আজ যারা ভারতীয় রাজনীতিতে শাসক-বিরোধী
খেলাটার প্রধান , মাঝারি ও ক্ষুদ্র অংশীদার,
বৃটিশের রাজত্ব থাকলে স্বাধীনতা সংগ্রামে দেথা যেতো বলো দেখি কয় শতাংশ তার?
উত্তরটা জানতেন আর্যভট্ট,
হাজার হোক,
এই ভূমিতে তিনিই তো করেছেন শূন্যের আবিষ্কার।
মাফ করো, সংসদে পঞ্চাশ-ছুঁই শতাংশের ওপর ক্রিমিনাল মামলা চলছে সব জঘন্য
তাঁরা ‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর-পাতন’ বলে বোমা ছুঁড়ছেন স্রেফ দেশোদ্ধারের জন্য,
অথবা বন্দেমাতরম বলে লাঠির ঘায়ে লুটিয়ে পড়ছেন,
রাজার রোষে বছরের পর বছর হাসিমুখে খাচ্ছেন জেলের অন্ন,
এই কল্পনাটাকে ঠিক হজম করতে পারছি না।
মনে রাখতে হবে সহিংস ও অহিংস দুই প্রতিরোধেই,
সে সময় অতি দূর কল্পনাতেও ব্রিটিশের থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই,
সুতরাং ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ’ তাড়ানো মানুষগুলোর সংগ্রাম কেবল দেশপ্রেমের বোধেই।
এখনকার ভোটে জিতে প্রতীক বদলে ফেলার রীতি
মন্ত্রী হয়ে কোটি কোটি নোটের তাড়া আলমারিতে মেলার সংস্কৃতি,
আর ঘোড়া কেনাবেচার ভয়ে কোনো খামারবাড়িতে
জয়ী বিরোধী প্রার্থীর স্থিতি,
কোথাও সেই সব মুখ মনে করায় না,
যারা ফাঁসি গেছেন,
কালাপানি পেরিয়েছেন,
অবর্ণনীয় কষ্টে জেল খেটেছেন বছরের পর বছর,
একটার পরে একটা ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়েছেন অনড় অটল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ওপর,
যাদের নাম জানা,
তাঁরা ছাড়াও যত নামহীন সৈনিক
আজও ইতিহাসের অগোচর,
তাঁদের মধ্যে একজনও এই আদর্শহীন ধান্দাসর্বস্ব মাৎস্যন্যায়ের অংশ হতেন না,
বরঞ্চ যেসব নামে উত্তর-স্বাধীনতা ইতিহাস বই জুড়ে বরাদ্দ শুধু ঘেন্না,
সেই দারোগা নন্দ ব্যানার্জী,
রাজসাক্ষী নরেন গোঁসাই
অথবা মাস্টারদাকে ধরানো নেত্র সেনরা
এই পরিবেশে দিব্যি খাপ খাইয়ে নিতেন,
বলা যায় না,
হয়তো বা হতেন আমলা বা মন্ত্রীও
ইতিহাস বদলে দিয়ে কত সে সময়ের ভিতু গা বাঁচানা লোক হয়ে যাচ্ছেন দেশপ্রেমিক অদ্বিতীয়,
সে তো দেখাই যাচ্ছে।
এটুকু বলাই যায়, অমন চরিত্ররা স্বাধীন দেশের শাসকদেরও বড় প্রিয়।
কল্পনা করো, বারীন -অরবিন্দ ঘোষ বোমা বন্দুক জোগাড় করছেন।
লাল -বাল-পাল স্বরাজের জন্য গলা ওঠাচ্ছেন,
যতীন্দ্রনাথ বা মানবেন্দ্র রায় যোগাযোগ করছেন বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র,
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী অগুন্তি মানুষের সাথে চলেছেন ডান্ডি,
রাসবিহারী বসু সুদূর জাপানে তৈরি করে ফেলছেন এক দেশী বাহিনী,
রেডিওতে ভেসে আসছে সুভাষচন্দ্র বসুর ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও’
কল্পনা করো প্রীতিলতা মাতঙ্গিনী সূর্য সেন প্রফুল্ল চাকি ভগৎ সিং চন্দ্রশেখর আজাদ খান আবদুল গফফর খান
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গলা উঁচিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন ‘বন্দে মাতরম, আমাদের চাই স্বাধীনতা..
বর্তমানের সুতো যাদের হাতে, ওই ভিড়ে থাকতে পারেন মনে হচ্ছে এমন একজনেরও কথা?
কী, একজনও পেলে না তো? বলো, কার দায় এই ব্যর্থতা?
এরকমই হয়। ইতিহাস ভুলে যাওয়া যদি হয় প্রথা।









