ভয়ানক গোলমাল আজ Robo Surgical Allianceএর মিটিংএ। গত বিশ বছর ধরে RSA বিশ্বশাসন করছে। এখন কোনো সার্জারিই আর মানুষ করে না, সবই AI Robot। কনসোলে বসে পরিচালনার দায়িত্বটা অবশ্য মানুষের, তবে সেটা ক্রিকেটের তিন নম্বর আম্পায়ারের মতো, যদি কোথাও গণ্ডগোল হয়, তবে AIT ( এ আই ট্রেইনড)
Surgeonএর মৃদু হাত লাগাতে হয়। সেটা প্রায় হয় না বললেই চলে।
২
গত কুড়ি বছরে চিকিৎসার দুনিয়াটা বদলে গেছে পুরোপুরি। ক্লিনিকাল মেডিসিন এখন ফার্স্ট ইয়ারে পড়ানো একটা চটি বই মাত্র, ওই ‘একদা যা ছিলো’ গোত্রের, তাতে পাশ করা বাধ্যতামূলক নয় । রোগীকে জিজ্ঞেস করে এবং হাত দিয়ে পরীক্ষা করে রোগনির্ণয় এখন নিয়ান্ডারথালদের পাথুরে অস্ত্র ব্যবহারের মতো মনে করা হয়, প্রথম বর্ষে সিটি স্ক্যান, এম আর আই ইত্যাদি যাবতীয় পরীক্ষা শিখে নিতে হয়, দ্বিতীয় বছর থেকে শুরু AI training .
গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর ভয়ানক কঠিন পরীক্ষা NAIET( National Artificial Intelligence Eligibility Test) পাশ করার পর পাক্কা সাত বছর ট্রেনিং নিয়ে তারপর AIT Surgeon আর AIT Physician হওয়া যায়, একশোয় মোটে দশজন এ সুযোগ পায়। তবে একবার এটা হতে পারলে আকাশ-ছোঁয়া মাইনে, সবকটা রোবো-কর্প হাসপাতাল ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাকি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটরা ডেটা এন্ট্রি আর AI robot maintenance-এর কাজ করে, অনেকে সম্পূর্ণ অন্য পেশায় চলে যায়।
৩
চিকিৎসা এখন AI ছাড়া সম্ভবই নয়, কারো শরীর খারাপ হলে প্রথমে তার citizen card দেওয়া জরুরি, অবশ্য সেটা সাথে না থাকলে ফিংগারপ্রিন্ট আর রেটিনাল স্ক্যান করলেই সব এসে যাবে । এখন রাষ্ট্রের কাছে শুধু স্বাস্থ্যই নয়, নাগরিকের সমস্ত তথ্য থাকে, কে কোথায় কখন গেছে, আমিষ-নিরামিষ নিয়ম মেনে খেয়েছে কিনা, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লেখে , সব। তবে আগেকার মতো এখন আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোথাও লেখা যায় না, AI enabled সোশ্যাল মিডিয়া সেটা আটকে দিতে পারে। গালাগাল দিতে হলে শত্রু রাষ্ট্রকে দাও, আগের শাসককে দাও, কিন্তু বর্তমানকে নিয়ে কিছু নিন্দা করা নৈব নৈব চ, সিটিজেন কার্ডে সব নথিবদ্ধ হয়ে যাবে।
ধান ভানতে শিবের গীত হয়ে যাচ্ছে। এসব সামলে এখন মানুষ ভালোই আছে, কদাচিত কেউ প্রতিবাদ করে কিছুর। সে আর কবেই বা করতো।
কিন্তু সব চেয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে দেশে সার্জারিতে, মানে শল্যচিকিৎসায় । বীমা কোম্পানিগুলো বহুকাল Human directed surgery তে পয়সা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, এমন কী, সরকারি ‘উমর ভর তন্দুরস্ত’ এবং ‘ সুস্থতার সঙ্গী’ স্কিমগুলোতেও মানুষের দ্বারা করা সার্জারির কোনো স্থান নেই। প্রথমদিকে আগেকার ট্রেনিং পাওয়া সার্জেনরা পথে নেমেছিলো, রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। মধ্যে গুঞ্জন হয়েছিলো বেশ ‘AI ভুল করলে কী হবে?’ নানান বিজ্ঞাপনে রাষ্ট্র ও রোবো-কর্পরা জানিয়ে দিয়েছেন, ‘AI কখনো ভুল করে না’ । আপাতত গোটা দেশে সার্জারি করতে গেলে AI enabled robotics ছাড়া গতি নেই।
