এক বিশিষ্ট বন্ধুবর অতি সাম্প্রতিক কালে তার সামাজিক মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, শুধু ভুলভাল মামলা করেই কতো আন্দোলনের বারোটা বাজিয়ে দেওয়া গেছে। বাস্তবিক ক্ষেত্রে, শুধু আন্দোলনের বারোটা বাজানো নয় এতে করে আন্দোলনকারী বা সক্রিয় বিরোধীদের একটা বড় অংশকে হয় সম্পূর্ণ রূপে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া গেছে, নাহলে পুরোপুরিই হজম করে নেওয়া হয়েছে স্রেফ ‘আত্মীকরণ’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে। আর, মামলা বলে মামলা, একেক জনের বিরুদ্ধে ত্রিশ, চল্লিশ বা তারও বেশি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে!! যাতে শাস্তি হোক বা না হোক, শুধু মামলাতেই সবদিক থেকে সর্বস্বান্ত দশা প্রাপ্তি ঘটে। এই চমকপ্রদ প্রক্রিয়ায় বাঙলার গ্রামাঞ্চল থেকে সিপিআইএম নামক পার্টিটার সাংগঠনিক অবস্থাই পাল্টে দিলো শুধু মামলার পর মামলার প্যাঁচে ফেলে। এমন নয় যে, এই পর্বে বিরোধীদের উপর শারীরিক বা অন্যান্য নির্যাতন চালানো হয়নি, কিন্তু যে ভাবে ভুয়ো মামলায় মানুষকে জর্জরিত করে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত করে ফেলা হয়েছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব, নজিরবিহীন!!
তবে, ডাক্তার নেতাদের বিরুদ্ধে সেই একই কায়দায় উল্টো পাল্টা মামলা দিয়ে, কতটা সাফল্য লাভ করা যাবে, যথেষ্ট সন্দেহ আছে। সত্যি করে বলতে গেলে, এরা কেউ সেই গ্রামের একান্ত অসহায়, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, প্রায় দিশেহারা মানুষ নয়, বরং ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত দুভাবেই এই সব অতি দুর্বুদ্ধিজনিত কাজকর্মকে প্রতিহত করতে যথেষ্টই সক্ষম।
এবং, এই তথ্য প্রশাসনের শীর্ষে অবস্থানকারীদের না জানারও কোনো কারণ নেই। তাহলে, ঠিক কী কী কারণে মাঝে মাঝেই এ রকম পদক্ষেপ, কাউকে না কাউকে ‘টার্গেট’ করে সমানে বিরক্ত করে যাওয়া?!
কারণ দুটো হতে পারে..
এক, আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বিভিন্ন ডাক্তারদের উপর একটা ‘চাপ’ বজায় রাখা, যাতে একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতেই তারা সীমাবদ্ধ থাকে।
আর দুই, ডাক্তার ও আন্দোলনকারীরা এই সব নিয়ে ব্যস্ত থাকুক, মূল বিষয় মানে ‘অভয়া হত্যা’র প্রকৃত অপরাধীদের সামনে আনার বিষয়টা অধরাই থেকে যাক, যেমন ধোঁয়াশাচ্ছন্ন আছে, সে রকমই থাকুক।
এখনও পর্যন্ত নিজের পছন্দ মতো ঘুঁটি দিয়ে সাজিয়ে ফেলা গেছে ছাব্বিশের চ্যাম্পিয়নস্ ট্রফি জয়ের সমস্ত ধরণের ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে। ‘রোহিঙ্গা-বাঙালি বিতর্ক’, একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসক দল ও বিরোধী জোট দুদিকেই সেটিং ও বর্ণময় উপস্থিতি, SIR কে সযত্নে এড়িয়ে নিজের মতো করে ‘ইলেক্টোরাল রোল’, প্রশাসনে সর্বময় কর্তৃত্ব, মানে কোনো দিক থেকে কোনো রকম ফাঁক নেই একেবারে fool proof বা fail proof যাই বলুন।
সবই তো ঠিক আছে, তাহলে হঠাৎ ‘অভয়ার সুবিচার’ নিয়ে যে কোনো
বিতর্ক বা আন্দোলনে এতোটা touchy/oversensitive কেন? ‘অভয়ার সুবিচার’ চাইলেই তো সুবিচার চলে আসবে না!
