ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের পেডিয়াট্রিক্স ডিপার্টমেন্ট ছিল রাজা রামমোহন রায় ব্লকের একেবারে উপরের তলায়, মানে, ছ’তলায়।
সর্বসাকুল্যে ষাটটি বেড, তার দশটি পেয়িং আর পঞ্চাশটি ফ্রি বেড। যদিও, ফ্রি বেডের রোগীর সংখ্যা বেশির ভাগ সময়েই পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যেত — তখন বিছানা পড়ত মেঝেতে, সঙ্কীর্ণ করিডরে, এমন কি লিফটের সামনেও।
ডিপার্টমেন্টে তখন দু’টি ইউনিট – ইউনিট ওয়ানের অ্যাডমিশন ডে অর্থাৎ আউটডোর ছিল সোম, বুধ, শুক্রবার আর ইউনিট টু-এর মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার। রবিবার রোটেশনে রোগী ভর্তির পালা পড়ত।
আমি ইউনিট টু-এর হাউসস্টাফ ছিলাম। সকাল ন’টা থেকে দুপুর দু’টো পর্যন্ত আউটডোর সেরে আমি চলে যেতাম হোস্টেলে, ভাত খেতে। ফিরতে হতো সঙ্গে সঙ্গেই, কারণ আমি ফিরলে সহকর্মী হাউসস্টাফেরা মধ্যাহ্ন ভোজনে যাবে। তারপর সকলকেই থাকতে হতো রাত আটটা ন’টা পর্যন্ত। নাইট ডিউটিতে দুজনকে রেখে বাকিরা ফিরে যেতাম যে যার আস্তানায়। এই নাইট ডিউটিও চলত রোটেশনে। মঙ্গলবার রাতে যে দুজন থাকত, বৃহস্পতিবার বদলে যেতো জোড়া। রোস্টার নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনোদিন কোনো মনোমালিন্য হয়েছিল বলে তো মনে পড়ে না।
একদিন, অ্যাডমিশন ডে-র দুপুরবেলা ওয়ার্ডে ফিরে ইউনিট রুমে ঢুকে হাঁ হয়ে গেলাম।
আমাদের কেঠো ডিউটি টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে একরাশ বেড হেড টিকিট, ট্রিটমেন্ট শিট আর ইতস্তত উল্টে পড়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পলের শিশি। আর তার মাঝে রাজকীয় মেজাজে বাবু হয়ে বসে আছে একটি বছর খানেকের হৃষ্টপুষ্ট, গৌরবর্ণ শিশু। গায়ে একটা সুতো নেই, কেবল কোমরে একটি স্বাস্থ্যবান ঘুনসি বাঁধা রয়েছে দেখলাম। উল্টো দিকের চেয়ারে বিপন্ন মুখে ব্রজ বসে আছে — ব্রজেশ্বর, আমার কো-হাউসস্টাফ এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমাকে দেখা মাত্র লাফ দিয়ে উঠে বললো –“এসে গিয়েছিস? গুড! এবার তুই সামলা! মাথা খারাপ করে দিচ্ছে!”
আমার ব্যাকুল প্রশ্নের উত্তরে সে জানাল, আউটডোরে ভর্তি হওয়া রোগীদের ট্রিটমেন্ট শিট লেখাকালীন সে একটা গণ্ডগোলের আওয়াজ পেয়ে বাইরে এসে দেখে, লিফটের সামনে অন্তত জনা দশেক ‘পেশেন্ট পার্টি’ এই নগ্ন শ্রীমানকে নিয়ে হুড়মুড়িয়ে ওয়ার্ডে ঢুকতে চেষ্টা করছে। কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে, সবাই একযোগে চেঁচিয়ে কথা বলতে শুরু করে। সেই সমবেত ক্যাকোফোনির মাঝে সে এইটুকু উদ্ধার করে, যে বাচ্চাটা আনমনে খেলতে খেলতে ‘টিকটিকির গু’ খেয়ে ফেলেছে!
আমি চমকে উঠে বলি –“কি খেয়ে ফেলেছে বললি?”
ব্রজ নির্বিকার ভাবে বলে –“গু। টিকটিকির গু”!
আমি হতভম্ব হয়ে বলি — “কি করে বুঝল ওরা? দেখতে তো পায়নি কি খেয়েছে?”