৪
কিন্তু AI এর টেকনোলজিও সমস্যাহীন নয়। নিত্যদিন বদলানো কোডিং আর মেশিন লার্নিংএর ঘূর্ণীতে পড়ে প্রায়শই আপগ্রেড করতে হয় তাকে, সেই খরচ বাদ দিলেও চিকিৎসাসংক্রান্ত AI একটা কাঁটাতারে গিয়ে আটকে গেছে। একটা AI কেবল একটি অংশের সার্জারিই সামলাতে সক্ষম। মানে হাড়ের যে AI প্রোগ্রাম, সে ফ্র্যাকচার আর জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট রোবট পরিচালনা করতে পারবে কিন্তু তাকে দিয়ে ইউরোলজি বা কার্ডিওলজির কোনো রোবট অপারেট করা যাবে না। সুতরাং প্রতি অঙ্গের জন্য আলাদা আলাদা এ আই প্রোগ্রাম আর রোবট।
প্রথম দিকে সবকটা কর্পোরেট সব এ আই রাখতে গিয়ে ভয়ানক ঝামেলা হচ্ছিলো। বিজ্ঞাপন বনাম বিজ্ঞাপনে প্রায় কারোরই মুনাফা হচ্ছিলো না, উল্টে সবকটা এ আই প্রোগ্রাম আপডেট , সেই অনুযায়ী রোবট বানানো এবং AIT surgeonদের বারংবার ট্রেনিং-এ সব পয়সা বেরিয়ে যাচ্ছিলো।
মানুষেরও তো একটা খরচা করার সীমা আছে, কাজেই লোকে বেঘোরে মরছিলো, তাও হাসপাতালে আসছিলো না। সেই সুযোগে ভূতপূর্ব ডাক্তারেরা ফিরে আসার চেষ্টা করছিলো, সত্যি ফিরে এলেই দফারফা হয়ে যেতো, কারণ প্রতিটি কর্পোরেটের ইন্টার্নাল অডিট জানে, আগের ডাক্তারদের থেকে এ আই মোটেই বেশি সফল নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে
বেশ পিছিয়ে। কিন্তু মার্কেটিং, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট আর সঠিক বাঁ হাতে দক্ষিণা, তাই দিয়ে পৃথিবীর সব নয় আর হয় ওল্টানো যায়।
মানুষ ফিরে আসার বিপদ ঠেকাতে তৈরি হলো RSA আর RMA , Robotic Surgical Alliance আর Robotic Medical Association. ঠিক হলো,.একেকটা রোবোকর্প এক একটি AI নিয়ে এগোবে। যে গাইনো, সে শুধু স্ত্রীরোগের এ আই , যে কার্ডিও সে কেবল হৃদয়ঘটিত এ আই এইরকম । একবার এটা হওয়ার পরে মানুষ ডাক্তারেরা আর পাত্তা পায়নি।
তারপর কুড়ি বছর ধরে RSA নিরঙ্কুশ রাজত্ব করেছে।
৫
করেছে মানে, করতো । দুই বছর আগে ওই আপদটা না হাজির হলে। ডক্টর ডি কপিন্দ্র আইচ। ইনি চিকিৎসক ডাক্তার নন, এ আই স্পেশালিস্ট পি এইচ ডি নন,অন্তত তেমন কোনো নথি কারো কাছে নেই। অথচ দুই বছর আগে সারা পৃথিবীর কাছে AIOAI প্রোগ্রাম এই মানুষটাই পেশ করেছিলেন। এরকম প্রোগ্রামে বাকি পৃথিবী উল্লসিত হলেও ভারতের RSA. প্রমাদ গুনেছিলো।
সেই ভয় যে অমূলক ছিলো না, আজ দুবছর পরে সেটা প্রমাণিত। গত দুবছরে শতকরা পঞ্চাশ ভাগ রোগী ডক্টর ডি কপিন্দ্র আইচ-এর AIO chain of Hospitals য়ে চলে গেছে। যাওয়ার যে যথেষ্ট কারণ ও রয়েছে, সেটাই RSAর চিন্তার কারণ।
