গত ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, জলপাইগুড়ি সমাজ পাড়া রবীন্দ্রভবন, সহযোদ্ধা নাদিরা আজাদ নামাঙ্কিত মঞ্চে, অভয়া’র জন্মদিনে, জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চের ব্যবস্থাপনায় উত্তরবঙ্গ ব্যাপী এক প্রতিবাদী কনভেনশন কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। জলপাইগুড়িতে এই প্রতিবাদী কনভেনশন অভয়া মঞ্চের অন্যতম কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবেই পালিত হয়।
এই কনভেনশনে শিলিগুড়ি, কোচবিহার, মাথাভাঙ্গা, জটেশ্বর, মালবাজার, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, হলদিবাড়ী বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদী মানুষ এই কনভেনশনে উপস্থিত হন। রবীন্দ্রভবনের নিচতলা ও উপরতলায় কানায় কানায় প্রতিবাদী মানুষের ভীড় উপচে পড়ে।
কনভেনশন তিনটি পর্যায়ে সংগঠিত হয়। প্রথম পর্যায়ে জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চ এবং অভয়া মঞ্চের রাজ্যের মূখ্য সহযোদ্ধারা সাংগঠনিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে, লিঙ্গবৈষম্যের অবসান ও মানবসমাজ রাষ্ট্র ও গণ আন্দোলন শীর্ষক আলোচনা সভা এবং তৃতীয় পর্যায়ে উপস্থিত বিভিন্ন স্থানের প্রতিনিধিদের আলোচনা এবং শ্রোতৃমন্ডলীর সাথে পারস্পরিক আলোচনা সংগঠিত হয়।

সভাপতির স্বাগত ভাষণের পর জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চের পক্ষে ডাঃ সুদীপন মিত্র ও অভয়া মঞ্চের পক্ষে শ্রীমতি গোপা মুখার্জী বক্তব্য রাখেন। ডাঃ মিত্র জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সহ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। শ্রীমতি মুখার্জী অভয়া মঞ্চের ১০ দফা দাবী সনদ বিস্তৃত ভাবে ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখেন।
পরবর্তীতে আলোচনা সভায়, “লিঙ্গবৈষম্যের অবসান” শীর্ষক বিষয়ে বলেন তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শ্রীমতি মোনালিসা মাইতি। তিনি অভয়া’র করুণ পরিণতির ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যে কিভাবে সম্পৃক্ত তা অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাবে উপস্থাপন করেন। “মানবসমাজ রাষ্ট্র ও গণ আন্দোলন” শীর্ষক আলোচনায় প্রথমে আলোচক ছিলেন, জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের অন্যতম কর্ণধার ডাঃ আসফাকুল্লা নাইয়া। আলোচ্য বিষয়ের সাথে সাথে তিনি অভয়া মামলার বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ও উল্লেখ করেন। এরপর একই বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা উপস্থাপন করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক শ্রী আবদুল কাফি। অধ্যাপক অসাধারণ ভাবে অভয়া আন্দোলনের সাথে আলোচ্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা বুঝিয়ে উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্বুদ্ধ করে তোলেন।

পারস্পরিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগে মঞ্চে প্রতিবাদী সঙ্গীত পরিবেশন করেন সহযোদ্ধা শ্রীমতি রূপকথা। তার কন্ঠের গান শ্রোতৃমন্ডলীর হ্নদয় স্পর্শ করে।
পারস্পরিক আলোচনায় ডাঃ পূণ্যব্রত গুণ, ডাঃ উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীমতি প্রগতি সেনগুপ্ত, শ্রীমতি নীপা মুখার্জী, ডাঃ সুদক্ষিণা দাস, অরিন্দম দাশ, প্রনবেন্দু রায় সহ আরও নেতৃস্থানীয় সহযোদ্ধা অংশ নেন। দর্শকদের মধ্যে থেকে অনেকেই এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিষয়টিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
এই কনভেনশনে জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চের বিগত বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি সম্বলিত পোস্টার প্রদশর্নী উপস্থিত সকলে আগ্ৰহ সহকারে দেখেন। প্রতিবাদী বুক স্টলে আগ্ৰহীদের ভিড় ছিলো দেখার মতো।
এই কনভেনশনে জঁয়গার নির্যাতিতার মা, এবং ৺নাদিরা আজাদের বাবা- মা উপস্থিত ছিলেন । উপস্থিত সমস্ত দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” শ্লোগানে প্রেক্ষাগৃহে সকলে প্রতিবাদের শপথ গ্ৰহণ করে, এক আবেগঘন মুহুর্তের সৃষ্টি হয়ে সকলের মন ছূঁয়ে যায়।
প্রায় চার ঘন্টা ধরে ভিড়ে ঠাসা কনভেনশনের শেষ লগ্নে জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চের তিন আহ্বায়ক শ্রীমতি দেবপ্রিয়া সেন, শ্রী শুভঙ্কর সিনহা ও শ্রীমতি দেবপ্রিয়া সেন মঞ্চে এসে, আগামী নয় মার্চ জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চ থেকে বারো জন দিল্লি যাবেন তা ঘোষণা করেন এবং জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চের পক্ষ থেকে পিছিয়ে থাকা ছাত্র- ছাত্রীদের নিয়ে যে “অভয়া পাঠশালা” চলছে তা উল্লেখসহ, বিগত বন্যার সময় মঞ্চের ত্রাণ কাজের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এরপর সম্মিলিত উদাত্ত শ্লোগানের মধ্য দিয়ে কনভেনশন শেষ হয়।
কনভেনশন অত্যন্ত সুচারু রূপে সঞ্চালনা করেন শ্রী গৌতম গুহ রায়, শ্রী সুকল্যাণ ভট্টাচার্য্য ও শ্রীমতি ডালিয়া চৌধুরী।
সার্বিকভাবে একটি কথাই বলা যায় সাম্প্রতিক সময়ে এত জনাকীর্ণ কনভেনশন জলপাইগুড়ি শহরে অনুষ্ঠিত হয় নি।
(রিপোর্টিং: সুকল্যাণ ভট্টাচার্য্য, সংগঠক, জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চ)











