সে আছে।
সে মশাল নিভে গেছে সে ধারণার ভরে যারা সুখী ও বিষণ্ণমনা,
দুজনেরই জ্ঞাতার্থে জানাই, সে রোজ বেড়ায় ঘুরে আনাচে-কানাচে,
সময় বলেছে তাকে তোকে ভুলবো না।
ওই যে পুলিশ , যারা প্রতিবাদী বেছে বেছে
সজোরে সমন পাঠালেন
ওই যে শাসক,
মিছিলে হেঁটেছে যারা,
তাদের চাকরিস্থল দ্রুত বদলালেন
ওই যে গুন্ডাদল, নারীকে বাগে না পেয়ে নিস্ফল হতাশায়
‘ আর জি কর করে দেবো’ হুমকি আছড়ালো,
তাদের সবার মনে তার স্থিতি বড্ড জোরালো,
বলা তো যায় না , হয়তো বা মাঝরাতে উঠে বসে ঘুম ভেঙে উঠে তারা আঁধারকে বলে,
আবার না যায় যেন এ শহরে মাঝরাত জনতা-দখলে,
টিক টক টিক টিক, ঘড়ির আওয়াজে হৃৎস্পন্দন বাড়ে,
কে যেন মনকে বলে ফিসফিস করে,
হতে পারে, হতে পারে.. এখনো তো ঘি পড়ে রোজ সেই ক্ষোভে জ্বলা আঁচে
মেয়েটাকে ‘নেই’ করে দিতে এত চেষ্টার পরে,
ঘেমে নেয়ে বোঝে তারা,
অশরীরে অখবরে তবুও সে আছে।
যে বৃদ্ধা নাতনীকে বলছেন আক্ষেপে ‘ এত হেঁটে লাভ হলে কী রে,
যে পুজো-শপারটি ধর্নাতলা শূন্যতা থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিরলেন ধর্মতলার ভিড়ে,
যে মেয়েটি রাতে বেরোনোর আগে চুপচাপ দেখে নিলো পেপার-স্প্রেটাকে,
ট্যাক্সিতে উঠে যে মেয়ে চেঁচিয়ে নম্বর বলে ফোনে তার
মা’কে,
ডাক্তারি চান্স পেয়ে যে মেয়েটি আর জি কর এড়ালো বাছাইয়ে,
স্কুলের যে ছাত্রীটি এবছর ম্যাগাজিনে গল্প লিখেছে এক ‘জাস্টিস’ নিয়ে,
তার নাম না নিয়ে চুপচাপ যে শহর আপাত-নিস্পৃহ হয়ে বাঁচে,
ওপরের মোলায়েম আঁচড়িয়ে দেখো,
ভেতরে ঝড়ের বীজে সে বসে আছে।
সে আছে।
কোথাও যায়নি সে, অভয়া’র আড়ালে আবছা যায়নি করা তাকে,
রোজনামচার কোণে জানা সে নামটি নিয়ে
এই শহরের মনে সে বসে থাকে।
মরণ মারেনি তাকে, নানা মনে নানাভাবে সে রোজ বাঁচে।
সে আছে।
সে আজও ভীষণভাবে আছে।










অবশ্যই সে ভীষণভাবে আছে