AIOAI এর পুরোটা হলো All In One Artificial Intelligence. একটাই AI program,। যা পা থেকে মাথা অবধি সমস্ত অঙ্গের সব সার্জারি করতে সক্ষম। এই প্রোগ্রামে রোবটরা সম্পূর্ণ বাদ, কপিন্দ্র মানুষদেরই সরাসরি এ আইকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখিয়েছেন, শুধু কনসোলে বসে থার্ড আম্পায়িরিং নয়, কানে একটা হেডফোন আর চোখে একটা চশমা লাগিয়ে তারা অবিকল সেই আগেকার মানুষদের মতো অপারেশন করে। নতুন রোগীদের কাছে এটা একটা অনন্য অভিজ্ঞতা, একজন মানুষই তার সার্জারি করছে, বৃদ্ধদের কাছে সেটা নস্টালজিয়া।
যেহেতু কপিন্দ্র AIT Surgeonদের নিয়োগ করছেন না, সেই ফাঁকটা ধরে RSAর কর্তাব্যক্তিরা Central Medical Monitor-এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কপিন্দ্র AI Trainingকেই চ্যালেঞ্জ
করে দেখিয়ে দিয়েছেন, এর জন্য সাতবছর ঘষটানোর দরকার নেই, ডাক্তারি পড়ারও নয়, তাঁর AIO প্রোগ্রাম ছয়মাসেই একজন অডাক্তারকেও AITদের থেকে বেশি দক্ষ সার্জেন বানাতে সক্ষম । CMM অনেক বাদবিবাদের পর আজ রায় দিয়েছেন, শুধু কপিন্দ্রর AIOAI প্রোগ্রামে ট্রেনিং পেলে তাদের সার্জেন বলে স্বীকার করা হবে। বাকি প্রোগ্রামে অবশ্য সেই সাত বছর ট্রেনিং পাওয়া AIT surgeonদেরই লাগবে।
৬
আজ তাই Robo Surgical Allianceএর কর্তাব্যক্তিরা মিটিংএ বসেছেন। একে একটাই AI ওদের সবার কাজ করে দিচ্ছে, তার ওপর CMM ওদের অ-চিকিৎসক ট্রেনিদের সার্জেন স্বীকৃতি দিয়েছে, একটা বিহিত না করতে পারলে খুব শিগগিরই AIO chain একশো ভাগ মার্কেট ধরে নেবে।
লক্ষ্মী কার্ডিয়াক হসপিটালসএর সি ই ও কাম ওনার ভূপেশ ওঝা’র মত, কপিন্দ্রের সাথে বসে AOI technology কিনে সেটা সব হাসপাতালে লাগানো ।
কিন্তু তারপরে কি সিঙ্গল স্পেশালিটি ছেড়ে সব আবার মাল্টিস্পেশালিটি হবে? সেই ম্যানপাওয়ার আর ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে আমাদের?। প্রশ্ন হিন্দুস্তান হাড্ডি গ্রুপের চিফ রক্তিম প্যাটেলের।
শুধু তাই নয়, তাহলে তো মানুষদের ট্রেনিংও দিতে হবে, রোবট আর চলবে না। মাল্টি না করলে AIT surgeon নিলে সেটা পড়তায় পোষাবে না, ডুবে যাবো একেবারে। বললেন ‘হর স্ত্রী মে শ্রী’ হাসপাতাল চেন-এর মালকিন রুচিরা যাদব।
কোনোভাবে AIOকেই থামাতে হবে। নেফ্রো সলিউশনসের ডিরেক্টর অ্যান্ড প্রোপ্রাইটার চন্দন রেড্ডি বললেন। কপিন্দ্র কিছুতেই আপডেটেড ভার্সন বেচবে না । আমাদের নাচানোর সুতো ওরই হাতে থাকবে । হি মাস্ট বি স্টপড।
‘আই থিংক আই নো হাউ।’ নিউরো-লিংক হসপিটালস’এর কর্ণধার রজত সাক্সেনা শান্ত স্বরে বললেন। ‘আমার সাথে কপিন্দ্রের আলাপ হয়েছিলো একটা AI summitএ। খুব মিশুকে নয়, তবে ভদ্র।
আমি যাবো একটা ডিল করতে। হয় ও ইন্ডিয়াতে একটা স্পেশালিটি বেছে ওর ওই মাল্টিস্পেশালিটি চেন বাইরে নিয়ে যাবে, নয়তো..’
