেছে।
তোর জন্য রাত জেগেছে, রাতের দখল নিয়েছে রাজ্যব্যাপী নারীরা। লাখের বেশি মানুষ শুধু তোর বিচার চেয়ে অন্ন দিয়েছে, জল দিয়েছে, মাথার ওপরে ছাউনি দিয়েছে, রাজপথের দখল নিয়েছে বারেবার। তারা তো কেবল তোর সুস্থ বিচার চেয়েছিল। তোর বয়স্ক বাবা-মা আমাদের সবার সঙ্গে এসেছেন। তোর বিচারের জন্য পথে নেমেছেন, সর্বোচ্চ আদালতে গেছেন। আলো ঝলমলে দুর্গাপুজোর দিনে প্রায়-নিষ্প্রদীপ প্রহর যাপন করেছেন।
তুই তো বহুঘন্টা ডিউটি একটু নিরাপদ, নিশ্চিন্ত, নিভৃত ঘুমের খোঁজে ঘুমের দেশে গিয়েছিলি। সেসময় –
নেকড়ে-ওজর মৃত্যু এল
মৃত্যুরই গান গা –
মায়ের বাপের চোখে বাপের চোখে
দু-তিনটে গঙ্গা।
দুর্বাতে তার রক্ত লেগে
সহস্র সঙ্গী
জাগে ধক্ ধক্, যজ্ঞে ঢালে
সহস্র-মণ ঘি।
তোর জন্য আমরা সবাইকে বিশ্বাস করেছি। কাকে নয়? সিবিআই, তারপরে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় যখন তোর বিচারের দেখভাল করার হাই কোর্টের হাত থেকে কেস নিয়ে নিল সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়কে, আমাদের রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে (যিনি দ্রুত ফাঁসী ছাড়া বিকল্প সাজার কথা ভাবেন নি), প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের (কয়েকজনকে বাদ দিয়ে)। আমরা কোথায় না গিয়েছি? নবান্ন, সুপ্রিম কোর্ট, নামীদামী সওয়ালজীবী, স্বাস্থ্যভবন, খোলা আকাশের নিচে স্বাস্থ্যভবনের সামনে (পরে ছাউনি হয়েছে), ময়দানে, জনতার দুয়ারে দুয়ারে। আমাদের একটাই তো চাওয়া ছিল – তোর নৃশংসতম ধর্ষণ ও মৃত্যু রহস্যের কিনারা করা, দোষীদের হাতে হাতকড়া পড়া। খুব বড়ো বা অপূরণীয় দাবী ছিল কী? আমাদের পবিত্র ক্রোধ শ্লোগানের চেহারা নিয়েছে “We Want Justice” বদলে গেছে “We Demand Justice”-এ।
কার কাছে বিচার চাইবো? কার কাছে বিচার দাবী করব আমরা? তুই বিচার চাইবি কোথায়? আমাদের ক্ষমা করবেন, বাবা-মায়েরা। আমাদের অবস্থা অনেকটা ভ্যানগখের “Prisoner’ Round” ছবির মতো। চক্রব্যূহে অভিমন্যুর মতো – ঘিরে রেখেছে লুম্পেন বাহিনী, সাদা অ্যাপ্রন পরা মুখহীন ঘাতকেরা, একটি গোটা সিস্টেম – যে সিস্টেমের সর্বাধিনায়ক প্রধানমন্ত্রীর মুখে একবারের জন্যও মেয়েটির নাম উচ্চারিত হয়নি।
(আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার – অর্ণব মুখার্জি – হাত জোড় করে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলছে)
(ভ্যান গখের Prisoner’ Round)
আমাদের “অপরাধ”
সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখ, ২০২৪। বৃষ্টিস্নাত কলকাতার সে রাতের কথা মনে পড়ে? সে রাতের ছবি ওপরে। “দিদি” হিসেবে আমাদের মাননীয়া চলে গিয়েছিলেন ১০ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থানরত জুনিয়র ডাক্তারদের মাঝে। “ভাই”দেরকে অবস্থান তুলে নিয়ে কাজে যোগ দিতে বলেছিলেন। সে সন্ধেতেই জুনিয়র ডাক্তারেরা তাঁর ডাকে কালীঘাটের বাসভবনে যায় আলোচনার জন্য। আমাদের ভাইদের দাবী ছিল, সমগ্র আলোচনা লাইভ স্ট্রিমিং করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের অজুহাতে পরিষ্কার না করে দেওয়া হয়। “দিদি”র “ভাইয়েরা” দিদির বাড়িতে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যখ্যান করে আবার অবস্থান মঞ্চে ফিরে আসে – কেউ কেউ চোখের জল নিয়ে।
