মার্টিন নিয়েমুলারের বলা এই কথাগুলো বহুবার চর্চিত। তাও আবার বলা দরকার।
“যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিলো,
আমি কোন কথা বলিনি,
কারণ আমি কমিউনিস্ট নই।
তারপর যখন ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকগুলোকে ধরে নিয়ে গেল,
আমি নীরব ছিলাম,কারণ আমি শ্রমিক নই।
তারপর ওরা যখন ফিরে এলো ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে,
আমি তখনও চুপ করে ছিলাম,কারণ আমি ইহুদি নই।
আবারও আসলো ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে,
আমি টু শব্দটিও উচ্চারণ করিনি,কারণ আমি ক্যাথলিক নই।
শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,
আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না,
কারণ, কথা বলার মত তখন আর
কেউ বেঁচে ছিল না”
প্যাস্টর মূলার নাৎসি পার্টির সদস্য ছিলেন না ঠিকই কিন্তু ১৯৩৩ সালে হিটলারকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ততদিনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইউ বোটের কমান্ডার থেকে তিনি হয়ে গেছেন লুথেরান প্রোস্টেস্টান্ট পাদ্রী। হিটলারের প্রতি মুগ্ধতা বেশি দিন স্থায়ী হয় নি। ইহুদি থেকে কনভার্টেড খ্রিস্টানদের প্রতি নাৎসি পার্টির নীতির প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। ফলস্বরূপ গেসটাপোর গ্রেফতার আর প্রোটেক্টিভ কাস্টডির নামে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে চালান। নীতির দোদুল্যমানতায় ভোগা নিয়েমুলারের শিক্ষা তখনো বাকি ছিল। বন্দী দশা থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ইউ বোট চালানোর কাজ চাইলেন এবং প্রত্যাখ্যাত হলেন। এইবার চৈতন্য উদয় হলো।
দৈবাৎ এসএস-দের হাত থেকে প্রথমে রেগুলার জার্মান আর্মির হাতে ও পরে মিত্রশক্তির হাতে পরে নিয়েমুলারের জীবন বাঁচে। বাকি জীবনটা নানান কাজে কাটান। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে পারমানবিক নিরস্ত্রিকরণ আন্দোলন, অনেক কিছুতেই নেতৃত্ব দেন।
জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে একটি বক্তৃতায় তিনি নিজের অতীতের ভুল উপলব্ধি করে যা বলেছিলেন সেটাই পরে অসম্ভব জনপ্রিয় একটা কবিতার চেহারা নেয় যেটা দিয়ে এই লেখাটা শুরু করেছিলাম। কারণ একটাই। কোন সুদূর ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতিকে ট্রাম্প প্রশাসন তুলে নিয়ে গেল স্রেফ দাদাগিরি দেখিয়ে তার জন্য পশ্চিম বাংলার মাটিতে আপনি আপনি প্রতিবাদ করতে যাবো কেন এই প্রশ্ন যারা তুলছে তাদের জন্যই নিয়েমুলারের ওই কবিতা।
সময় থাকতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অভ্যাস করি আসুন আমরা সবাই মিলে। ভেনেজুয়েলা একটা স্বাধীন দেশ, মাদুরো তার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। তাঁকে কোনো বদনামের অছিলায় অন্য একটা দেশের প্রেসিডেন্ট তুলে নিয়ে যেতে পারে? সে কি সারা পৃথিবীর অভিভাবক? হতে পারে সে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সামরিক ক্ষমতাশালী দেশের প্রেসিডেন্ট, হতে পারে মাদুরো খুব খারাপ লোক, কিন্তু মরাল পুলিশগিরি করার অধিকার কে ট্রাম্পকে দিয়েছে? আজ মাদুরোকে তুলে নিয়ে গেছে, কাল সেই ক্ষমতায় নেশায় পাগলের নির্দেশে আমার আপনার রাষ্ট্রপতিকে যে তুলে নিয়ে যাবে না এর কোনো গ্যারান্টি আছে? তাই আসুন, প্রতিবাদ করি। কারণ আজ যদি চুপ থাকি এই বলে যে মাদুরো কমিউনিস্ট/ সোসালিষ্ট ছিল, তাহলে যেদিন আমাকে আপনাকে ধরে নিয়ে যাবে সেদিন প্রতিবাদ করার জন্য কেউ থাকবে না। তাই দেরি না করে আসুন আজই প্রতিবাদ করি।











By the way,কোনো ভুল-ই ভুল নয়। ঘটনা হচ্ছে একটা না হলে আরেকটা হতো না। দোদুল্যমানতা নীতির চৈতন্য ইত্যাদির রসাতলে মুগ্ধতা বিষয় টা ভীষন সাময়িক আর তাৎক্ষনিক বটেই।সেটা ধরে রাখার দায়-টাও উভয়েরই । এখানে হিটলারের স্টান্ট নেগেটিভিটির নায়কোচিত আবহ বা এটমসস্ফিয়ার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য স্বভাব সব মিলে ভেল্কি কে অনেকেই আদর্শ ফোলোলিংএর একটা লক্ষ্য করে নেওয়ার যোশে ভোগে।।
সব কিছু ঠিকঠাক হলে তো পৃথিবীর সব কাজ ফুরিয়েই যেতো। ইতিহাস তৈরিই হতো না।
দেরি হলেও মজন্তালি অনেক কিছু পাওয়া যায় ফসল তোলার যেমন এই নিবন্ধ টির নায়ক মূলার।