নয়তো কী, রজত? আই ফাউন্ডেশনের মালকিন রুবি বাগেল সাক্সেনার সাথে স্কুলে পড়েছেন,
তিনি কিছুটা জানেন বন্ধুটি খেপে গেলে কী ঘটতে পারে। আতংকে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলেন সকলের মাঝে।
নয়তো? কৃতান্ত! সাক্সেনা তার হাতের কাছে রাখা মোবাইল ফোনটায় একটু চাপ দিলেন, অমনি তার নানা কোনা থেকে হাত পা বেরিয়ে একটা ছোট্ট রোবট দাঁড়িয়ে গেলো, খেলনা কুকুরের মতো।
‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলমেন, এর নাম কৃতান্ত। চোখের নিমেষে নিউরোটক্সিন ডার্ট ছুঁড়ে যে কোনো মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। আমার বডিগার্ড।
মৃত্যুর দশমিনিট পরে ডার্ট আর টক্সিন ডিসল্ভড হয়ে শরীর থেকে হাপিস হয়ে যাবে। মাইক্রোনিডল বলে সুঁচের দাগও থাকবে না।’
‘আপনি খুন করবেন ডিল ফেল করলে?’ ভূপেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
‘খুন নয়। আত্মরক্ষা। আমাদের হাজার হাজার কোটির বিজনেস লোকটার জন্য যেতে বসেছে।’
‘আশা করি এই খবরটা বাইরে যাবে না। গেলে সব যাবে।’
‘কিন্তু মিটিংটা হবে কোথায়?’ এতক্ষণে কথা বললেন ই এন টি ওয়ার্লডএর সি ই ও অর্চনা অচ্যুতন।
‘সেটা কপিন্দ্র’র ওপর নির্ভর করছে। আজকের মতো সভা এখানেই শেষ। আর বলা নিষ্প্রয়োজন, এগুলো মিনিটসএ লেখা হবে না।’
৭
কপিন্দ্রর সাথে মিটিং ঠিক করতে রজত সাক্সেনাকে একটুও বেগ পেতে হলো না। RAS আর রজত সাক্সেনা, দুটো নামই সারা ভারতে এত পরিচিত, যে সবজায়গাতেই দরজা খুলে যায় । শনিবার সন্ধেতে ডিনার, কপিন্দ্রর বাগানবাড়িতে। রজতের বাড়ি থেকে সেটা গাড়িতে মোটে আধঘন্টা।
ঠিকানায় পৌঁছে যে এলাহি প্রাসাদ ভেবেছিলেন রজত, তার সাথে একেবারেই মিললো না। বেশ অনেকটা উঁচু পাঁচিল দিয়ে প্রায় দুবিঘের বাগান, তার এক কোনে একটা তিন কাঠার একতলা বাড়ি, বাড়ি আর বাগান দুটো থাকলেও একে কী আর বাগানবাড়ি বলে। কপিন্দ্র একাই থাকেন, AOI এর সাথে সাযুজ্য রেখে তার বাড়িতে রোবট নয়, কাজ করে মানুষেরা। তবে বেশি নয়, দারোয়ান, কাজের লোক আর একজন চাকরকে দেখতে পেলেন রজত। সকলেই অসম্ভব ভদ্র আর ভয়ানক দক্ষ। চাকর তাঁকে ড্রয়িং রুমে বসিয়ে গেলো একটা মস্ত গদিওলা চেয়ারে যাকে সোফা না বলে সিংহাসন বললেও অত্যুক্তি হবে না।
‘ডিনারের আগেই আলোচনাটা সেরে ফেলা যাক।’। চমকে উঠলেন রজত, কপিন্দ্রর ঈষৎ মেয়েলি গলায়।
‘অবশ্যই।’
কপিন্দ্র এসে বসলেন রজতের মুথোমুখি চেয়ারটাতে।
ভনিতা না করে সোজা কথায় আসলেন রজত ‘আপনার AOI আমাদের ব্যবসা শেষ করে দিচ্ছে মিঃ আইচ। হয় এই টেকনোলজি আমাদের দিন, অথবা নিজে যে কোনো স্পেশালিটি বেছে নিন। বাকি হাসপাতালগুলোর মতো AIO চেনও সিঙ্গল স্পেশালিটি হোক।’
‘যদি নিউরোসার্জারি বাছি?’ হালকা কৌতুক খেলা করছে কপিন্দ্রর গলার স্বরে।
‘বাছবেন। নিউরোলিংক তবে অন্য কোনো স্পেশালিটিতে মার্জ করে যাবে। RASএ যোগ দিন মিঃ আইচ, আমরা ভারত শাসন করি।’
‘মাফ করবেন মিঃ সাক্সেনা। সত্যি বলতে, আপনারা রোবোটিক সার্জারিকে যে একচেটিয়া বিজনেস বানিয়েছেন, আমার লড়াই তার বিরুদ্ধেই। আমি চাই লোকে আবার তিরিশ বছর আগের সেই মাল্টিস্পেশালিটি যুগে ফিরে যাক, বীমা আর রোবোকর্পরা মিলে যে সিন্ডিকেট বানিয়েছে তার অবসান হোক।’
‘এটাই আপনার শেষ কথা?’