বা, অন্য অপরাধী থাকলে তাকে খুঁজে বের করার দায় তো এখন CBI এর, রাজ্যের নয়।
তাহলে, এতো বিচলিত হওয়ার কারণ কি? বা, সমস্যাটা কোথায়?
তাহলে কি ‘অভয়ার মৃত্যু রহস্য’এর সঙ্গে এমন কিছু জিনিস জড়িয়ে আছে, যার উদ্ঘাটন হলে, অনেক সাজানো হিসেব পুরো ওলোট পালোট হয়ে যেতে পারে? মিথ্যার মিথ দিয়ে এতো কাল ধরে সযত্নে তৈরি সৌধটাই হয়তো বিপজ্জনক অবস্থায় চলে যেতে পারে, এক ধাক্কায়!! নাহলে, এতো ধামাচাপা, এতো নাটক, এতো বিরাট ‘সেটিং’, কেন কিজন্য??
উনি জানেন, কোনো রকমে ছাব্বিশের বৈতরণীটা পার হয়ে গেলেই হলো, তারপর একেবারে নিশ্চিন্ত! আর, ততদিনে এই সব ‘অভয়া’, ‘তামান্না’, চলে যাবে collective oblivion বা ‘সামগ্রিক বিস্মৃতি’র অন্তরালে। যেমন গেছে কামদুনির সেই হতভাগ্য মেয়েটি, যার হত্যাকারী কারা জানা সত্ত্বেও তাদের শাস্তি হলো নামমাত্র।
তাই বলবো, please লক্ষ্য বা focus টা পরিষ্কার রাখুন। লক্ষ্য একটাই, ‘অভয়া হত্যা’র প্রকৃত সত্য উদঘাটন, nothing less or nothing more than that……
সেদিন ঘটনার দিন যারা যারা ‘ডিউটি’তে ছিল, বিভাগীয় প্রধান, মহা ক্ষমতাধর প্রিন্সিপাল, তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ও তাদের সুপিরিয়ররা, প্রত্যেককে সত্যিকারের তদন্তের আওতায় না আনতে পারলে, কোনো দিনই সত্য উদঘাটিত হবে না। আট তারিখে শ্যামবাজারের মোড়ের জমায়েতে ‘অভয়া’র মা বলেছেন তার মেয়ের ডিপার্টমেন্ট থেকে সিনিয়র, জুনিয়র, শিক্ষক কেউ কোনো দিন যোগাযোগ করেনি বিগত এক বছরে। কিন্তু, কেন?? কার ভয়ে, কাকে বা কাদের আড়াল করতে??
আসল অপরাধীরা আকাশ থেকেও পড়ে নি, ভিন গ্রহের জীবও নয়, তারা হাসপাতালেরই সঙ্গে যুক্ত কোনো না কোনো ভাবে। এটা তো নিশ্চয়ই সকলের কাছে পরিষ্কার, প্রায় উজ্জ্বল দিবালোকের মতো। কেউ রাজনীতি করুক বা না করুক, আর করলেও যে কোনো দলই করুক, এই নিয়ে অন্ততঃ মনের গভীর অন্দরে কোনো সংশয় থাকার কথা নয়।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই, মূল সত্যটা কি কোনো ভাবে কোনো দিন সামনে আসবে? বিপক্ষের প্রবল শক্তিশালীর যাবতীয় প্রচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত ও পরাস্ত করে?!
উত্তরটা ভবিষ্যতের জন্যই রইলো, তবে হলে, that will be the game changer episode, সে সম্পর্কে অন্ততঃ কোনো সন্দেহ নেই……..










ভালো লেখা।