ব্রজ এবার খিদের চোটেই একটু অসহিষ্ণু হলো বোধ হয়, “অত জানব কি করে? বাড়ির লোক জোর দিয়ে বলছে টিকটিকির গু-ই খেয়েছে। মেঝেতে হামা দিচ্ছিল তখন। কে জানে, ওদের বাড়িতে হয়ত পঞ্চাশ একশো টিকটিকি আছে — সবসময় মেঝে ভর্তি ইয়ে করে রাখে মালুম হচ্ছে। তাই সবাই এত শিয়োর, যে মেঝে থেকে কুড়িয়ে খেয়েছে মানে ওটাই খেয়েছে –”
তারপর আমার সপ্রশ্ন দৃষ্টির উত্তরে জানালো যে স্যার শুধু অবজারভেশনে রাখতে বলেছেন — নর্মাল ডায়েট, নো মেডিসিন।
আমি জিজ্ঞাসা করি — “বাচ্চাটা বিষাক্ত কিছু খেয়েছে বলে বাড়ির লোকে সন্দেহ করে থাকলে তুই স্টমাক ওয়াশের কথা ভাবিসনি কেন?”
ব্রজ কটমট করে আমার দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে বললো — স্যালাইন ওয়াটার ঝিনুক-বাটিতে করে অনেকটাই খাওয়ানো হয়েছিল, বমি টমি কিস্যু হয়নি, স্রেফ হজম করে ফেলেছে।
ব্রজ চলে যাবার পরে আমি টেবিলের কাগজগুলো গুছিয়ে ট্রিটমেন্ট শিট কমপ্লিট করতে বসলাম। শ্রীমান মোটা কাজলপরা জ্বলজ্বলে চোখে খুবই অবন্ধুসুলভ দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে গুবগুব করে গোল গোল হাতে নিজের হাঁটু বাজাতে শুরু করল।
প্রথম বেড হেড টিকিটটাই ওর। আচ্ছা, ব্রজ ডায়াগনসিস কি লিখল দেখি তো! কৌতূহলী হয়ে “প্রভিশনাল ডায়াগনসিস” এর খোপে উঁকি মারতেই চক্ষুস্থির হয়ে গেল। দেখি, গোটা গোটা অক্ষরে লেখা আছে — Lizard excreta poisoning.
বিগত এবং আগামী তিরিশ বছরের হসপিটাল বেড হেড টিকিট অডিটে, এই ডায়াগনসিস কেবল এক পিস-ই পাওয়া যাবে, আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম সেদিন।
আজকের দিনটা বড্ড বাদলা, মনখারাপি। জানলার কাঁচে কুচো বৃষ্টির ফোঁটার মতো বিন্দু বিন্দু স্মৃতি মন উপচে পড়ছে আজ।
যেদিন অ্যাডমিশন ডে থাকত না আমাদের, পালা করে যেতে হতো সন্ধ্যের রাউন্ডে। ভর্তি রোগীদের আরও এক দফা চেক আপ করতে হতো। প্যাথোলজি ল্যাব থেকে সেইদিনের পাঠানো রক্ত, মল, মূত্রের রিপোর্ট এসে পৌঁছত সন্ধেবেলা। তাই দেখে, রোগীর অবস্থা বুঝে, দরকার মতো পাল্টাতে হতো ওষুধপত্র — কখনো বা গোটা ট্রিটমেন্ট শিডিউলটাই!
একদিন এমনই এক সঘন বর্ষার বিকেলে ইভনিং রাউন্ডে গিয়েছি আমি। সঙ্গী কো-হাউসস্টাফ সোমনাথ।
রাউন্ড শেষ হতে হতে আটটা বেজে গেল। নানা ব্যস্ততায় দুজনের কেউই খেয়াল করিনি, যে বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছে। ছ’তলার ডিউটি রুমের ছোট্ট জানলায় মুখ রেখে আমরা দেখতে লাগলাম, নিচে হু হু করে জল বেড়ে চলেছে। হাসপাতাল চত্বর জলে ভাসছে। গোবরা গোরস্থানের দিকের গেটের কাছে জলে ডুবে গেল রাস্তা। ঝপাঝপ ঝাঁপ ফেলে দিচ্ছে পরিচিত ফলের দোকানিরা — নয়ত এইবার তাদের পসরা ডুববে জলের তলায়। জীর্ণ ত্রিপলে সম্পত্তি ঢাকছে আমার মিলস অ্যান্ড বুন আর আগাথা ক্রিস্টির ফুটপাথি লাইব্রেরি — এক টাকা জমা রেখে রোজ একটি করে বই নিতে দিত তারা। ফটাফট নিভে যেতে আরম্ভ করেছে রাস্তার দোকান আর এসটিডি বুথের আলো।