যৌক্তিকভাবেই, এসমস্ত দুর্নীতির নিয়ামক সরকারের তরফে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য দপ্তরের সেক্রেটারির পদত্যাগের দাবীতে “ওরা বীর, ওরা আকাশে জাগাতো ঝড়”-এর বাহিনী স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছিল, যেমনটা তার আগে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সাথে দেখা করে তাঁর পদত্যাগের দাবীপত্র এবং একটি সবল, ঋজু শিরদাঁড়া উপহার দিয়ে এসেছিল খোদ লালবাজারে।
একদল মেধাবী, মানুষের চিকিৎসা করার স্বপ্ন-মাখা চোখ নিয়ে তাদেরই সাথী আরেক স্বপ্ন দেখা সাথী “অভয়া”র নৃশংস খুন এবং নৃশংসতম হত্যার (বিশেষণদুটোর স্থান বদলও হতে পারে) বিচার (সুবিচার অনেক দূর গ্রহের কোন ছায়াময় অস্তিত্ব!) এবং সরকার ও রাষ্ট্রের তরফে সযত্নে তৈরি করা “আইনসিদ্ধ আইনহীনতা” (legalized lawlessness)-এর বিরুদ্ধে তখন দীর্ঘ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, একটি সিস্টেমের মধ্যেকার নীরব “সন্ত্রাস সিন্ডিকেট”, সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিকভাবে টাকার বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীদের পাস-ফেল করানো বা নম্বর বাড়ানো, মর্গের মৃতদেহ বিক্রী থেকে নিম্ন মানের ওষুধ (কোন কোন ক্ষেত্রে ওষুধই নয়, গায়ে দেবার পাউডার) সরবরাহের ঠিকাদারি থেকে কয়েক শ’ কোটি টাকা কামানো, ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল এবং মেডিক্যাল শিক্ষাবিভাগের অভ্যন্তরের অবর্ণনীয় দুর্নীতি – সমস্ত কিছুর ক্লেদাক্ত আবরণকে একটানে খুলে ফেলে দিচ্ছে আমজনতার সামনে। এ সাম্রাজ্যের রাজধানী আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ।
তুই তো লড়েছিলি শিরদাঁড়া সোজা রেখে এই কুনাট্য রঙ্গের বিরুদ্ধে, “অভয়া” – তোকে হারিয়ে ফেললাম চিরকালের জন্য।
জানিস “অভয়া, হরিয়ানার নির্বাচনের আগে ধর্ষক বলে সুপরিচিত রাম রহিমের দীর্ঘ সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি পায়। আমাদের স্মৃতিতে তাড়া করে ফেরে পেশাদার ধর্ষক “বাবা” রাম রহিম ২০ বার প্যারোলে ছাড়া পেলেও, বিলকিস বানুর খুনিদের বেকসুর খালাসের পরে মালা পরিয়ে বরন করা হলেও (এরকম হাত-ভরা দৃষ্টান্ত দেওয়া যায়) জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনারত স্কলার উমর খালিদ “দেশদ্রোহিতা”র অভিযোগে এখনও মুক্তি পাননি। এছাড়া অশীতিপর বৃদ্ধ খ্রিস্টান যাজক ফাদার স্ট্যান স্বামী বা জি এন সাইবাবার মতো মানুষদের এক বিশেষ পদ্ধতিতে “প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা”র কথা তো আমরা জানিই।
অনুসন্ধানের গতিপথ
“অভয়া” তুই কী ওই তারাপুঞ্জের মধ্যে থেকে দেখেছিস গতকাল সন্দীপ ঘোষ এবং অভিজিৎ মণ্ডল সিবিআই ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিতে পারেনি বলে জামিন পেয়ে গেছে?
