এতদিন বুকে ব্যথা, নিতম্বে ব্যথা থেকে শুরু করে কান ফুটো করানোর ফিটনেসের জন্য ইকো দেখলাম। এখন গা সয়ে গেছে। ইকো একটা স্বাভাবিক পরীক্ষা- হিমোগ্লোবিনের মতো। করিয়ে নিলেই হয়। পাড়ার কোয়াক, সে ইসিজি বোঝেনা, কিন্তু সে জানে ইকো করানো দরকার- ইকো হচ্ছে। এর পেছনে একটা বড় আর্থ-সামাজিক খেলা আছে। কেউ টাকাপয়সা দিয়ে বাইরে করাচ্ছে, আবার তার একটা অংশ আমরা হাসপাতালে পাচ্ছি, ফ্রি-তে ইকো করিয়ে নেওয়ার ধান্দায় লোকে আসছে। করাচ্ছে নির্বিচারে। ইকোর কোয়ালিটি তলানিতে ঠেকে মাটির নিচে ঢুকতে চললো। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর আমাদের হাসপাতালে প্রায় ৫০,০০০ ইকো হয়েছে, কম করে বললাম। আসল হিসাব আরো অনেক বেশি। প্রথম দিকে ব্যাপারটা বিরক্তিকর লাগতো, এখন এটাই স্বাভাবিক লাগছে। হোক হোক, ইকো হোক…
এই অব্দি ব্যাপারটা নরমাল ছিল, কারণ ব্যাপারটা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর বার্ডেন অব্দিই সীমিত ছিল, আমাদের বিরক্তি অব্দিই সীমিত ছিল।
গত কয়েক দিন আউটডোরে ভয়ংকর একটা জিনিস দেখছি, আগেও ছিল, এখন বিশালভাবে বেড়েছে। যে কেউ যে কোনো সমস্যায় অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করানোর নিদান দিয়ে ফেলছেন। বুকের মাইলখানেক দূরত্বের মধ্যে ব্যথা হলেই হলো। রোগীর টিএমটি রিপোর্ট গ্রাফে কোনো সাজেশন নাই অথচ রিপোর্ট বড় করে পজিটিভ লেখা- অ্যাঞ্জিওগ্রাফি প্রয়োজন। এতদূর তাও মেনে নিলাম। রোগীর মিনিমাম ইসিজি টুকুও নেই, অ্যাঞ্জিওগ্রাফির নিদান দেওয়া কাগজ পেলাম। কোথায় কাকে যোগাযোগ করতে হবে, তার নম্বরটাও লেখা পাশে। টাকাপয়সা জোটাতে না পেয়ে তারা হাসপাতালে আসছে। এসে দাবি জানাচ্ছে তাদের অতি দ্রুত অ্যাঞ্জিওগ্রাফির ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
এখানে ব্যাপারটা একটু ঘাঁটতে শুরু করেছে। আরো ঘাঁটবে যখন এই অপ্রয়োজনীয় অ্যাঞ্জিওগ্রাফি-তে পাওয়া সামান্য সমস্যাগুলোতে স্টেন্ট বসবে। ক’দিন আগে ক’জন ভুয়ো কার্ডিওলজিস্ট ধরা পড়লো, তারা নর্মাল হার্টের ধমনীতে স্টেন্ট বসিয়েছে, এমনকি রোগী মারাও গেছেন কমপ্লিকেশনে।
এই দালালরাজের বাংলাতে এটাই হয়তো ভবিতব্য। আমার খালি মনে পড়ে আমার ইএনটি স্যারের কথা। তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এমনভাবেই শেখাতে চাই, যাতে যদি কোনোদিন তোমরা আমার অপারেশন করো- আমি জানবো অপারেশনটা সত্যিই দরকার ছিল। সেই আদর্শের বাণী আজ নিভৃতে কাঁদছে বোধ হয়!!