ন’টা নাগাদ বুঝলাম, আমি বা সোমনাথ, কারোর পক্ষেই আজ আর আস্তানায় ফেরা সম্ভব নয়। যদিও হাসপাতালের সামনের রাস্তা, মানে সুন্দরীমোহন অ্যাভিনিউ পেরোলেই আমার হোস্টেল। কিন্তু নেমে যাবো কি করে? রামমোহন ব্লকের একতলা ডুবু ডুবু, লিফটের ভিতরেও জল! রাতটা না হয় সেমিনার রুমে শুয়ে কাটিয়ে দেবো, কিন্তু খাবো কি? ঐ বয়সে দু’এক রাত জেগে কাটাতে অসুবিধে ছিল না, কিন্তু কয়েক ঘন্টা না খেয়ে থাকলে চোখে অন্ধকার দেখব, জানতাম।
রামমোহন ব্লকের দোতলা, তিনতলা, চার তলায় ছিল মেডিসিন ওয়ার্ড — সেই ওয়ার্ডের সিস্টার দিদিরা নাইট ডিউটিতে সামান্য চালে-ডালে ফুটিয়ে নিতেন অনেক দিনই, সেই ইন্টারনশিপের সময় থেকেই দেখেছি।
সোমনাথ আরআরএমবি-র তিনতলায় খাবারের খোঁজে অভিযানে গেল, আর আমি ছ’তলার ঘরে একা একা বসে ভাবতে লাগলাম — এই যে আমি একটা রাত্তির ফিরতে পারলাম না হোস্টেলের ঘরে, আমার লোহার খাটটা ছাড়া আর কেউ তেমন দুশ্চিন্তা করবে না তো! সুখলতাদি থাকলে চিন্তা করত। কিন্তু সে বাড়ি গিয়েছে কিছুদিনের জন্য। অন্য বন্ধুরা বুঝে যাবে, আমি রাউন্ড দিতে গিয়ে আটকে গিয়েছি। আর বাবা-মা তো অনেক দূরে — জানতেই পারবে না কিছু।
মধ্য রাত্রে কারেন্ট চলে গেল। সেই ভেজা হাওয়ার রাতে, আঁধারি শীতল সেমিনার রুমের টানা বেঞ্চিতে কুঁকড়ে শুয়ে আমি আর সোমনাথ কত গল্প করেছিলাম প্রায় ভোর রাত্রি পর্যন্ত। বাড়ি ঘর দোর, অনিশ্চিত ভবিষ্যত, চাকরি বাকরি, বিয়ে থা করে সেটল করা — কত রকমের গল্প। স্বল্পপরিচিত ক্লাসমেট থেকে এক রাত্রেই খুব কাছের বন্ধু হয়ে গিয়েছিল সে।
পরবর্তীতে জীবন আমাদের ছিটকে দিয়েছে বিপরীত মেরুতে। কিন্তু সেই একা একা ভয় পাওয়ার, মনে মনে বড় হয়ে যাওয়ার বৃষ্টির রাতটাকে আমি ভুলতে পারিনি। আমি নিশ্চিত, সোমনাথও ভোলেনি।
তিন সাড়ে তিন বছরের ফুটফুটে মেয়েটার নাম ছিল দেবী। জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে ভর্তি হয়েছিল পেয়িং ওয়ার্ডে — পেডিয়াট্রিক্সের হাউস জবের প্রথম তিন চার মাসে যেখানে একটি রোগীকেও অ্যাডমিটেড হতে দেখিনি আমি।
কিন্তু শিশুকন্যাটি নয়, আমার চোখ টেনেছিল তার মা। দীর্ঘপক্ষ্ম, দীঘল, আশ্চর্য বিষণ্ণ চোখ দুটি তুলে সে প্রশ্ন করেছিল আমাদের ইউনিটের হেড স্যারকে — “ডাক্তারবাবু, মেয়েটা বাঁচবে তো?” সে আকুলতাটুকু কেমন হাহাকারের মতো শুনিয়েছিল আমার কানে। অবাক হয়েছিলাম। সাধারণ সর্দিজ্বর, না বাঁচার প্রশ্ন আসে কোত্থেকে?