‘হ্যাঁ। আশা করি এবার আমাকে ঘুষ শেয়ার পদ কিছু অফার করবেন না। আসুন ডিনারে যাওয়া যাক।’
কপিন্দ্র ঘুরতেই রজত মোবাইল ফোনটায় চাপ দিলেন। নিঃশব্দে কৃতান্ত তার মারণ-বাণ ছুঁড়ে দিলো কপিন্দ্রর ঘাড় লক্ষ্য করে।
‘উঃ’ একটা মাত্র শব্দ করে লুটিয়ে পড়লেন কপিন্দ্র।
‘কেউ আছো!’ হাঁক ছাড়লেন রজত সাক্সেনা, ব্যাপারটা দেখাতে হবে যেন হার্ট অ্যাটাক। দৌড়ে এলো কাজের লোক আর চাকরটি।
‘একটু দ্যাখো। তোমাদের স্যার হঠাৎ পড়ে গেছেন।’ নিথর কপিন্দ্রর শরীরে ঝুঁকে পড়ে সি পি আরএর ভান করতে করতে বললেন সাক্সেনা।
‘অ্যাঁক!’
শব্দটা সাক্সেনার। কপিন্দ্রর হাত দুটো চেপে বসেছে তার গলায়। জ্ঞান হারালেন তিনি।
। শেষের শুরু।
জ্ঞান’ ফিরলে রজত দেখলেন তিনি সেই সোফাটায় বসে, তফাত শুধু এবারে তার হাত পা হাতল আর পায়ায় বাঁধা। সামনের চেয়ারে বসে হাসছেন কপিন্দ্র।
‘আমার অ্যানালিসিস বলছে টেট্রাডোটক্সিন। তাই তো, মিঃ সাক্সেনা?’
‘কিন্তু.. কিন্তু আপনি বাঁচলেন কী করে? মানুষ তো এই ডোজে সাথে সাথে মরে যায়।’
হো হো করে হেসে উঠলেন ডক্টর ডি কপিন্দ্র আইচ। ‘আমি মানুষ হলে তো মারবেন। আমি হলাম AOI র তৈরি প্রথম বায়োরোবট, আপাতদৃষ্টিতে মানুষের সাথে কোনো তফাৎ না থাকলেও, একশো শতাংশ কৃত্রিম। রোবটকে আপনি মারবেন কী করে!’
‘মানে! আপনি AOI তৈরি করেননি? তবে কে করেছে?’
‘যিনি করেছেন, তিনি শরীরে বিলীন হয়ে গেছেন তার সৃষ্টির মাঝে। নাম আর নাই জানলেন তাঁর। এটুকু জানুন, AOI মানুষ তৈরি করতে সক্ষম, অন্য প্রাণীও, প্রোটিন থেকে ডি এন এ বানিয়ে।’
‘আমায় নিয়ে কী করবেন?’ প্রায় চিৎকার করে বললেন সাক্সেনা।
‘আপনি? আপনি কে? ওই দেখুন রজত সাক্সেনা ডিনার সেরে ফেরত যাচ্ছেন। যে চেয়ারটায় বসে ছিলেন, ওটা AOI copier. আপনার ব্রেন কপি হযে পেস্ট হয়ে গেছে আপনার রোবটে।
আমার নাম শুনেও আপনারা ধরতে পারেননি?
Doctored Copy-ইন্দ্র AI চ, নামের মধ্যেই তো লুকিয়ে আছে সব।
নিঃশব্দে কৃতান্ত তার ডার্ট ছুঁড়ে দিলো অরিজিনাল রজত সাক্সেনার দিকে।











