আপনাদের মাথার ওপর কেন্দ্রীয় সরকার আছে। হাজারটা আইনি সুরক্ষা আছে। আপনারা ক্ষমতাবান। আমরা আমজনতা। আমাদের শুধু একটি মাথা আছে, আর সেখানে কিছু বুদ্ধি আছে। ইতিহাসের স্রোতে কিছু প্রশ্ন তুলে দিচ্ছি আমরা। ইতিহাস এর বিচার করবে।
আপনারা যে খুনের তদন্ত করছেন সেখানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই, থাকলেও এখনো অজানা। তদন্তের বিষয়ে আপনারা বিষেশজ্ঞ। আপনাদের জ্ঞান যতোই থাকুক, তদন্তের মূল নীতি আপনারা অবজ্ঞা করতে পারেন না। এবার চলুন সেই মূলনীতির পাঠ আপনাদের দিয়ে দি।
১) খুনের আগে পরে ঘটনাস্থলে যে মানুষদের থাকার কথা নয়, তাদের উপস্থিতি যদি সেখানে থাকে তবে তাদের সবাই সন্দেহভাজনের তালিকায় পড়ে। সঠিক তদন্ত করতে হলে তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। প্রয়োজনে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। আর জি করে ঘটনাস্থলে পুরো উত্তরবঙ্গ লবি, উকিল, কম্পিউটার বিষেশজ্ঞ এরকম বহু মানুষ উপস্থিত হয়েছিলো। যাদের কোনো যুক্তিতেই ওই সময় ওখানে থাকার কথা নয়। আপনারা তাদের হেফাজতে নেয়া তো দূরের কথা, কোনো জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করেন নি।
২) যে ঘটনাবলী খুনের পরে কোথাও ঘটার কথা তার চেয়ে অন্যরকম কিছু ঘটলে তাদের কুশীলবদের সন্দেহের আওতায় রাখা উচিত এবং দ্রুত তদন্ত করা উচিত। ওখানে যা কিছু ঘটেছে সেটা বিনীত গোয়েল এর কমান্ডে ঘটেছে। হাস্যকরভাবে আপনারা টালা থানার ওসিকে গ্রেফতার করলেন এবং জামিন ও পাইয়ে দিলেন। বিনীত গোয়েল, অভিষেক গুপ্তা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সবাই আপনাদের তদন্তের বাইরে রয়ে গেলো।
৩) সরকারি জায়গায় যখন হায়ার অফিসার উপস্থিত থাকে তখন সেখানে সব কিছু তাদের নির্দেশে অথবা অনুমতিতে হয়। ঘটনার দিন সকাল থেকে সেখানে স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ নিগম, ডি এম ই ডাঃ নায়েক সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে উপস্থিত ছিলো। আপনারাই বললেন সন্দীপ ঘোষ প্রমাণ লোপাট করেছে। তাকে গ্রেফতার করলেন। স্বাস্থ্য সচিব আর ডি এম ই তদন্তের আওতার বাইরে থেকে গেলো।
৪) সিএফএসএল রিপোর্ট আর ডি এন এ রিপোর্ট ভাইরাল হবার পরে এটাও দেখা যাচ্ছে আপনারা সঞ্জয় রাইয়ের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট দিয়েছেন সেখানেও এই রিপোর্টের কোনো ছাপ নেই।
৫) আর জি করের আট তলার ঘরে রক্তমাখা গ্লাভস স্ক্যালপেল এসব মেলার পরে আপনারা তদন্ত তো দূরের কথা, সেখানে এসে একবার দেখার প্রয়োজনও বোধ করলেন না।
পয়েন্ট আর বেশি লিখছি না। আপনাদের বর্তমানের হাবভাব দেখে বাংলার মানুষের একটি কথাই মনে হচ্ছে। কোনো প্রভাবশালী মহল থেকে আপনারা পুরো ঘটনা জেনে গেছেন। কারা এই খুন করেছে, কোথায় করেছে, কেনো করেছে সব আপনারা জানেন। কারা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে জড়িত সেটাও আপনারা জানেন। ততদিন আপনাদের তদন্তের গতি ছিলো, যতদিন না আপনারা সত্যিটা জানতে পেরেছেন। জেনে যাবার পর কেই বা মিছিমিছি তদন্তের অভিনয় করে বলুন। এরপর হয়তো এই নির্দেশ ও পেয়েছেন যে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের কাউকেই শাস্তির আওতায় আনা যাবে না। সেইজন্য সঞ্জয়কে ফাঁসির জন্য তদবির করছেন, আর সন্দীপ অভিজিৎকে জামিনে ছেড়ে দিলেন। সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট না দিয়েই আপনাদের কলকাতা থেকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
আপনাদের নিয়ে বাংলার মানুষ যা ভাবছে, সেটা যদি ভুল হয় তবেই তিলোত্তমা বিচার পাবে। আর যদি ঠিক হয় তাহলে সঞ্জয়ের দোষ ও প্রশ্নাতীতভাবে কোর্টে প্রমাণ হবে না। সেও ছাড়া পেয়ে যাবে।
ইতিহাসে লেখা হবে তিলোত্তমাকে কেউ খুন করেনি। সে নিজেই নিজেকে ধর্ষণ করে খুন করেছে। আত্মণিধন এবং আত্মধর্ষণ।
তদন্ত না করার পুরস্কারও আপনাদের কপালে জুটে যেতে পারে। হয়তো দেখবো সীমা পাহুজা মহাশয়া আরেকটা মেডেল পেয়ে গেলো। ভারতবর্ষে কোন কিছুই অস্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক হয়তো একত্রিশ বছরের ডাক্তার কন্যার খুন এবং ধর্ষনের বিচার চাওয়া।










