TW: সুইসাইড, সেলফ-ইনজুরি
সুইসাইড আমরা সবাই জানি। আবার, সুইসাইডের গ্রুপে আরেকটা জিনিস আছে, সেটার কথা কেউ জানি কেউ জানি না। সেটার পোষাকী নাম ‘Non-Suicidal Self Injury’। এই সেলফ ইনজুরি করার আচরণ এর মধ্যে অনেক কিছু পড়ে — অনেকে ব্লেড বা অন্য ধারালো কিছু দিয়ে নিজের শরীরে ক্ষত সৃষ্টি করেন, কেউ মাথা ঠোকেন দেওয়ালে, গায়ে সিগারেট বা অন্য কিছুর ছ্যাঁকা দেন বা অন্য বিভিন্ন ভাবে নিজের শরীরের ক্ষতি করেন। অনেকক্ষেত্রেই এঁদের মধ্যে ভেতরে লুকিয়ে থাকা ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি, পার্সোনালিটি বা অন্যান্য মানসিক সমস্যা ধরা পড়ে (অথবা পড়ে না), এবং বলাই বাহুল্য অনেকক্ষেত্রেই এঁদের মধ্যে সুইসাইড করার চান্স বেশি থাকে।
যাই হোক, রাতবিরেতে NSSI এর কথা কেন তুললাম? বলছি।
রিসার্চে দেখা গেছে, যাঁরা এরকম সেলফ ইনজুরি বা NSSI বিহেভিয়ার করেন, তাঁরা এরকম আচরণ করার কারণ হিসেবে মূলতঃ ৩টে কারণের উল্লেখ করেন —
১) শারীরিক ব্যথা দিয়ে মানসিক কষ্টকে ঢেকে ফেলতে চান তাঁরা। এতটাই শরীরের ব্যথাতে ডুবে যেতে চান সেইসময়, যাতে তৎকালীন ভয়ঙ্কর মানসিক পরিস্থিতিকে তার নিচে চাপা দিয়ে দেওয়া যায়, মন ঘুরিয়ে দেওয়া যায় শরীরের দিকে।
২) অ্যাটেনশন চান তাঁরা। তবে সাধারণ মানুষ অ্যাটেনশন-সিকিং বলতে যে ‘দৃষ্টিকটু’ ব্যবহার বোঝান, সেটা নয় কিন্ত। তাঁরা এই রকমের সেলফ ইনজুরিয়াস আচরণ করে নিজের অত্যন্ত খারাপ মানসিক অবস্থার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান তাঁদের আশেপাশের মানুষদের। ‘Cry for help’ হিসেবে এমন আচরণ করেন তাঁরা।
৩) এছাড়াও Guilt থেকে নিজেকে কষ্ট দেওয়া (Punishment), দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা Coping mechanism, Impulsivity এসব কারণও যথেষ্ট সংখ্যক মানুষের মধ্যে দেখা গেছে।
এই শারীরিক ব্যথা দিয়ে ‘মনের’ কষ্ট, থুড়ি ব্রেনের কষ্ট ভুলিয়ে দেওয়া — এটা কিন্তু জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দেখতে পাই। তুলনামূলকভাবে সামান্য শারীরিক ব্যথা/discomfort/illness যখন তেড়ে এসে শরীরে ধাপ্পা দেয়, তখন মনের স্ট্রেস/কষ্ট অনেকসময় চাপা পড়ে যায়, আবার অনেকসময় বেড়েও যায়। কিন্তু সরাসরি Physical pain শরীরে endorphin রিলিজ করে, যা কিছুটা ভালো লাগার অনুভূতি দেয়, স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি কমায়।
অদ্ভুত, তাই না?