কিন্তু অনুসন্ধান এখনও চলছে! এসো আমরা উদ্বাহু হই! কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চ. ৪ দিনে কেটে যাবার পরে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে দিয়েছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে – কলকাতা পুলিসের তরফে তদন্ত চলাকালীন – কী কী প্রমাণ মুছে গেছে তার হদিশ পাওয়া মুশকিল। এরপরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি মাননীয় প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে ৩ জন বিচারপতির বেঞ্চ সুও মোটো মামলা নিজেদের হাতে তুলে নেয়। পরবর্তী অগ্রগতি শ্লথ – অনেকটা হিমঘরে প্রবেশের মতো। আসলে আমাদের মতো ভীরু মানুষ সিঁদূ্রে মেঘে ডরায়।
তদুপরি সিবিআই-এর তদন্ত প্রক্রিয়া! সে যে কী চায়, কিভাবে এগোতে চায় – সে কেবল “ভগায় জানে”! এটা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। স্বাসভাবিক নিয়মেই কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী চলবে। এবং আমরাতো দেখেছি, সর্বশক্তিমান কেন্দ্রের রাজারা আরজি কর নিয়ে কী ধরনের হিরণ্ময় নীরবতা পালন করছেন। শুধু তাই নয়, সিবিআই-এর ডিরেক্টর কেন্দ্রের নির্বাচিত। ফলে কেন্দ্র-রাজ্য দু’তরফা মাধুর্য্যের ওপরে নির্ভর করবে তদন্তের গতিপ্তহ।
আমাদের আইনি পথগুলো কণ্টকাকীর্ণ। এর শেষ কোথায় আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। অনেকটা আবু সৈয়দ আয়ুবের রবিঠাকুরকে নিয়ে লেখা “পথের শেষ কোথায়?”। ফলে পথেই হবে আমাদের নতুন করে এবং বারেবারে পথ চেনা। আমরা পথ ছাড়িনি। পথ ছেড়ে দিচ্ছি না।
এরপরেও কথা থাকে
প্রসঙ্গত উলেখযোগ্য, ১৯৪৮ সালে যখন খসরা সংবিধান নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে তখন সংবিধান রচনা কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আয়ার বলেছিলেন যে, সংবিধানে বলা কথা এবং বিচার ব্যবস্থার মধ্যে যে বিরোধ দেখা দিতে পারে তার অন্যতম কারণ হবে “ব্যক্তি বিচারকের নিজস্ব স্বভাব বৈশিষ্ট্য (ইডিওসিনক্রেসিজ) এবং পক্ষপাত (প্রেজুডিস)।” এরকম কথা বর্তমান প্রধান বিচারপতির পিতৃদেব সুপ্রিম কোর্টের ১৬তম প্রধান বিচারপতি যশবন্ত বিষ্ণু চন্দ্রচূড়-ও ভিন্ন প্রসঙ্গে ইঙ্গিতাকারে বলেছিলেন। (দ্রষ্টব্যঃ জন হ্যারিস, লিবার্টিঃ দ্য ইন্ডিয়ান স্টোরি)।
এ আন্দোলনের ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে শাসকদল এবং সরকারকে এর প্রতিক্রিয়ায় নিত্যনতুন কৌশল ভাবতে হচ্ছে। জুনিয়র ডাক্তারদের proactive movement সরকারকে reactive position-এ ঠেলে দিয়েছে। এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এরা বিভিন্ন স্তরে গণ অংশগ্রহণের flood gate খুলে দিল।
শুধু এটুকুই নয়, এ আন্দোলনের অভিঘাতে নারীরা সামাজিক সুরক্ষা এবং ব্যক্তি নারীর স্বাতন্ত্র্যচিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। সমস্ত নাগরিক সমাজ – সবরকমের দলীয় প্রভাবকে দূরে সরিয়ে রেখে – একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছে। এরকম তৃতীয় পরিসর বা নাগরিক পরিসর স্মরণীয় কালের মধ্যে উন্মোচিত হয়নি।
