জেমিমার মা হওয়া সহজ না এদেশে।
দুহাজার সাল গেছে ছেলে ভালোবেসে,
পুত্রবতী ভব বলে আশিস পেয়েছে সব সতী,
কন্যাবতী হও বলে বর কি শুনেছো?
মেয়ে মানে একসাল ক্ষতি, যেরকম স্কুলে হয়,
ফেল করে লালদাগ দেওয়া,
খুব টোকো হয়ে গেছে সবুরের মেওয়া,
পরের বছর ফের দিতে হবে পরীক্ষা
নিদারুণ জোস-এ,
তারপরও ফেল হলে মেয়ে হওয়া দোষে,
স্বভাবত শুধরিয়ে নেওয়া চাই ভুল …
চুপচাপ বদলিয়ে দেওয়া হয় স্কুল।
বংশধর বলে কথা তো শুনেছো,
বংশধরী বলে কিছু আছে অভিধানে?
সহজ না জেমিমাকে বড় করা দেশে,
কম বেশি সব মা-ই জানে।
হরমনপ্রীতের বাবা হওয়া কঠিন ভীষণ।
অগ্রাহ্য করতে হয় ঘরের বারণ..
ওফফ.. কেন রোদে খেলতে পাঠাও অকারণ,
পুতুল না দিয়ে ওকে ব্যাট বল কিনে দিলে কেন,
কিছু ঘটে গেলে ফের কেঁদে ভাসিও না যেন,
খেলতে পাঠাচ্ছো মেয়েকে আগে পিছে না ভেবে,
বলি ওর বিয়ে দিতে হবে সেটা রেখেছো হিসেবে?
যত মেয়ে খেলা খেলা করে,
নিয়মের ফাঁস চেপে ধরে,
কীরকম বাপ শুনি, মেয়েটা কাটাচ্ছে রাত ট্রেনিং- শিবিরে,
কখন কোথায় যায় , কখনই বা বাড়ি আসে ফিরে,
একটুকু বকাঝকা নেই,
উল্টে দিচ্ছো কিনে নামী দামী ব্যাট প্যাড গ্লাভ,
আরে ধুর, ও
তো মেয়ে, ক্রিকেট খেলতে দিয়ে কিচ্ছু না লাভ,
শেখাও ঘরের কাজ রান্না বান্না ইত্যাদি,
আরে বাবা হয়ে গেলে সাদি,
তখন তো শুধু সংসার..
এত উপদেশ ঠেলে
হরমনপ্রীতের বাবা হওয়া ভয়ানক কঠিন ব্যাপার।
দীপ্তি, আমনজিৎ, রিচা ,প্রতীকা, শেফালি, স্মৃতি..
প্রতিটি পরিবারে নিশ্চিতই ভিন্ন পরিস্থিতি
তবে একটা ব্যাপারে এক এরা প্রত্যেকে,
ওদের তৈরি হওয়া
জন্মের অনেক অনেক আগে থেকে..
ওদেরকে ভ্রুণে করা হয়নি খুন করে লিঙ্গনির্ধারণ,
মা বাবা দিয়েছেন যেতে যেদিকে মেয়েদের যাওয়াটা বারণ,
‘ ছেলে হলে ভালো হতো’ ,
কখনো হয়নি কারো ঠোঁটে উচ্চারণ।
এই ছেলে ছেলে করা দেশে
এরকম মা বাবা মেলে বা ক’জন?










