জ্ঞান মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। পুঁথিগত বিদ্যা মানুষকে জীবনযাপনে সাহায্য করে হয়তো বা। আগে লোকে চাকরিবাকরিও পেত সেসব ভাঙিয়ে। এখন তো যে জীবনে দশটা বই পড়েনি, সেও বইমেলার উদ্বোধন করে হাজারো বইপ্রেমী মানুষকে গেটের বাইরে দাঁড় করিয়ে! যাগকে সেসব কথা। বইয়ের জ্ঞান অন্তত একটা বিদ্যেবোঝাই ফিলিং তো দেয়! আর যাই করুক, ক্ষতি করে না।
প্রথাগত বিদ্যার বাইরে জ্ঞান অথবা জ্ঞানপিপাসা দুটোই মারাত্মক। সে চার্চের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা সক্রেটিস বা গ্যালিলিও হোক, বা এদেশের রামমোহন বা বিদ্যাসাগর। সেসব অবশ্য প্রস্তর যুগের কাহিনী। আচ্ছা মুকেশ চন্দ্রকর নামটা কি চেনা লাগছে? ছত্তিশগড়ের রাস্তার ১২০ কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস করতে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা হয়েছে যাঁর? গৌরী লঙ্কেশ? আমাদের বরুণ বিশ্বাস?
এরকমই আরজিকরের দুর্নীতি জেনে ফেলার খেসারত দিলো আমাদের অভয়া। চেস্টের ফার্মাকোলজি অব্দি জ্ঞানের দৌড় সীমাবদ্ধ থাকলে এতদিনে তার বিয়েটাও হয়তো হয়ে যেত। ওষুধের হালহকিকত জেনে ফেলে অবশেষে খুন ও ধর্ষণ… আবার সেই অবাঞ্ছিত জ্ঞানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া…
এই হত্যাটা আত্মহত্যা হয়ে থেকে গেলেই বা কী ক্ষতি হতো! আরজিকরে এরকম সাডেন সুইসাইডাল ডেথ কতই না হয়েছে! আমরা কি প্রশ্ন করেছি কখনো? কিন্তু কিছু নাছোড়বান্দা ডাক্তার ব্যাপারস্যাপার জেনে ফেলে ঘটলো যত সমস্যা- নিজেই নিজের ধর্ষণ করে হাত-পা দুমড়ে মুচড়ে আত্মহত্যাটা ঠিক জমলোনা- অগত্যা আন্দোলন।
তাও পুলিশ বেশ দেখছিল, তদন্ত করছিল। কিছু পেছনপাকা ডাক্তারি ছাত্রছাত্রী গিয়ে উদ্ধার করলো তারা তদন্তের ফাঁকেই দেওয়াল ভেঙেচুরে প্রমাণ লোপাট করছে। তারপর সেই পুলিশের সাথেই কত মান-অভিমানের খেলা করতে হলো!! যত আইনি সমস্যা, এখন ধরে ধরে আন্দোলনকারীদের বাটাম দেওয়া- সব কীসের ফল? অস্বাভাবিক জ্ঞান ও অনুসন্ধিৎসার।
তারপর ধরুন অভয়ার মা-বাপ। দোষটা তো আসলে ওদেরই। অমন এঁড়ে মেয়ে পয়দা করেছে। রান্নাবান্না শিখিয়ে বে দিয়ে দিলেই হতো। তা নয়, মেয়েকে বানিয়েছে ডাক্তার। সে আবার কলেজে শাসকদলের সাজানো পাকা ধানে মই দিতে গেছে! যাইহোক, মেয়ে যখন মরেই গেছে, সে তো আর ফিরবেনা। তাহলে মুখ্যমন্ত্রী যখন দশ লাখ আদর করে ছুঁড়ে দিয়েছে সেটা মুখে করে নিয়ে গেলেই হয়! তা না করে, শোক না করে বড় বড় প্রশ্ন করছে- তাও আউট অফ সিলেবাস- কোনো “এক্তিয়ার”জ্ঞান নেই!! যদি ওনারা জানতেন মেয়ে আত্মহত্যাই করেছে, এত ঝামেলা কি হতো?
রাস্তার কুকুরদের দেখুন। এদের জীবনে কোন প্রশ্ন নেই। সুন্দর খাচ্ছে, ঘুমোচ্ছে, বংশবৃদ্ধি করছে- কেউ চাপা দিলে একটু ভৌ ভৌ করছে, তারপর আবার চুপচাপ। বাংলার জনগণকে দেখুন। ভাতার পয়সায় খাচ্ছে, ঘুমোচ্ছে, ছাপ্পা মারছে, কাটমানি দিচ্ছে, হেলানো বাড়ি থেকে ঝরে পড়ছে- কিন্তু প্রশ্ন করছে না। তাই সুখে আছে, দিব্যি ভালো আছে…
অতিরিক্ত জ্ঞান এড়িয়ে চলুন, ভালো থাকবেন।