রাজনৈতিক দল এবং ঝান্ডা ছাড়া মানুষের বিশুদ্ধ আবেগ এবং পবিত্র ক্রোধকে রাষ্ট্র সবসময় ভয় পায়। চায়, একে বারংবার সহিংস হবার পথে ঠেলে দিতে। সফল না হলে একে প্রশমিত করার জন্য গণতন্ত্রের তথাকথিত চারটি স্তম্ভই কাজ করে – বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্ন মাত্রায়। সে কাজ করা শুরু হয়েছে, এবং করবেও। আমাদের রাস্তা ধর্ণায় বসে থাকা, পথে নেমে বন্ধু এবং সাথীকে চিনে নেওয়া। নাগরিক সমাজের বিপুল অংশগ্রহণ আমাদের নতুন ‘Human Bondage’ তৈরি করেছে। অজানা অচেনা প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ এ আন্দোলনের সাথে জুড়ে যাচ্ছে। আড়ে-বহরে “অভয়া”-র জন্য বিচার চাওয়ার অবয়ব ক্রমাগত বড়ো হচ্ছে।, দীর্ঘ হচ্ছে। আরও গভীরতায় প্রবেশ করছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হল – (১) আমাদের সন্তানসম জুনিয়র ডাক্তারেরা একটি অতি শীলিত, দৃঢ় এবং প্রত্যয়ী সামজিক যুক্তিবোধের জন্ম দিয়েছে, যুক্তি এবং শিষ্ট বিতর্কের সীমানা কোন সময়েই অতিক্রম করেনি, (২) এর পরিণতিতে অগণন মানুষের অংশগ্রহণের মাঝেও নিঃসারে এই শিষ্ট যুক্তির প্রয়োগ ও পরিণতিতে অনুশীলনের সূচনা করেছে। আজকের অশিষ্ট, কদর্য, ক্লেদাক্ত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিবেশে এ এক জীবন্ত সামাজিক যুক্তির প্রতিরোধ।
এটুকু প্রাপ্তি আমাদের ইতিহাসের মহাফেজখানায় চিরকালীন স্থান করে নেবে – এ আমাদের বিশ্বাস। তবে একটি প্ররোচনার ব্যাপারে সয়াবিকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অপ্রাপ্তি পূরণের ক্ষেত্র হিসেবে যেন আমরা এদের আন্দোলনকে বেছে না নিই। তেমনি এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোন রাজনৈতিক দল তৈরি করার স্বপ্নবিলাসকে আমরা যেন আমল না দিই। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন অব্দি ওদের ওপরে আরও জানা-অজানা নানা পথে বিভিন্ন আক্রমণ নেমে আসবে। নাগরিক সমাজের দায়িত্ব ওদেরকে আগলে রাখার।
শূন্যতাই জানো শুধু? শূন্যের ভিতরে এত ঢেউ আছে
সেকথা জানো না?
(“বাবরের প্রার্থনা” – শঙ্খ ঘোষ)
তিমিরের মতোই “অভয়া” এবং আমরা সর্বশক্তিমান সরকার এবং রাষ্ট্র, মদতপুষ্ট নিডিয়া, এদের বিশ্বস্ত আঘাতকারী বাহিনী, বেন্থামের panopticon-এর মতো সর্বত্রগামী নজরদারি ব্যবস্থা এবং হুমকি ও সন্ত্রাস-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে।
এই অসম যুদ্ধে তিমিরের মতোই তুই ও “ছিন্ন শির” হয়েছিল। আমরা জানু পেতে বসে কৃতাঞ্জলিপুট্র হাতে তুলে তোকে আমাদের হৃদয়ের কোটরে রেখে দিয়েছি।
আমাদের মাঝখানে প্রথম বৃষ্টির বিন্দু নীল
আর তুমি নিচু হয়ে তুলে নাও একমুঠো মাটি
শূন্যে ছড়াও, আর চোখে চোখে না তাকিয়ে ব্লোঃ
ভেবো না। ভেবো না
কিছু। দেখো সব ঠিক হয়ে যাবে।
(“সন্ততি” – শঙ্খ ঘোষ)
















Jothartho likhecho.
