ডাক্তারি পড়ুয়ারা এমবিবিএস করেই এন্সিওর করে তার ভাত কাপড়ের অভাব হবে না। তারপর সে তার অ্যাকাডেমিক ড্রিম চেস করার জন্য স্পেশালিটি করে… এক্সিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিস দূর করতে, হয়তো কিছুটা পিয়ার প্রেসারে। যাইহোক, এরপর?
এরপর রোগী দেখা। রোগী দেখতে দেখতে একটা টাইমে টাকার জন্য রোগী দেখা আর দরকার পড়ে না। এনাফ টাকা ব্যাংকে জমা। রোগী দেখতে দেখতে এত রোগের গল্প শুনতে শুনতে যে কোনো সুস্থ মানুষ হাঁপিয়ে ওঠে, জাস্ট দিনগত পাপক্ষয় করতে রোগী দেখা চলে…
ডিগ্রি এলো, টাকা এলো… এরপর?
এরপর মানুষের দরকার হয় সামাজিক পাত্তার। পাত্তা এমন একটা জিনিস, যার কাছে ডিগ্রির মহিমা, টাকার মহিমা কিচ্ছু লাগে না। কেউ পাত্তার জন্য উপর মহলকে তেল মেরে হেড হচ্ছে, প্রিন্সিপাল ইত্যাদি হচ্ছে। ডাক্তারি পরিচয় তখন তাকে সামাজিক পাত্তা দিতে এনাফ হচ্ছে না, এসব আনুষঙ্গিক জিনিস দরকার পড়ছে।
কেউ তার নিজের কাজ নিয়ে ঢাক পেটাতে ব্যস্ত। পেপারে লোক ডেকে আমি এই করেছি, সেই করেছি, কত বিরল রোগ সারিয়ে দিয়েছি, একদিনে ১০০০টা অপারেশন করে ফেলেছি ইত্যাদি প্রভৃতি….
সেসব না হলে ফেসবুকে একদিন এসে বলতে হবে, আজ আমরা আলোচনা করবো…. তারপর জ্ঞানগর্ভ ক্লাস কোনো একটা বিষয় নিয়ে… জাস্ট বিনা প্ররোচনায়…. শুকনো কাশি হলে কী করতে হবে, জ্বর এলে কী করতে হবে ইত্যাদি। লং রাইডে রাস্তার মাঝখানে খুব জোরে হাগা পেলে কী করব সেটা নিয়ে কিন্তু এই ডাক্তারেরা নীরব…
যাইহোক একটু বলিয়ে কইয়ে হলে মিডিয়ায় একটু মুখ দেখানো, লিভারের ডাক্তারেরও করোনা নিয়ে জ্ঞান, হার্টের সার্জনের রাজনৈতিক জ্ঞান এসব অনেক কিছু হয়। সেই লম্বা নাক ওয়ালা লোকটার গল্প আর কি…
তারপর একদিন ভরা আন্দোলনের মাঝে নার্সিসিস্মের চূড়ায় উঠে নিজেকে মেসিহা ভেবে সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে আলোচনা করতে যাওয়া – জাস্ট বিনা প্ররোচনায়!! তারপর একদিন জাস্ট হঠাৎ একজন সহ নাগরিককে মানসিক রোগী দেগে দেওয়া….
সব কিছুর মূলে কী জানেন? টাকা না, ডিগ্রি না, কোনো জাগতিক সামগ্রী নয়। এর মূল কারণ হচ্ছে পাত্তা, শুধু একটুখানি পাত্তা। আমায় একটু পাত্তা দাও, তোমার ফেসবুকে বসি….
এই চরম পাত্তা ক্ষুধাও একটা মানসিক রোগ। সময় থাকতে কাউন্সেলিং দরকার।।