পরে শুনলাম ইতিহাস। দেবীর মা যেন ‘বিসর্জনে’র মল্লিকা— “দুইটি কোলের ছেলে গেছে পর পর, বয়স হতে না হতে, পুরা দু’বছর”—এই শিশুকন্যাটি তৃতীয় সন্তান — তার অশুভ আশঙ্কায় সর্বদাই ব্যাকুল থাকে মায়ের মন।
আমরা বুঝলাম।
চিকিৎসা ভালই চলছিল দেবীর। মুখে খাবার অ্যান্টিবায়োটিক, জ্বর কমার ওষুধ, হাল্কা সহজপাচ্য খাবার —
প্রথম দিকে সে চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছিল বেশ। বিপদ বাধল তিনদিন পর থেকে। শ্বাসকষ্ট শুরু হলো, জ্বরও বাড়ল। স্যার অ্যান্টিবায়োটিক বদলাতে বললেন, রক্ত পাঠানো হলো কালচারের জন্য —
কিন্তু তার রিপোর্ট আসার আগেই নেতিয়ে পড়তে লাগল শিশুটি, প্রস্রাব প্রায় বন্ধ হয়ে এলো। ড্রিপ চালানো হলো, দেওয়া হলো অক্সিজেন। আঠাশ উনত্রিশ বছর আগে সরকারি হাসপাতালে কোথায়ই বা পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, আর কোথায়ই বা পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর!
আমরা সবাই বুঝতে পারছিলাম, কি পরিণতি হতে চলেছে দেবীর — এমনকি তার বাবা জেঠারাও, যাঁরা শুরু থেকেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন আমাদের সঙ্গে, রাত জেগেছেন, যখন যে ওষুধ আনতে বলা হয়েছে, দৌড়োদৌড়ি করে জোগাড় করেছেন, ছুটোছুটি করেছেন শহরের নামী দামী ল্যাবেও।
বুঝতে চায় নি শুধু দেবীর মা।
তাই ভর্তি হওয়ার দিন সাতেক পরে এক দুপুরে যখন শেষ হয়ে গেল লড়াইটা, ফুরিয়ে গেল সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট একটা জীবন, আমরা কেউ গিয়ে তার মাকে খবরটা জানাবার মতো সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারছিলাম না। অথচ, অফিসিয়াল ডেথ ডিক্লারেশন জরুরি, সেটা মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই নিকটাত্মীয়কে জানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, এদিকে দেবীর বাবা বা জেঠা কেউ সেখানে নেই — কোনো জরুরি ওষুধ জোগাড় করতে ছুটেছেন হাসপাতালের বাইরে।
অবশেষে ব্রজকেই ধরলাম আমরা।
সে তো কিছুতেই যাবে না — “আমি কক্ষনো কোনো মাকে তার সন্তানের মৃত্যু সংবাদ দিতে পারব না” — বলতে বলতে কেঁদে ফেলল আমার অল্পবয়সে মাতৃহারা বন্ধুটি।
কিন্তু দিতেই হলো খবর শেষ পর্যন্ত, দিতেই হয়। আমি কানে হাত চাপা দিয়ে লিফটের কাছে ছুটে পালিয়ে গিয়েছিলাম, মনে আছে। তবু এড়াতে পারিনি সেই বুক ফাটা আর্তনাদের অভিঘাত।
ইন্টারনশিপ চলাকালীন মৃত্যু দেখেছি কিছু, কোনো রোগীর চিকিৎসায় প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত থেকে মৃত্যু এই প্রথম দেখলাম, তাও নয়। তবুও এই ঘটনাটি আমার মনে গভীর দাগ কেটে গিয়েছিল, সময়ের পলিতে সে দাগ ঢাকা পড়েনি একটুও।
বেশ কয়েক মাস পরে, আমি শিয়ালদা স্টেশনে নেমেছি পার্ক সার্কাসের বাস থেকে — সপ্তাহান্তে বাড়ি ফিরব। এক ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন। মুখটি চেনা চেনা লাগল।
“ভালো আছেন দিদি?”
“চলছে।” মনে চাপা অস্বস্তি নিয়েই সংক্ষিপ্ত জবাব দিই।
ভদ্রলোক বোধ হয় আমার অস্বস্তিটা বুঝতে পেরেছিলেন। অল্প হেসে বলে ওঠেন — “চিনতে পারলেন না তো? আমি দেবীর জেঠা! সেই যে আপনাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল—”
আর বলতে হলো না। চিনলাম। দু’একটি কুশল প্রশ্নের পরে জিজ্ঞাসা করলাম — “দেবীর মা এখন কেমন আছেন?”
ভদ্রলোক মলিন হাসলেন — “অনেক চিকিৎসা করিয়েছিল ভাই, লাভ কিছু হয়নি জানেন? মাথাটা একেবারেই খারাপ হয়ে গেছে ওর। মানুষ চিনতে পারে না আর।”
জনবহুল শিয়ালদা স্টেশনে তখন নির্জন চরাচরের নৈঃশব্দ্য আমার কাঁধে মৃত্যুর গুরুভার নিয়ে চেপে বসল — আজও একইরকম ভাবে বসে আছে।
(ক্রমশ)