ধর্ষণ, খুন তো আটকানো যায়নি, নারী সুরক্ষা তো রীতিমতো প্রশ্নের মুখে, অভয়াকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া তো সম্ভব নয়, অন্তত আসল অপরাধী/রা তো সর্বোচ্চ শাস্তি পাক। কিন্তু সরকার এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাসংস্থার গতিপ্রকৃতিও আম জনতার মনে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে আশাহত হচ্ছেন তাঁরা। তার উপর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে ভয়াল কুৎসিত দিকটি প্রকট হয়েছে, সেটিও সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে এক বিরাট ধাক্কা। এই সমস্ত কারণে মনের মধ্যে রাগ, দুঃখ, ক্ষোভ জমাট বেঁধেই রয়েছে, এমন সময়ে লেখকের এই অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক লেখাটি মনের উপর গভীর প্রভাব ফেললো। আজকের লেখাটির একজন পাঠক হিসাবে এটুকু বলতে পারি যে, লেখকের হৃদয়ের নির্যাস পাঠকের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে, আর্দ্র করেছে, একসঙ্গে প্রাণিতও করেছে… শ্রদ্ধা রইলো…🙏
Ei lojja rakhi kothay?
Swadhinota pelam , Swadhin holam ki ?
গণতন্ত্র নয়, একনায়কতন্ত্র সেটিং তন্ত্র চলছে ।
We Demand Justice and we will fight till end.
অভয়রা একদিন বিচার পাবে তার অপেক্ষায় আমরা, তবে আপনার এই কলমের জোরে বিচার পাওয়ার আন্দোললে নতুন রসদ যোগাবে তা আমার বিশ্বাস।
Sahomot, sothik likhechhen 🙏🙏🙏.
সহমত।
ব্যর্থতা থাকবেই মেনে নিয়েও শেষ অবধি লক্ষ্যে পৌঁছতে পারা যায়নি, সেটা আক্ষেপের। এখন বিজেপির মিডিয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সব মিলিয়ে ফেক নিউজ ছড়িয়ে ছড়িয়ে এমন জায়গাতে নিয়ে এসেছে যে কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যে কিছুই সাধারণ নাগরিক হিসেবে বোঝা যাচ্ছে না আর।
এটা শাসক শ্রেণীর পুরনো খেলা। রুণু গুহ নিয়োগীকেও promotion দেওয়া হয়েছিল। বন্দী মুক্তি আন্দোলন কে cashকরে বামেরা তখন ক্ষমতায়। আজ শাসক দল গুলি ভোটের জন্য বিরোধীতার খেলা খেলে।আদপে পরষ্পরের স্বার্থ দেখে। কারন প্রতিটি দল আধা সামন্ততান্ত্রিক আধা ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা কে টিকিয়ে রাখতে চায়। জনগন আবার পথে নামবে এখনো হয়তো কোথাও বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখছে,কারন তদন্ত ও বিচার সময় সাপেক্ষ।এটা বাস্তব। কিন্তু অন্যথা হলে মানুষ আবার শান্তিপূর্ণ পথে রাস্তার নামবে। প্রকৃত বিচার দিতে হবেই। শাসক দলগুলো এটা জানে এবং ভীত। শুধু অপেক্ষা।
অভয়া দুঃখে ও যন্ত্রণায় শেষ মুহূর্তে হয়তো বা দু-এক ফোঁটা চোখের জল ফেলে থাকতে পারে। কিন্তু এখন নিশ্চয়ই আমাদের নির্বিকার ভাব দেখে ঐ জল ফেলার জন্য আফশোষ করছে।